কানাডায় নবাগতদের করনীয় – ৩

Filed under: কানাডার খবর,জাতীয় |

কানাডা-৩

 

মোবাইল ফোন সমাচার

বাংলাদেশ থেকে টরন্টো আসার আগে একটা আই ফোন ফোর-এস নিয়ে এসেছিলাম সাথে করে। এটা যে এখানে দারুণভাবে কাজে দেবে, তা কল্পনাও করিনি। কারণ বাংলাদেশের মতোই এখানে মোবাইল এবং ইন্টারনেট দৈনন্দিন জীবনে অপরিহার্য।

কানাডায় বেশ কয়েকটি মোবাইল কম্পানী রয়েছে – রজার্স, ফাইডো, বেল, উইণ্ড, মোবিলিসিটি, চ্যাটআর ইত্যাদি। এক-এক কোম্পানীর এক এক রকম প্ল্যান। অনেক চিন্তা-ভাবনা আর গবেষণা করে নিয়ে নিলাম চ্যাট-আর এর মাসিক ৩৫ ডলারের প্রি-পেইড কানেকশন। এই কানেকশনটি নেবার আগে যে বিষয়গুলো বিবেচনা করলাম:

১. আমি যে এলাকায় থাকি এবং পুরো টরন্টোতে আমি যেসব এলাকায় চলাচল করি বা করবো, সেসব জায়গায় চ্যাট-আর ভাইরা তাদের নেটওয়ার্ক ঠিকমতো রেখেছেন কিনা।

২. এটা প্রি-পেইড কানেকশন, সুতরাং মাসের যে তারিখেই কার্ড ভরবেন, পরের মাসের ঠিক ওই তারিখেই আবার রিচার্জ করতে হবে। কার্ড রিচার্জ না করলে লাইন বন্ধ। ভেরি সিম্পল।

৩. পুরো কানাডার যেকোন প্রভিন্সে ইনকামিং-আউটগোয়িং কল+টেক্সট সবকিছুই আনলিমিটেড, অর্থা কোন টাকা কাটবেনা।

৪. আমেরিকায় টেক্স ফ্রি

৫. কানাডার বাইরে কল করতে গেলে টাকা কাটবে। সুতরাং কোন অবস্থাতেই আমি ভুলেও এই লাইন দিয়ে কানাডার বাইরে কল করবো না।

৬. কানাডার বাইরে থেকে কেউ আমাকে কল/টেক্সট করলে সেটা আবার ফ্রি।

কানাডা-৩

চ্যাট-আর এর ৩৫ টাকার প্রি-পেইড কানেকশন নিলাম মনট্রিয়াল থেকে। কিন্তু অনুরোধ করায় আমাকে তারা টরন্টোর একটা নম্বর দিয়ে দিল। কানেকশন নিতে ৬৩.২৪ ডলার খরচ হয়েছিল। কারণ মূল কানেকশন নেবার সময় ভ্যাট রয়েছে। আমার আই ফোন ফোর-এস-এ চ্যাট-আর-এর বড় সিমটাকে কেটে ছোট করতে আবার ১০ টাকা … থুক্কু… ১০ ডলার লেগেছিল। মাস শেষে ফিউচার শপ থেকে ৩৫ ডলারের রিফিল ভ্যাটসহ ৩৯.৫৫ ডলার লেগেছে। সব মিলিয়ে চ্যাট-আর নিয়ে আমি হ্যাপি।

এখন চিন্তায় পড়ে গেলাম, বাংলাদেশে তাহলে কল করবো কিভাবে। কারণ সবাইতো আর আমার মতো স্কাইপ ব্যবহার করেনা। সুতরাং বাংলা ট্র্যাকার -এ একটা অ্যাকাউন্ট করে ফেললাম। RBC ব্যাঙ্ক থেকে পাওয়া ফ্রি ফ্রি ১০০০ টাকা লিমিটের ক্রেডিট কার্ড দিয়ে ২০ টাকা খরচ করে বাংলা ট্র্যাকার থেকে প্রায় ৫৫০ মিনিট কিনে নিলাম। এখন মনের সুখে প্রতিদিন বাংলাদেশে আত্মীয়-স্বজনকে ফোন করে নিয়মিত কথা বলি। বাংলাট্র্যাকারে সময় শেষ হয়ে গেলে নিজের মোবাইল ফোন দিয়েই ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে রিফিল করার ব্যবস্থা আছে। আর প্রথমবার কানেকশন নিলে ১ ঘন্টা সময় বেশি দেয় তারা এবং যার রেফারেন্সে বাংলাট্র্যাকার নিবেন, তাকে আধ ঘন্টা সময় বোনাস হিসেবে দেবে। সুতরাং প্রথমবার বাংলাট্র্যাকারের কানেকশন নিলে আমার নম্বরটি অবশ্যই দিয়ে দেবেন ওদেরকে রেফারেন্স হিসেবে।

 

যে সব ওষুধ বাংলাদেশ থেকে আনা ওষুধ

প্রথম পর্বতে আলোচনা করেছিলাম হেলথ কার্ড/ হেলথ ইনস্যুরেন্স এবং মেডিক্যাল ইনস্যুরেন্স নিয়ে। হেলথ কার্ড হতে তিন মাসের মতো সময় লেগে যায়। তাই বাংলাদেশ থেকে বেশ কিছু প্রয়োজনীয় ওষুধ সাথে করে নিয়ে এসেছিলাম। টরন্টো এয়ারপোর্টে যদিও ওষুধের কথা কিছু জিজ্ঞেস করেনি, তারপরেও সাবধানতার জন্যে আমার পরিচিত এক ডাক্তার ভাইয়ের থেকে প্রেসক্রিপশন এবং মেডিকেল সার্টিফিকেট সাথে নিয়ে এসেছিলাম। প্রেসক্রিপশন এবং সার্টিফিকেট হাত ব্যাগে এবং ওষুধগুলো বড় লাগেজের ভেতর চালান করে দিয়েছিলাম।

 

যেসব ওষুধ বাংলাদেশ থেকে নিয়ে এসেছিলাম

১. প্যারাসিটামল/নাপা

২. পেইন কিলার – ডাইক্লোফেনাক

৩. রেনিটিড/পেন্টো-প্রাজল

৪. ডেসলোরাটিডিন – ঠাণ্ডা/হাঁচি-কাশির জন্য

৫. লেক্সোটানিল – ঘুমের ওষুধ

৬. অ্যান্টিবায়োটিক যেমন: সিপ্রোফ্লক্সাসিন, মক্সাক্ল্যাভ, অ্যাজিথ্রোমাইসিন, লেভোফ্লক্সাসিন, সেফরাডিন, সেফথ্রি ট্যাবলেট ইত্যাদি প্রয়োজনমতো এনেছি। এছাড়া জনৈক বন্ধুর জন্য ডায়াবেটিসের ওষুধ, ব্লাড প্রেসারের ওষুধ ইত্যাদিও চান্সে নিয়ে এসেছি।

 

কানাডায় জব

প্রতিমাসে বাড়ি-ভাড়া আর খাবার খরচসহ অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ যোগানোর জন্যে কানাডায় একটা জব অত্যাবশ্যক। কারণ বসে থাকলে বাংলাদেশ থেকে জমিয়ে আনা টাকা ফুরাতে সময় লাগবেনা। কিন্তু প্রফেশনাল জব পাওয়াটা এখানে ভাগ্যের ব্যাপার। কারণ প্রফেশনাল জব-এ তিনটি বিষয় প্রয়োজন:

১. কানাডিয়ান কোন ডিগ্রী

২. কানাডিয়ান এক্সপেরিয়েন্স এবং

৩. রেফারেন্স

‘অড-জব’ সম্পর্কে বাংলাদেশে থাকতে শুনেছিলাম। এখানে ‘অড-জব’ পেতে গেলেও কানাডিয়ান এক্সপেরিয়েন্স এবং রেফারেন্স লাগবে। অর্থাৎ আপনি যদি কোন রেস্টুরেন্টে, গ্যাস স্টেশনে ইত্যাদি জায়গায় কাজ করতে যান, তাহলে অন্ত:ত পক্ষে পরিচিত কেউ থাকতে হবে যিনি আপনাকে কাজটা শেখাতে এবং পাইয়ে দিতে প্রত্যক্ষভাবে সাহায্য করবে। ভ্যগ্য ভালো থাকলে আপনি মাসখানেকের ভেতরেই সেই ‘অড-জব’ পেতে পারেন। আর ভাগ্য প্রসন্ন না হলে দুই-তিন মাস লেগে যেতে পারে। যেকোন ‘অড-জব’-এ ঘন্টায় সাধারণত ৮-১০ ডলার করে দেয়।

যারা নতুন আসছেন এবং কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা দেশ থেকে করে আসতে পারেননি, তাদের জন্যে আমার পরামর্শ হলো, টরন্টোতে নামার পরপরই ‘সিকিউরিটি ট্রেনিং’ করে ফেলুন। এটা ‘মিনিস্ট্রি বেসিক কোর্স’ বলেও পরিচিত। আমার পরিচিত অনেকেই এখানে ট্রেনিং নিয়েছেন এবং তাদের ভাষ্য মতে, এখানে ট্রেনিং নেবার পর পরীক্ষা দিয়ে পাশ করলে ইন্টারকন, জি-ফোর ইত্যাদি জায়গায় সিকিউরিটি গার্ডের চাকুরী পাওয়া সম্ভব। সিকিউরিটি গার্ড হিসেবে তখন বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, শপিং মল ইত্যাদি জায়গায় কাজ করতে পারা যায়।

এই সিকিউরিটি ট্রেনিং কোর্স করতে ১৯৭.৭৬ ডলার ব্যাংক ড্রাফট লাগবে। সকাল অথবা বিকালের শিফটে ট্রেনিং নেয়া যাবে। লাইসেন্সিং পরীক্ষা এবং আনুষঙ্গিক আরও প্রায় ১০০ ডলারের মতো খরচ আছে।

 

ইন্টারকনের ঠিকানা: ৪০ শেফার্ড স্ট্রিট, থার্ড ফ্লোর, টরন্টো

ফোন: ৪‌১৬ ২২৯ ৬৮১১

(সমাপ্ত)

সময়ের কথায় প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।