পোশাকের নতুন বাজার কানাডা

Filed under: জাতীয়,ফিচার |

গারমেনটস

বাংলাদেশের পোশাক খাত নিয়ে জটিলতার শেষ নেই। তবে নতুন খবর হচ্ছে পোশাক খাতে বিলিয়ন ডলারের নতুন রফতানি বাজার হতে যাচ্ছে কানাডা ও ইতালি। রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম মাসে (জুলাই) কানাডায় তৈরি পোশাক রফতানি থেকে আয় হয়েছে ১১ কোটি ২৯ লাখ ডলার। একই সময় ইতালিতে রফতানি হয়েছে ১১ কোটি ৪৬ লাখ ডলারের পোশাক। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রফতানির এ ধারা অব্যাহত থাকলে চলতি অর্থবছরেই বিলিয়ন ডলারের আরো দুটি রফতানি বাজার পেতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। বিজিএমইএর সভাপতি আতিকুল ইসলাম বলেন, কানাডা ও ইতালি দুটি বাজারই তৈরি পোশাক খাতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। সাম্প্রতিক কয়েকটি দুর্ঘটনা পোশাক খাতের পাশাপাশি দেশের ভাবমূর্তিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। হারানো ভাবমূর্তি ফিরিয়ে আনতেও এ বাজারগুলোয় নতুন পণ্য রফতানির প্রয়োজন রয়েছে।

পোশাক খাতের নেতাদের এ বক্তব্যের সঙ্গে একমত পোষণ করেন কানাডা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সাবেক সভাপতি মাসুদ রহমান। প্লাস্টিক, হিমায়িত খাদ্যসহ বেশ কিছু পণ্য কানাডায় রফতানির সম্ভাবনা রয়েছে। লো-এন্ড পণ্য উত্পাদন থেকে চীনের সরে আসার কারণেই এ সুযোগ তৈরি হয়েছে। ইপিবি ও পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর তথ্য অনুযায়ী, তৈরি পোশাক রফতানি আয়ের সিংহভাগই আসে বিলিয়ন ডলারের পাঁচ বাজার থেকে। এ পাঁচ বাজার যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও স্পেন থেকে গত অর্থবছর আয় হয়েছে ১ হাজার ৩৭৩ কোটি ডলার। একই সময় বিশ্বের ৩৯টি বাজার থেকে আয়ের পরিমাণ ২ হাজার ১৫১ কোটি ডলার। তবে রফতানি আয়ের সাম্প্রতিক প্রবণতা থেকে অনেকেই বলছেন, বিলিয়ন ডলারের এ পাঁচ বাজারের সঙ্গে চলতি অর্থবছরেই যুক্ত হচ্ছে কানাডা ও ইতালি।

ইপিবির ভাইস চেয়ারম্যান শুভাশীষ বসু এই প্রতিবিধিকে বলেন, রফতানি খাতের মূল পণ্য তৈরি পোশাক। এ খাতের রফতানি আয়ের বেশির ভাগই আসে বিলিয়ন ডলারের বাজার থেকে। সে হিসাবে বিলিয়ন ডলারের বাজারের সংখ্যাবৃদ্ধি বাংলাদেশের জন্য অবশ্যই ইতিবাচক। ইপিবির পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০১২-১৩ অর্থবছরে কানাডা ও ইতালিতে পোশাক রফতানি থেকে আয় হয় যথাক্রমে ৯৮ কোটি ২ লাখ ও ৯১ কোটি ৩২ লাখ ডলার। আগের অর্থবছর অর্থাৎ ২০১১-১২তে এর পরিমাণ ছিল যথাক্রমে ৮৭ কোটি ৪৮ লাখ ও ৮৬ কোটি ২৬ লাখ ডলার। তবে চলতি অর্থবছরের প্রথম মাসেই কানাডায় পোশাক রফতানি থেকে দেশে এসেছে ১১ কোটি ২৯ লাখ ৩৭ হাজার ডলার। এ হিসাবে অর্থবছর শেষে বাজারটি থেকে আয় হওয়ার কথা ১০০ কোটি ডলারের বেশি। একই সময়ে ইতালি থেকে এসেছে ১১ কোটি ৪৬ লাখ ৪ হাজার ডলার, অর্থবছর শেষে যার পরিমাণ শতকোটি ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ার কথা।

সময়ের কথায় প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।