|

বেলই সেরা, বেলই দামী

bale+৩

 

প্রতিবেদনটি তৈরী করেছেন রেহানা আক্তার লুনা

 

উরোর দলবদলে এবারের সেরা এবং দামী তারকা এখন গ্যারেথ বেল। শেষ পর্যন্ত দলবদলের বাজারে সর্বোচ্চ ট্রান্সফার ফির বিশ্বরেকর্ডটা তিনিই স্পর্শ করলেন। দশ কোটি ইউরোর তাক লাগানো, আকাশছোঁয়া মূল্যে টটেনহ্যাম হটস্পার থেকে রিয়াল মাদ্রিদে যোগ দিয়েছেন বেল। ছয় বছর মেয়াদে ওয়েলসের এই ফরোয়ার্ডের সঙ্গে স্পেনের সফলতম ক্লাবের চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে।

উল্লেখ করা যেতে পারে, দলবদলের হাটে আগের রেকর্ডটি ছিল ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর। ২০০৯ সালে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড থেকে রোনালদো ৯ কোটি ৪০ লাখ ইউরোর বিনিময়ে রিয়ালে যোগ দেন।

তবে রেকর্ড পারিশ্রমিক দিয়ে বেলকে দলে ভিড়িয়েই সব কথা শেষ হয়ে যাচ্ছে না। জানা যায়, সান্তিয়াগো বার্নাবেউতে তাকে ধরে রাখতেও রিয়ালকে খরচ করতে হবে আরো অনেক অর্থ। ছয় বছরের চুক্তিতে বিশ্বের অন্যতম ধনী এই দলটিতে প্রতি সপ্তাহে বেলের বেতন হবে প্রায় তিন লাখ পাউন্ড।bale+২

ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর ট্রান্সফার ফি’র বিশ্ব রেকর্ডটা ভেঙ্গে যাচ্ছে, কিছু দিন ধরেই গুঞ্জন শোনা যাচ্ছিল। সেখানে অবশ্য গোড়া তেকেই বে‌লের নামই উচ্চারিত হচ্ছিলো। অপরদিকে  টটেনহ্যামের কোচ আন্দ্রেস ভিলাস-বোয়াসও বেলকে বিক্রি করে রেকর্ড ট্রান্সফার ফি পাওয়ার আশা ব্যক্ত করে আসছিলেন।

সর্বশেষ গত সপ্তাহে ক্লাবের ওয়েবসাইটে দেয়া এক বিবৃতিতে রিয়াল জানিয়েছে, “গ্যারেথ বেলের দলবদল নিয়ে রিয়াল মাদ্রিদ ও টটেনহ্যাম সমঝোতায় পৌঁছেছে। আগামী ছয় বছর ক্লাবের সঙ্গে যুক্ত থাকবেন তিনি।”

অন্যদিকে, দলবদলের শেষ সময়ের একদিন আগে বেলের রিয়ালে যাওয়ার খবরটি ক্লাবের ওয়েবসাইটে নিশ্চিত করেছেন টটেনহ্যামের চেয়ারম্যান ড্যানিয়েল লেভিও। তবে দলের সেরা তারকাকে হারিয়ে মোটেও খুশি নন লেভি। ওয়েবসাইটে দেয়া বিবৃতিতে তিনি বলেছেন, “গ্যারেথকে (বেল) বিক্রি করার কোনো ইচ্ছাই আমাদের ছিল না। কারণ তাকে নিয়েই আমরা ভবিষ্যৎ গড়তে চেয়েছিলাম। সে এমন এক খেলোয়াড় যার খেলোয়াড়ি জীবনকে আমরাই অনুপ্রাণিত করেছি, গড়ে তুলেছি।

এদিকে টটেনহ্যাম ত্যাগ করে বে‍লও খুব একটা খুশী নন। বিদায় বেলায় তেমন সুরই ধ্বনিত হয়েছে তার কন্ঠে, টেটনহ্যাম ত্যাগের প্রশ্নে তিনি বলেছেন, ‘টটেনহ্যাম আজীবন আমার হৃদয়ের মণিকোঠায় থাকবে। আমি নিশ্চিত, এই মৌসুমটা তাদের জন্য সাফল্য বয়ে আনবে।’ অপরদিকে নিজের নতুন দল সম্পর্কে তার বক্তব্য হচ্ছে, ‘আমি এখন আমার জীবনের পরবর্তী রোমাঞ্চকর অধ্যায়ের দিকে অধীর আগ্রহে তাকিয়ে আছি। আর তা হলো রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে খেলা।” পুরনো ঠিকানা ছাড়তে দু:খ হলেও নতুন চ্যালেঞ্জ গ্রহণে যেনো  অপেক্ষা সইছে না ওয়েলসের এই তারকার।

বলার অপেক্ষা রাখে না যে, আর দশটা খেলোয়াড়ের মতোই বিশ্বের অন্যতম সফল ক্লাবে যোগ দিতে পেরে দারুণ খুশি বেল। টটেনহ্যামের সবার কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি বলেন, “ক্লাবের সভাপতি, কর্মকর্তা, কোচ, খেলোয়াড় প্রত্যেককে আমি ধন্যবাদ জানাতে চাই। ধন্যবাদ দিতে চাই ক্লাবের অসাধারণ সমর্থকদেরও। আশা করি তারা বুঝতে পারবেন আমার ক্যারিয়ারের জন্য এটা কী অবিশ্বাস্য সুযোগ।”

বেল আরও বলেন, “জানি অনেক খেলোয়াড়ই দলটিতে (রিয়ালে) যোগ দেওয়ার কথা বলতে গিয়ে তাদের ছেলেবেলার স্বপ্নের কথা বলে কিন্তু আমি সত্যি বলছি, এতে আমার স্বপ্ন সত্যি হল।”bale+৪

স্মরণ করা যেদে পারে, ২০০৭ সালে এক কোটি পাউন্ডের (পরে দুই দলের সমঝোতায় তা নেমে আসে ৭০ লাখে) বিনিময়ে সাউথ্যাম্পটন থেকে টটেনহ্যামে যোগ দিয়েছিলেন বেল। এরপর থেকে বড় কোনো শিরোপা সাফল্য না জুটলেও তিনি নিজে হয়ে ওঠেন তারকা। ইপিএলের গত মৌসুমে ৩৩ ম্যাচ খেলে ২১ গোল করেছেন বেল।

রিয়ালবরণও সম্পন্ন : সান্তিয়াগো বার্নাবেউয়ে প্রায় ২০ হাজারের বেশি দর্শকের সরব উপস্থিতিতে গ্যারেথ বেলকে বরন করে নিল রিয়াল মাদ্রিদ। তিনি পেয়েছেন ১১ নম্বর জার্সি।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের মতে, ক্লাব ফুটবলের দলবদলের ইতিহাসের সর্বোচ্চ, ১০ কোটি ইউরো ট্রান্সফার ফিতে রিয়ালে এসেছেন বেল।

রিয়ালবরণকালে দর্শকদের তুমুল করতালির মাঝে ১১ নম্বর জার্সি পড়ে রিয়ালের আঙিনায় প্রবেশ করেন ইপিএলের গত মৌসুমে টটেনহ্যামের হয়ে ২১ গোল করা এই তারকা। এর আগে বেলের হাতে তার জার্সিটি তুলে দেন রিয়াল প্রেসিডেন্ট ফ্লোরেন্তিনো পেরেজ। বার্নাবেউয়ে ঢোকার আগে রাস্তার দু পাশে সারিবদ্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে বেলকে অভ্যর্থনা জানায় রিয়াল ভক্তরা। সেদিন সকালেই রিয়ালের চিকিৎসকরা তার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেন।

অর্ভর্থনা পর্বের শুরুতে পেরেজ বলেন, “বেল ভিন্ন ধাঁচের এক খেলোয়াড়।(বেলকে কেনার ব্যাপারে টটেনহ্যামের সঙ্গে) আলোচনা পর্বটা ছিল কঠিন, জটিল ও দীর্ঘস্থায়ী। তবে শেষ পর্যন্ত আমরা লক্ষ্যে পৌছতে পেরেছি। দলের অংশ হিসেবে তাকে স্বাগত জানাতে পেরে আমরা অভিভূত।”

Bale+৫এরপর বেলকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, “এই মাঠে বিশ্বের অনেক সেরা খেলোয়াড়েরা খেলেছে, এর সৌন্দর্য্য বাড়িয়েছে। এখন তুমি তাদের পথ অনুসরণ করছো।”

রিয়াল মাদ্রিদে বেলকে স্বাগতম জানান পেরেজ “এটা তোমার মাঠ, এটা তোমার জার্সি, এরা সবাই (দর্শকেরা) তোমার ভক্ত। আজ থেকে এটাই তোমার বাড়ি, এরা সবাই তোমার পরিবার। তোমার দলে তোমাকে স্বাগতম, রিয়াল মাদ্রিদে তোমাকে স্বাগতম।”

রিয়ালে আসতে পারাটা যে তার স্বপ্ন ছিল তা আগেই বলেছেন ২৪ বছর বয়সী বেল। বান্ধবী ও শিশুকন্যাকে পাশে নিয়ে নতুন ঠিকানায় এসে আবারো তাই বললেন, “মাদ্রিদের এখানে আসতে পারাটা আমার জন্যে স্বপ্নের মতো। এমন অভ্যর্থনার জন্য আপনাদের ধন্যবাদ।”

আনুষ্ঠানিকতার পর মাঝ মাঠে বল নিয়ে স্বীয় কারিশমা প্রদর্শণ করেন বেল। দর্শকরা তা বেশ উপভোগ করেন। তবে প্রশ্ন হচ্ছে, আগামীতে বেলের জন্য রিয়াল এবং রিয়ালের বেল কতোটা ‘উপভোগ্য’ হবেন সেটা দেখার জন্যই অপেক্ষমান ফুটবল বিশ্ব।

সময়ের কথায় প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

মন্তব্য করুন





টুইটারে আমরা

পূর্বের সংখ্যা