বর্ণময় প্রজাপতি মাছ

Filed under: কোলাহল,ফিচার |
মানুষ এদের রূপ দেখে মুগ্ধ হয়ে যায়

মানুষ এদের রূপ দেখে মুগ্ধ হয়ে যায়

॥  অগ্নিবর্ণা হাসান সাবাবা  ॥

 

প্রআজ তোমাদের শোনাবো প্রজাপতি মাছের গল্প। হয়তো ভাবছো, মাছ আবার প্রজাপতি হয় কি করে? সেটা কি আবার পানি ছেড়ে ডাঙ্গায় উড়ে বেড়ায় নাকি? না বন্ধুরা, এরা পানি ছেড়ে ডাঙ্গায় আসে না। এরা পানিতেই থাকে। নিজের দেহের রঙ, রূপ ছড়িয়ে সমুদ্রের পানিতে এরা মনের আনন্দে ঘুরে বেড়ায়। আর সব মাছেরা এদের রূপ দেখে ইর্ষায় জ্বলে-পুড়ে মরে, আর মানুষ এদের রূপ দেখে মুগ্ধ হয়ে যায়। কবি কবিতা লেখে, শিল্পী ছবি আঁকে। আবার সৌখিন মানুষরা এদের সাগর থেকে তুলে এনে নিজেদের ড্রইংরূমে এ্যাকুরিয়ামে রা‍খে।

আসলে বন্ধুরা, প্রজাপতি মাছ হচ্ছে, দেহভরা রঙ্গ মাখা একটি সামুদ্রিক মাছ। এরা প্রজাপতির মতো বাতাসে উড়ে না বেড়ালেও সমুদ্র তলদেশের শৈলভূমিতে ঘুড়ে বেড়াতে খুব  ভালাবাসে। বড় কথা এদের দেহ নানা রঙে বর্ণিল ও বিচিত্র নকশায় সজ্জিত।

কিছু প্রজাপতি মাছের দেহের রঙ খুব উজ্জ্বল না হলেও বেশিরভাগ মাছের দেহে রয়েছে উজ্জ্বল নীল, লাল, কমলা ও হলদে রঙে বিচিত্র সব নকশা ; কোনোটির চোখের চার পাশে রয়েছে কালো রঙের রেখা ; পুচ্ছদেশে চোখের মতো দেখতে ফোঁটা দাগ, যা দেখে সমুদ্রে ওদের যেসব শত্রু রয়েছে তারা ধাঁধায় পড়ে যায়। আর এই ফাঁকে প্রজাপতি মাছ যায় পালিয়ে প্রাণ বাঁচায়।

 

 নিজের দেহের রঙ, রূপ ছড়িয়ে সমুদ্রের পানিতে এরা মনের আনন্দে ঘুরে বেড়ায়।

নিজের দেহের রঙ, রূপ ছড়িয়ে সমুদ্রের পানিতে এরা মনের আনন্দে ঘুরে বেড়ায়।

পৃথিবীর বেশিরভাগ সমুদ্রে এদের দেখা যায়। মৎস গবেষকরা “কিটোডনটিডে” পরিবারভুক্ত এ মাছটির এ যাবৎ ১১৪ প্রজাতি খুঁজে বের করেছেন। প্রজাপতি মাছ আকারে বড় নয়। ছোট ছোট মাছগুলো ৭ থেকে ৯ ইঞ্চি দীর্ঘ। দেহ চ্যাপ্টা ও পাতলা, অনেকটা চাকতির মতো। দেহের এ রকম গঠন অনেকটা এদের সহদোর প্রজাতি অ্যাঙ্গলার ফিশের মতো। দিনের বেশির ভাগ সময় এরা প্রবালের মধ্যে ঘুরে বেড়ায়। নিজের খাবার ব্যাপারে কিন্তু প্রজাতি মাছ খুব বাছ-বিচার করে। বলতে গেলে, প্রবাল ছাড়া আর কিছুই খেতে চায় না। এদের ঠোঁট লম্বা; আর সেই লম্বা ঠোঁট দিয়ে দিনমান প্রবালের গায়ে ঠুকরে ঠুঁকরে প্রবাল, পলিপ, কীট ও অন্যান্য অমেরুদণ্ডী প্রাণীর সন্ধান করে। কোনো কোনো প্রজাতির প্রজাপতি মাছ ছোট ঝাঁক বেঁধে পানির নিচে ঘোরাফেরা করে। তবে মজার ব্যাপার হচ্ছে, এদের বেশির ভাগই জোড়ায় জোড়ায় চলাফেরা করে। সঙ্গী খুঁজে নেয়ার আগে পর্যন্ত এরা একা একা ঘুরে বেড়ায়। রাতের বেলা প্রজাপতি মাছ অন্ধকার প্রবালের ফাঁকে লুকিয়ে থাকে। এ সময় এদের উজ্জ্বল রঙ আর বিচিত্র নকশা প্রবালের দেহের সাথে মিশে যায়। আগেই বলেছি, সৌখিন লোকেরা এদের ধরে এনে ঘরের এ্যাকুরিয়ামে রেখে লালন-পালন করে। কিন্তু বন্ধুরা, অ্যাকুয়ারিয়ামে এদের পালন করা অতো সহজ কাজ নয়। এদের বাঁচিয়ে রাখার জন্য সর্বক্ষণিক বিশেষ পরিচর্যার প্রয়োজন হয়। দেখতে অনেক সুন্দর বলেই এ মাছের দামও অনেক বেশি।

সত্যি বলতে কি বন্ধুরা, প্রজাপতি মাছে হচ্ছে, সৃষ্টিকর্তার সুন্দরতম সৃষ্টিগুলোর মধ্যে একটি।

 

 

 

 

সময়ের কথায় প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।