মানবিকতায় উদ্বুদ্ধ হয়ে ঘুরে দাঁড়াক আফগানিস্তান

মানবিকতায় উদ্বুদ্ধ হয়ে ঘুরে দাঁড়াক আফগানিস্তান

মোনায়েম সরকার: দক্ষিণ এশিয়ার একটি প্রাচীন জনপদের নাম আফগানিস্তান। বিভিন্ন জাতি বিভিন্ন সময়ে এদেশে শাসন কার্য প্রতিষ্ঠা করলেও শেষ পর্যন্ত আফগানরাই এদেশের রক্ষকের ভমিকায় অবতীর্ণ হন। আফগানিস্তান মূলত একটি রুক্ষভমি। এর অধিকাংশ জায়গাই দখল করে আছে সুউচ্চ পাহাড় ও মরুভমি। এখানকার ভপ্রকৃতি ও আবহাওয়া দুটোই বৈচিত্র্যপূর্ণ। গ্রীষ্মে এখানে গরম পড়ে, আবার শীতের সময় এখানকার পরিবেশ তীব্র শীতে আড়ষ্ট হয়ে যায়। পাকিস্তান, ইরান, তুর্কেমেনিস্তান, উজবেকিস্তান, তাজিকিস্তান, চীনের সঙ্গে আফগানিস্তানের সীমানা সংযুক্ত। বিভিন্ন প্রতœতাত্তি¡ক নিদর্শন অনুসন্ধান করে জানা যায়, আফগানিস্তানে ৫০ হাজার বছর আগে থেকেই মানবজাতির বসতি শুরু হয়। আফগানিস্তানে অনেক রাজাই সাম্রাজ্য বিস্তারের চেষ্টা করেছেন। বিভিন্ন রাজবংশের পদানত হয়েছে, গিরিনন্দিনী আফগানিস্তান, কিন্তু কোনো বহিরাগত রাজাই এখানে বেশি দিন টিকতে পারেননি। গ্রেকো-বারট্রিয়ান, কুশান, হেফথালিটিস, কাবুলশাহী, সাফারি, সামানি, গজনবী, ঘুরি, খিলজি, কারতি, মুঘল, হুতাক ও দুররানি, সাম্রাজ্যের কথা ইতিহাসে বিস্তৃতিভাবে উল্লেখ থাকলেও আরো অনেক বিশ্ববিখ্যাত নৃপতিও এই রাজ্যে বারবার আক্রমণ করেছেন। আলেকজান্ডার দি গ্রেট, মঙ্গোল সেনাপতি চেঙ্গিস খান এবং নৃশংস তৈমুর লং-সহ অনেকেই আফগানিস্তানিদের রক্তে হোলি খেলেছেন। প্রত্যেকেই আফগান সন্তানদের প্রতিরোধের মুখে সাম্রাজ্য গুটাতে বাধ্য হয়েছেন।

১৭৪৭ সালে আহমদ শাহ আব্দালি যিনি দুররাণি সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, তিনিই আফগানিস্তানকে সুপ্রতিষ্ঠিত করেন। এর পরও আফগানিস্তান ব্রিটিশদের কবলে পড়ে দীর্ঘদিন ঔপনিবেশিক শাসন-শোষণে নিষ্পেষিত হয়। ১৯১৯ সালে আফগানিস্তান যুক্তরাজ্যের কাছ থেকে সম্পূর্ণ স্বাধীনতা লাভ করে। বিংশ শতাব্দীর শুরু থেকেই পশ্চিমা রাষ্ট্রের লোলুপ দৃষ্টিতে পড়ে আফগানিস্তান। ১৯৭০ সালের দিকে ব্রিটিশ-রুশ দ্বন্দ্বের সূত্রপাত ঘটে আফগানিস্তানে। এরপর থেকে একের পর এক পরাশক্তি দেশটিকে ছিন্ন-ভিন্ন করার অপচেষ্টা চালায়। সবশেষে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদীদের কবলে পড়ে মৃত্যু আর মৌলবাদীদের অভয়ারণ্য হয়ে ওঠে দেশটি। আফগানিস্তান ভৌগোলিক কারণেই একটি গুরুত্বপূর্ণ জনপদ। এই জনপদের যেকোনো স্খলনই দক্ষিণ এশিয়াবাসীর জন্য হুমকিস্বরূপ। একটি বৃহৎ আয়তনের রাষ্ট্র হিসেবে আফগানিস্তান অনেকগুলো প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সঙ্গেই গভীরভাবে যুক্ত। ফলে আফগানিস্তানের যেকোনো সংকটেই তার প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর উদ্বিগ্ন হয়ে ওঠা স্বাভাবিক।

দুই দশকের বেশি সময় ধরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আফগানিস্তান দখল করে তাদের উপনিবেশে পরিণত করে। আজ আফগানিস্তানে যে তালেবানেরা রাষ্ট্রক্ষমতায় যাওয়ার জন্য আফগানিস্তানের সরকারি বাহিনীর সঙ্গে লড়াই করছে আমেরিকাই এই তালেবান সৃষ্টি করার জন্য অঢেল অর্থ বিনিয়োগ করে। ১৯৯৬ সালে তালেবান কাবুল দখল করে। এদের পেছনে অর্থ লগ্নি করে আমেরিকা। সঙ্গে থাকে পাকিস্তান, সৌদি আরবসহ বেশ কয়েকটি মুসলিম দেশ। ওসামা-বিন-লাদেনের মতো কুখ্যাত মৌলবাদী নেতা আফগানিস্তানে এসে আশ্রয় নিলে আমেরিকা লাদেনকে হত্যার উদ্দেশ্যে আফগানিস্তান আক্রমণ করে। সাম্রাজ্যবাদী আমেরিকা এই কথা বলে বিশ্ববাসীকে ধোঁকা দেয় যে, আলকায়েদার প্রতিষ্ঠাতা লাদেন বিশ্ববাসীর জন্য মারাত্মক হুমকি। আফগানিস্তানের তালেবানেরা যেহেতু লাদেনকে আশ্রয়-প্রশ্রয় দিচ্ছে, সুতরাং আফগানিস্তানে তারা হামলা চালাতে পারে। তাছাড়া সে সময় আল-কায়েদা স্বীকৃত ‘টুইন টাওয়ার হামলা’ এমন এক পরিস্থিতির সৃষ্টি করে যার ফলে বিশ্ববাসী হতবাক হয়ে যায়। এমন পরিস্থিতিতে কেউ কিছু বুঝে উঠার আগেই সাদ্দাম হোসেনের ইরাক মার্কিনি আগ্রাসনে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। লাদেনকে শায়েস্তা করার নামে খনিজ সম্পদ বিশেষ করে তেল-গ্যাসে ভরপুর আফগানিস্তানে হামলা চালিয়ে সেখানে মার্কিন ঘাঁটি গড়ে তোলার পাঁয়তারা করে আমেরিকা। এসব ঘটনার পেছনে ইতিহাস অনুসন্ধান করলে দেখা যাবে, সমস্যার মূলে রয়েছে সুপার পাওয়ার আমেরিকার ‘নীলনকশা’। আল-কায়েদার মতো মৌলবাদী জঙ্গি সংগঠন আমেরিকার প্রত্যক্ষ মদদেই সৃষ্টি হয়েছিল। এমন কি তালেবানদের সৃষ্টির পেছনেও ছিল আমেরিকার দীর্ঘদিনের চক্রান্ত। নিয়মতান্ত্রিক সরকারের বিরুদ্ধে উস্কে দেওয়ার জন্য মোল্লা ওমরের নেতৃত্বে তালেবানের উত্থান ঘটিয়ে আমেরিকা আফগানিস্তানের শাসনভার গ্রহণে তৎপর হয়ে ওঠে। আমেরিকা বুঝতে পারছিল, ক্রমে ক্রমেই এশিয়া শক্তিশালী হয়ে উঠবে। এশিয়ার অগ্রযাত্রা ব্যাহত করতে, এখানে এমন একটি বেছে নেওয়া দরকার, যাদের কোনো আধুনিক শিক্ষা থাকবে না, যাদের মধ্যে গণতান্ত্রিক শৃঙ্খলা থাকবে না, এমনকি পৃথিবীর কেউই তাদের পক্ষাবলম্বন করবে না। অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী চিন্তা-ভাবনা নিয়েই আমেরিকা আফগানিস্তান দখল করার সিদ্ধান্ত নেয়।

সাম্রাজ্যবাদী অমেরিকার মূল টার্গেটই এখন মারণাস্ত্র বিক্রি ও জঙ্গিবাদ সৃষ্টি করে আঞ্চলিক শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বিনষ্টি। এসব কাজ তারা সিরিয়া, মিশর, লিবিয়াসহ বেশ কিছু রাষ্ট্রে খুব ঠাÐা মাথায় করেছে। আফগানিস্তানেও সেই একই কায়দায় তারা এগিয়ে যায়। কিন্তু ইতিহাস এই বলে সাক্ষ্য দেয় যে, পৃথিবীর কোনো রাজনৈতিক সম্পর্কই চিরস্থায়ী নয়। যে তালেবানেরা আমেরিকার পৃষ্ঠপোষকতায় দানবীয় শক্তিতে পরিণত হয়েছে, তারাই এখন রুখে দাঁড়িয়েছে আমেরিকার বিরুদ্ধে। আমেরিকাও বাধ্য হচ্ছে তাদের দখলদার সৈন্য বাহিনী প্রত্যাবর্তন করাতে।

উল্লেখ্য, আমেরিকা নিজেই আল-কায়েদা, তালেবান কিংবা আইএস-এর মৌলবাদী ফ্রাংকেনস্টাইন তৈরি করে। এসব মৌলবাদী ফ্রাংকেনস্টাইন আমেরিকার প্রেসক্রিপশনে সুনির্দিষ্ট অঞ্চলে অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি করে, যাতে ওই অঞ্চলের শাসকবর্গ আমেরিকার প্রস্তুতকৃত মারণাস্ত্র ক্রয় করতে বাধ্য হয়। এসব ফ্রাংকেনস্টাইন আবার আমেরিকাই হত্যা করে যখন তার প্রয়োজন শেষ হয়ে যায়। বারাক ওবামা আল-কায়েদার ওসামা বিন লাদেনকে হত্যা করে মৌলবাদ উৎখাতের দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে চেয়েছিলেন, কিন্তু তিনি তা পারেননি। আমরা আশা করি, বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন অস্ত্র বিক্রির এসব অপকৌশল থেকে বেরিয়ে আসবেন এবং সতর্ক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন।

NATO (ন্যাটো)-র মতো শ্বেতহস্তী পোষার এখন আর দরকার আছে বলে মনে হয়। ন্যাটোভুক্ত অনেক সদস্যই এখন তাদের নির্ধারিত চাঁদা দিতে অপারগতা প্রকাশ করছেন। কোনো সামরিক চুক্তিই পৃথিবীর জন্য শুভ নয়। জাতিসংঘ যদি ঠিক মতো তার অর্পিত দায়িত্ব পালন করতে পারত, তাহলে পৃথিবীর অনেক সমস্যাই সহজে সমাধান করা যেত। জাতিসংঘকে কিভাবে আরো কার্যকর করা যায়, সেই বিষয়ে এখন বিশ্ব নেতৃবৃন্দকে আরো জোরালো পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত। বিশ্ব এখন নানামুখী সমস্যার ভেতর দিয়ে যাচ্ছে। করোনা মহামারী, জলবায়ু দুষণ, বায়ুমলে ওজনস্তরের ক্ষতিসাধন, মেরু অঞ্চলের বরফ গলা, দরিদ্র দেশগুলোতে দুর্ভিক্ষসহ নানান সমস্যায় আক্রান্ত পৃথিবীতে আমরা আর কোনো যুদ্ধ কিংবা গৃহযুদ্ধ চাই না। আমরা চাই প্রত্যেকটি মানুষ তার বেঁচে থাকার পূর্ণ অধিকার পাক। 

সাংবিধানিকভাবে আফগানিস্তানে ইসলামি প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত। তবে সেখানে গণতান্ত্রিক ও বাম প্রগতিশীল ধারাও বেগবান। একটা দেশের রাষ্ট্র কাঠামো কেমন হবে তা সেদেশের জনগণই নির্ধারণ করেন। আফগানিস্তানের ভাগ্যও আফগানদের হাতেই ছেড়ে দেওয়া উচিত।

ধর্মীয় মৌলবাদ পৃথিবীর কোথাও কখনো শান্তি আনতে সক্ষম হয়নি। আমরা তথাকথিত ধর্মযুদ্ধ তথা ক্রসেডের কাহিনী পড়েই বুঝতে পারি, তথাকথিত ধর্মযুদ্ধ মৃত্যু আর ধ্বংস ছাড়া পৃথিবীর মানুষের জন্য আর কোনো সুফল বয়ে আনেনি। পৃথিবীতে বর্তমানে প্রায় ৪২০০টির মতো ধর্ম প্রচলিত আছে। এত এত ধর্মের ছায়াতলে থেকেও এক মানুষ অধার্মিক আচরণ করে অন্য মানুষের অধিকার কেড়ে নিচ্ছে। ধর্মের বাণী আজ মানুষকে শান্ত রাখতে পারছে না, দিকে দিকে কেবলি আজ ধর্মের নৃশংতাই দেখছি। ভারত-পাকিস্তান-চীন-আফ্রিকা-মিয়ানমার এমনকি ইউরোপের অনেক দেশেই আজ মাথা চাড়া দিয়ে উঠছে ধর্মীয় মৌলবাদ। ধর্মীয় উগ্র মৌলবাদকে সাম্রাজ্যবাদী শক্তি পুঁজি বিকাশের হাতিয়ার হিসেবে গ্রহণ করেছে। যতদিন না মানুষ এসব কথা বুঝতে পারবে, ততদিন কিছুতেই ধর্মীয় সংঘাত এড়িয়ে চলা মানুষের পক্ষে সম্ভব নয়। আফগানিস্তান এই সেদিনও সুখ-শান্তি আর শিল্প-সাহিত্যে মর্যাদার উচ্চ শিখরে আসীন ছিল। বিশ্ববিখ্যাত মহাকবি ফেরদৌসী, ভারততত্ত¡বিদ ও বিজ্ঞানমনস্ক পণ্ডিত আলবেরুণী যেই আফগানিস্তানে নিশ্চিতে জ্ঞানচর্চা করত সেই আফগানিস্তান থেকে এখন অধ্যাপক, ডাক্তার, প্রকৌশলী, শিল্পী-সাহিত্যিক-কবি প্রাণ ভয়ে অন্যত্র পালিয়ে যাচ্ছেন। এর চেয়ে বেদনার কথা আর কি হতে পারে। কাবুল, কান্দাহারের রাজসিক ঐতিহ্য আজো বিশ্ববাসীর অন্তরভ‚মি দখল করে আছে। আজ কান্দাহারের পথে পথে মৃত্যুর হাতছানি, কাবুল তার আত্মসম্মান বিসর্জনের অপেক্ষায় প্রহর গুনছে। হেরাত অনেক আগেই হারিয়ে ফেলেছে তার প্রাচীন গৌরব। এসব কথা যখন পত্র-পত্রিকায় পড়ি, তখন ব্যথিত না হয়ে পারি না।

বিশ্ব এখন একটা মানবিক-আর্থসামাজিক সমাজব্যবস্থা কামনা করছে। ধর্মভিত্তিক রাষ্ট্র কখনোই সব মানুষের সমান অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে পারে না। এ জন্য প্রয়োজন ধর্মনিরপেক্ষ-চেতনার বিকাশ। তালেবানরা খুব শীঘ্রই আফগান সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করে আবার তাদের হারানো ক্ষমতা উদ্ধার করবে বলেই বিভিন্ন গণমাধ্যম সংবাদ পরিবেশন করছে। এটাই যদি সত্যি হয়, তাহলে একটা প্রশ্ন সঙ্গত কারণেই উত্থাপিত হয় যেই তালেবানদের শায়েস্তা করাই মার্কিনিদের প্রধান উদ্দেশ্য ছিল, দীর্ঘ বিশ বছর সেই তালেবানদের কেন আমেরিকা দমন করতে পারল না। তাহলে কি আমেরিকা মৌলবাদ দমনে ব্যর্থ? এই প্রশ্নের জবাব এক কথায় দেওয়া যাবে না। ঔপনিবেশিক শাসন কাঠামোর যেসব সূত্র আবিষ্কৃত হয়েছে, তাতে দেখা গেছে উপনিবেশবাদীরা কখনোই তাদের পরিত্যক্ত অঞ্চলে শান্তি-শৃঙ্খলা সংহত করে যায় না।

ব্রিটিশরা যখন ভারতকে দ্বিখণ্ডিত করে চলে যায়, তখনও তারা ভারতীয় উপমহাদেশে জাতিগত সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা বাঁধিয়ে ভারতভ‚মি ত্যাগ করে। ব্রিটিশদের লাগানো সেই আগুনে এখনও ভারত-পাকিস্তান জ্বলে পুড়ে শেষ হয়ে যাচ্ছে। বিশেষত জম্বু-কাশ্মীর অঞ্চলকে কেন্দ্র করে ভারত-পাকিস্তানের সংঘর্ষ এখনো নিয়মিত ঘটনা।

আফগানিস্তানকে বুঝতে হবে, তাদের দেশে তাদেরকেই সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে হবে। এ জন্য আফগানদের আধুনিক শিক্ষা গ্রহণ ও নারীর ক্ষমতায়ন বৃদ্ধি করে গণতান্ত্রিক ভাবধারায় ফিরে যেতে হবে। প্রতিষ্ঠা করতে হবে জবাবদিহিমূলক গণতান্ত্রিক সরকার। জবাবদিহিতা না থাকলে যেকোনো শাসকই একনায়ক হয়ে ওঠেন। উগ্রমৌলবাদী একনায়কতন্ত্র আরো বেশি ভয়ঙ্কর। মৌলবাদীরা নিজেরা তো অন্ধকারে থাকেই, চারপাশও অন্ধকার করে রাখে। দক্ষিণ এশিয়ার অনেক রাষ্ট্রই এখন তালেবানদের সঙ্গে গোপন আঁতাত করছে বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে। এসব খবর সবটুকুই মিথ্যা এমন কথা বলা যাবে না। যারাই তালেবানদের সঙ্গে সখ্য গড়তে চাইবেন তাদের সবাইকেই স্মরণ রাখতে হবে, যত দ্রæত সম্ভব আফগানিস্তানের গৃহযুদ্ধের অবসান ঘটিয়ে সেখানে গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে হবে। দীর্ঘ পঞ্চাশ বছর ধরে আফগানিস্তানে গৃহযুদ্ধ চলছে। অর্ধশতাব্দীব্যাপী চলমান গৃহযুদ্ধে তাদের কতটা ক্ষতি হয়েছে এসব হিসাব-নিকাশ করে একটি শান্তিকামী গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠা করার জন্য এখন সবাইকে আফগানিস্তানের পাশে দাঁড়ানো দরকার। না হলে আল-কায়েদা ও তালেবানদের মতো মৌলবাদী গোষ্ঠীর পুনরুত্থান ঘটবে। যা আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক শান্তি-শৃঙ্খলা ধ্বংস করবে। পরমতসহিষ্ণু, উদার ও মানবিক আফগানিস্তান প্রতিষ্ঠা করতে আফগানরা স্বতঃস্ফ‚র্তভাবে উদ্বুদ্ধ হবেন, এটাই শান্তিকামী মানুষের প্রত্যাশা। 

-মোনায়েম সরকার : রাজনীতিবিদ, লেখক, কলামিস্ট, প্রাবন্ধিক, গীতিকার ও মহাপরিচালক, বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন ফর ডেভেলপমেন্ট রিসার্চ।

Loading…

সময়ের কথায় প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

Loading…

Facebook fan page

Leave a Reply

Your email address will not be published.