|

টোল ফ্রি নম্বরে কথা বলার সুযোগ

সাইফ রহমান

RetroTelephoneDi

২০০৫ সালে দেশের টেলিযোগাযোগ খাতের বিভিন্ন সেবার নম্বর বিন্যাসের বিস্তারিত পরিকল্পনা প্রকাশ করা হয়। এ সময় টোল ফ্রি নম্বর চালুর উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। ২০০৮ সালের আগস্ট মাসে অপারেটরদের ৩ মাসের মধ্যে টোল ফ্রি সেবা চালু করতে নির্দেশ দেয় বিটিআরসি। এরপর ২০১৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন কনজিউমার প্রোটেকশন গাইডলাইনের খসড়ায় এই সুবিধার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এদিকে আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় দুই ধরনের টোল ফ্রি নম্বরের জন্য পৃথক নির্দেশনা তৈরি করেছে কমিশন। শিগগিরই জনমত যাচাইয়ের জন্য এটি প্রকাশ করা হবে। পরে মতামত যাচাই করে নির্দেশনা চূড়ান্ত করা হবে বলে জানা গেছে।

জরুরি টোল ফ্রি নম্বর হিসেবে একটি নম্বর নির্দিষ্ট থাকে। এ নম্বরে ফোন করে কাঙ্ক্ষিত সব ধরনের জরুরি সেবা পান গ্রাহক। হাসপাতাল, দমকল ও পুলিশসহ বেশ কয়েকটি জরুরি ক্ষেত্রে এ সেবা পাওয়া যায়। এসব নম্বরে ফোন করার জন্য কোনো বিল গুনতে হবে না গ্রাহকদের। বরং সংশ্লিষ্ট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানই গ্রাহকের পক্ষ থেকে মূল্য পরিশোধ করে। সম্প্রতি প্রকাশ করা ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন কনজিউমার প্রটেকশন গাইডলাইনের খসড়ায়ও জরুরি টোল ফ্রি নম্বর চালুর বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এ ধরনের জরুরি নম্বর চালু রয়েছে। বিশেষ পরিস্থিতিতে এসব নম্বরে ডায়াল করে সহায়তা নেয়া সম্ভব হবে। এছাড়া জরুরি সেবা-সংক্রান্ত তথ্যের জন্যও এ নম্বরগুলো ব্যবহার করতে পারবেন গ্রাহক। খাতসংশ্লিষ্ট সবার মতামত নিতে এর খসড়া প্রস্তাবনা শিগগিরই প্রকাশ করা হবে। টেলিযোগাযোগ খাতের গ্রাহক স্বার্থ সুরক্ষায় করা খসড়া নীতিমালায় বলা হয়েছে, ন্যাশনাল নাম্বারিং প্ল্যান অনুযায়ী মোট ৭ ধরনের জরুরি সেবার টোল ফ্রি নম্বর চালু করতে হবে অপারেটরদের। পুলিশ, অ্যাম্বুলেন্স, হাসপাতাল, দমকল, উপকূলীয় নিরাপত্তা বাহিনী (কোস্ট গার্ড), সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বর্ডার গার্ড) ও অভিবাসন সম্পর্কিত (ইমিগ্রেশন) জরুরি টোল ফ্রি নম্বর চালু করতে হবে। টোল ফ্রি এসব নম্বর চালু করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে অপারেটরদের।

RetroTelephoneDi

এজন্য বিশেষায়িত গ্রাহকসেবা কেন্দ্র থাকতে হবে তাদের। সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে এ সেবা দেবে তারা। এক্ষেত্রে অপারেটরদের সহায়তা করবে কমিশন। জরুরি টোল ফ্রি নম্বরের এ সেবা চালু রাখতে হবে সার্বক্ষণিক। টেলিযোগাযোগ খাতের বিভিন্ন সেবার নম্বর বিন্যাসের বিস্তারিত পরিকল্পনা প্রকাশ করা হয় ২০০৫ সালে। এতে কোন কোন সেবার জন্য কী প্রক্রিয়ায় নম্বর বণ্টন করা হবে, তার একটি রূপরেখা দেয়া হয়েছে। সে অনুযায়ী বর্তমানে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে নম্বর বরাদ্দ দেয়া হচ্ছে। ন্যাশনাল নাম্বারিং প্ল্যান অনুযায়ী, পুলিশের জন্য বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ১০৮ নম্বরটি। এতে ডায়াল করে পুলিশসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন তথ্য পাবেন গ্রাহকরা। এছাড়া দমকলের জন্য ১০১ এবং অ্যাম্বুলেন্সের জন্য ১০২ নির্দিষ্ট করা হয়েছে।

হাসপাতাল-সংশ্লিষ্ট জরুরি নম্বরের প্রথম অংশ হলো ১০৫ ও ১০৬। চার থেকে ছয় ডিজিটের হবে এসব নম্বর। তবে বিশেষায়িত হাসপাতালের জন্য পাঁচ ডিজিট নির্দিষ্ট করা হয়েছে। জানা গেছে, টোল ফ্রি নম্বর চালুর জন্য জরুরি সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান, সেলফোন অপারেটর ও বিটিআরসির কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে ন্যাশনাল ইমার্জেন্সি নাম্বার কমিটি গঠন করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এ-সংক্রান্ত সব কার্যক্রম পরিচালনা করতে কমিটি গঠন করা হবে। অস্ট্রেলিয়া, কানাডা ও ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোসহ বিশ্বের ৮০টি দেশে জরুরি নম্বর হিসেবে ১১২ চালু রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে ৯১১-এ ফোন করে যেকোনো জরুরি সেবা পেতে পারেন নাগরিকরা। ভারতে জরুরি টোল ফ্রি নম্বর হিসেবে বর্তমানে একাধিক নম্বর চালু থাকলেও একটি নম্বরের মাধ্যমে সব ধরনের সেবাদানের লক্ষ্যে কাজ চলছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল ইমার্জেন্সি নাম্বার অ্যাসোসিয়েশনের (এনইএনএ) পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রতি বছর ৯১১ নম্বরে ২৪ কোটি কল করা হয়। এর মধ্যে দুই-তৃতীয়াংশই করা হয় সেলফোন থেকে।

বাংলাদেশে এখনো এ ধরনের টোল ফ্রি সেবা চালু না হলেও টেলি মার্কেটিং সেবা প্রদানের জন্য সেলফোন অপারেটর গ্রামীণফোন ও রবিকে অনুমোদন দিয়েছে কমিশন। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, আন্তর্জাতিক টোল ফ্রি সেবার (আইটিএফএস) জন্য ০৮৮৮ দিয়ে শুরু ১১ সংখ্যার নম্বর নির্ধারণ করা হচ্ছে। এ সেবার ট্যারিফ হবে মিনিটপ্রতি ন্যূনতম ৭ দশমিক ৫ সেন্ট। আইটিএফএস নম্বর নিতে প্রাথমিকভাবে ৫০ হাজার টাকা ফি ধরা হচ্ছে। তবে গ্রাহকের চাহিদা অনুযায়ী কোনো নির্দিষ্ট নম্বর বরাদ্দ পেতে ১ লাখ টাকা ফি দিতে হবে। আর প্রতি বছর নবায়ন করতে ব্যয় হবে ২৪ হাজার টাকা। এছাড়া একবার এ ধরনের নম্বর নিলে তা কমপক্ষে এক বছর চালু রাখতে হবে, না হলে তা বিটিআরসির কাছে ফিরিয়ে দিতে হবে তাদের।

আর স্থানীয় টোল ফ্রি (এলটিএফএস) সেবায় ১১ সংখ্যার নম্বর নির্ধারণ করা হচ্ছে, যার শুরু হবে ০৮০০ দিয়ে। এলটিএফএসের ন্যূনতম ট্যারিফ নির্ধারণ করা হচ্ছে মিনিটপ্রতি ৬০ পয়সা। এ নম্বর নিতে আগ্রহী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে ২৫ হাজার টাকা দিতে হবে। তবে বিশেষ নম্বরের জন্য দিতে হবে আরো ২৫ হাজার টাকা। প্রতি বছর এটি নবায়নে ১২ হাজার টাকা দিতে হবে। পণ্যের বিপণন ও বিভিন্ন ধরনের গ্রাহক সেবাদানে টেলিযোগাযোগ সেবা ব্যবহারের সুযোগ তৈরি করবে এটি। বিটিআরসি সূত্রে জানা গেছে, কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে আইটিএফএস বা এলটিএফএস নম্বর বরাদ্দ দেয়ার ৭ দিনের মধ্যে তা চালু করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে গেটওয়ে ও সেলফোন অপারেটররা।

 

 

 

সময়ের কথায় প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

মন্তব্য করুন





টুইটারে আমরা

পূর্বের সংখ্যা