|

রক্তমাখা পোশাক কিনবে না আমেরিকা

mozina

বাংলাদেশের গার্মেন্টস শিল্পে একের পর দুর্ঘটনা, ভয়াবহ ভবন ধ্বস, শত শত শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যু, সেই হৃদয়বিদারক মৃত্যুর ছবি আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় প্রকাশ দেশের স্বর্ণালি সম্ভাবনাময় শিল্পটাকে পাশ্চাত্যে অনেক নাজুক অবস্থার মধ্যে ফেলে দিয়েছে।

অথচ পাশ্চাত্যের দেশগুলোতে এর যেভাবে এর বিস্তৃতি ঘটে চলছিলো তাতে মনে হয়েছিলো, এই শিল্প অদূর ভবিষ্যতে বাংলাদেশকে পৌঁছে দেবে এক বিপুল সাফল্যের স্বর্ণ শিখরে। কিন্তু দুর্ভাগ্য বাঙ্গালী জাতির, কিছু স্বার্থান্বেষী, রক্তচোষক মালিক শ্রেনীর অতি লোভের বলি হয়ে চলেছে শিল্পটি। আর একই সাথে বঞ্চিত হতে হচ্ছে দেশ ও জাতিকে।

বাংলাদেশের গার্মেন্টস শিল্পের সেসব নারকীয় ঘটনা-দুর্ঘটনা, কর্তৃপক্ষীয় শ্রেনীর হীন মানসিকতা দর্শণে পাশ্চাত্যের পোশাক ব্যবসায়ীরা অন্তত মানবিক কারণে দূরে সরে যেতে শুরু করেছে। সম্প্রতি, মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান ডব্লিউ মজীনার কন্ঠেও সেই সুরেরই প্রতিফলন ঘটেছে। তিনি স্পষ্টই বলেছেন, শ্রমিকদের রক্তমাখা পোশাক আমেরিকা কিনবে না।garments-1

তিনি আরো বলেছেন, কর্মক্ষেত্রে শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। স্বাধীন ট্রেড ইউনিয়ন করার সুযোগ দিতে হবে। আইএলও’র নিয়ম অনুযায়ী শ্রমিকদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। শ্রমিকদের সুনিশ্চিত অধিকার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বাংলাদেশ আবারো জিএসপি ফিরে পেতে পারে। তার স্পষ্ট উচ্চারণ হচ্ছে, রানা প্লাজা ও তাজরীন ফ্যাশনের মতো আর কোনো দুর্ঘটনার পুনরাবৃত্তি চায় না আমেরিকা। গত ২ সেপ্টেম্বর সকালে ঢাকা চেম্বার অব কমাসের্র হেল্প ডেক্সের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মজীনা এসব কথা বলেন। ডিসিসিআইএর প্রেসিডেন্ট সবুর খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব বিজন কুমার বৈষা ও এফবিসিসিআই’র প্রেসিডেন্ট কাজী আকরাম উদ্দিন আহমেদ।

মজীনার উচ্চারণ শূধুই যে, একটা ভয়াবহ পরিস্থিতির ইঙ্গীত করে তা নয়, তা আমাদের মানবতা ও সভ্যতাকেও আঘাত করে তীব্রভাবে। কী নির্মম বাস্তবতা, আমরা কতোটা নিষ্ঠুর, শ্রমিকদের রক্তভেজা পোশাক বিক্রির জন্য বিবেক বিবর্জিকভাবে দেন-দরবার করছি আর পাশ্চাত্যের ক্রেতারা সেই পোশাক কিনতে অপারগতা প্রকাশ করছে মানবিক কারণেই! হায় আমাদের হীন মানসিকতা!

সময়ের কথায় প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

মন্তব্য করুন





টুইটারে আমরা

পূর্বের সংখ্যা