সবার ওপরে রোনালদো

Filed under: ফিচার,সময়ের খেলা |

ronaldo

সময়ের সেরা দুই সুপারষ্টার ফুটবলারকে নিয়ে চমৎকার এক খেলা খেলে ফেললো রিয়াল মাদ্রিদ। তারা যে, মাঠের বাইরের খেলাতেও আসরেই ‘রিয়াল’, সেটাও যেনো আর একবার প্রমাণ করে দিলো।

সাপও মরলো; লাঠিও ভাঙ্গলো না। রোনাল্ডোও জল হলো; আবার বেলও তাদের হলো। পাঁচ বছরে সাড়ে সাত কোটির নতুন চুক্তিরে। রোনাল্ডো এমনই ঠান্ড হলো যে, তিনি বেশ জোরের সাথে এখন বলছেন, ‘ পাঁচ বছরের রোনাল্ডোকে ‘ঠান্ডা’ করতে এ বার রেকর্ড অর্থ দিচ্ছে রিয়াল, “ম্যাঞ্চেস্টার অতীত। রিয়ালই এখন আমার বাড়ি।” অথচ ক’টা দিন আগেও কন্ঠে ছিলো অন্য সুর। আর তা ছলো না এতো সুমধুর।

দলবদলের বাজারে গ্যারেথ বেলকে রেকর্ড অর্থে সই করানোর পরে জল্পনা তীব্র থেকে তীব্রতর হয় যে রোনাল্ডোর সঙ্গে রিয়ালের ছড়াছাড়ি এখন  শুধু সময়ের অপেক্ষা। কিন্তু অন্য কিছু ঘটার আগেই রিয়ালের ঝানু কর্মকর্তারা নতুন করে বেঁধে ফেললেন তাঁকে। ১৫ সেপ্টেম্বর রিয়ালের সঙ্গে ২০১৮ পর্যন্ত ৭ কোটি ৬০ লক্ষ পাউন্ডের নতুন চুক্তিতে সই করলেন রোনাল্ডো। চুক্তি অনুযায়ী গ্যারেথ বেলের ৮৫ লক্ষ ইউরোর বেতন টপকে রোনাল্ডোর বার্ষিক আয় দাঁড়াল ১ কোটি ৫০ লক্ষ ইউরো। যার ফলে এখন এ সময় সেরাই বলুন আর দামীই বলুন, তিনিই হচ্ছেন রোনাল্ডো।

এক বিশ্লেষকের ভাষ্য অনুযায়ী ব্রিটিশ প্রচারমাধ্যমের মতে, রোনাল্ডোকে নতুন চুক্তিতে সই করানো আসলে ক্লাব প্রেসিডেন্ট ফ্লোরেন্তিনো পেরেজের চাল। ‘এক ঢিলে দুই পাখি মারার মতোই’ নতুন চুক্তি রোনাল্ডোর ‘ইগো’ সন্তুষ্ট করল এবং পাশাপাশি বন্ধ করল ম্যাঞ্চেস্টার ইউনাইটেডে ফেরার সমস্ত রাস্তাও। ম্যান ইউয়ের সঙ্গে রোনাল্ডোর কথা একটা সময় এত দূর এগিয়েছিল যে, রিয়ালে দু বছর কাটিয়ে তাঁকে ফ্রি এজেন্ট হতেও পরামর্শ দিয়েছিল ডেভিড মোয়েসের ক্লাব। যার পরেই এল রিয়ালের এই ঐতিহাসিক চুক্তি।

যেখানে সই করে রোনাল্ডো এ দিন বলেন, “সবাই জানে আমি ছ’টা খুব ভাল মরসুম কাটিয়েছি ম্যাঞ্চেস্টার ইউনাইটেডে। কিন্তু সেটা অতীত। এখন আমি রিয়াল মাদ্রিদের ফুটবলার। এই ক্লাবটাই আমার বাড়ি।” সঙ্গে সিআর সেভেন আরও যোগ করেন, “আমি খুব খুশি এই ক্লাবে খেলতে পেরে। আরও পাঁচ বছর থাকব রিয়ালে। অনেক ট্রফি জিততে চাই।”

অন্যদিকে, পারিশ্রমিকের নতুন রেকর্ড গড়ার ক্ষেত্রে রোনালদো পেছনে ফেলেছেন বছরে এক কোটি ৬০ লাখ ইউরো বেতন পাওয়া বার্সেলোনা তারকা লিওনেল মেসিকেও। রিয়াল প্রেসিডেন্ট ফ্লোরেন্তিনো পেরেজের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক বৈঠক শেষে গত ১৫ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় দুই পক্ষই চুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

মাত্র গত সপ্তাহেই জানিয়েছিলেন যার হাত দিয়ে খাবার নিচ্ছেন কখনোই তার হাত কামড়ে দিতে চান না। পেশাদারিত্বের এই যুগে রোনালদোর মুখে এমন কথা হয়তো কিছুটা বেমানানই লেগেছিল। তবে মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে ব্লাঙ্কোসদের সঙ্গে নতুন চুক্তি করে শেষ পর্যন্ত সমর্থকদের আস্থার প্রতিদানই দিলেন রোনালদো। সান্তিয়াগো বার্নাব্যুর ভিআইপি বক্সে পেরেজের সঙ্গে আলোচনা শেষে হাস্যোজ্জ্বল রোনালদো জানালেন তার সন্তোষ্টির কথা, ‘এই ঘরে (রিয়াল) থাকতে পারাটা আমার জন্য দারুণ একটা সুযোগ। আমি এখানে দারুণ সুখী। কোন সন্দেহ নেই দিনটি আমার জন্য বিশেষ কিছুই। আর বিরামহীন সমর্থন দেয়ার জন্য ভক্তদের কাছে আমার কৃতজ্ঞতার শেষ নেই। কারণ তাদের কারণেই আমার এখানে থাকা।’

পারিশ্রমিকের নতুন রেকর্ড গড়ার পরেও সে বিষয়ে কিছু বলতে চাইলেন না তিনি, ‘অর্থ কখনোই সব কিছু হতে পারে না। অর্থের গুরুত্বের কথা অস্বীকার করার উপায় নেই; তবে এটা কখনোই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে না। আমি সর্বোচ্চ পারিশ্রমিকধারী কিনা সেটি নিয়েও আমার মাথাব্যথা নেই। আমি শুধু বলতে চাই আমি সুখী।’

Real+Madrid+0[1]

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

এবার মাঠে প্রথম ম্যাচেই জানান দিলেন তিনিই সেরা

রিয়ালের জন্য তিনি যে কতোটা অপরিহার্য সেটা প্রথম ম্যাচেই প্রমাণ করে দিলেন রোনাল্ডো। একই সাথে এও জানান দিলেন, তিনিই সেরা। তিনিই দামী।

১৭ সেপ্টেম্বর রাতে তুরস্কের গ্যালাতাসারইকে তাদেরই মাঠে ৬-১ গোলের বড় ব্যবধানে হারিয়েছে ইউরোপের সফল দলটি।

রোনালদোর হ্যাট্রিক ছাড়াও ‘বি’ গ্রুপের এই ম্যাচে রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে করিম বেনজেমা দুটি ও মিডফিল্ডার ইসকো একটি গোল করেছেন।

প্রতিপক্ষের মাঠ তুর্ক টেলিকম অ্যারেনায় ৩৩ মিনিটে আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার আনহেল ডি মারিয়ার পাস থেকে দারুণ এক গোলে রিয়ালকে এগিয়ে নেন ২১ বছর বয়সী স্পেনের ইসকো। এ গোলের পর যেন রিয়ালের আক্রমণের ধারও বেড়ে যায়। তারপরও প্রথমার্ধে অবশ্য আর কোনো গোল হয়নি।

দ্বিতীয়ার্ধের ছয় গোলের বন্যার শুরু নবম মিনিটে। অবশ্য ফরাসি স্ট্রাইকার বেনজেমার প্রথম গোল তার কৃতিত্বের চেয়ে চেয়েও প্রতিপক্ষের ব্রাজিলিয়ান মিডফিল্ডার ফেলিপে মেলোর অবদানই বেশি। তার বাজে হেডে বল পেয়ে যান বেনজেমা আর তা থেকে ডান কোণা দিয়ে বল জড়াতে কোনো ভুল করেননি তিনি।

৮১ মিনিটে ব্যাক্তিগত দ্বিতীয় ও দলের পক্ষে পঞ্চম গোলটি করেন ফরাসি এই স্ট্রাইকার।

এর মাঝে আর শেষ মুহূর্তে শুধুই রোনালদোর লক্ষভেদের গল্প। তিন মিনিটের ব্যবধানে প্রথম দুটি গোল করেন পর্তুগালের এই তারকা। ৬৩ মিনিটে ডি মারিয়ার ক্রস এবং ইসকোর হেড থেকে বল পেয়ে সহজেই লক্ষ্যভেদ করেন রোনালদো।

পরের মিনিটেই ইসকোকে বসিয়ে বিশ্বের সবচেয়ে দামি খেলোয়াড় গ্যারেথ বেলকে মাঠে নামান কোচ আনচেলত্তি। আর মাঠে নামার দ্বিতীয় মিনিটেই দারুণ দক্ষতার প্রমাণ দেন ওয়েলসের এই ফরোয়ার্ড।

৬৬ মিনিটে বেলের ফ্রি-কিক থেকে জোরালো এক হেড করেন রামোস। স্বাগতিক দলের উরুগুয়ের গোলরক্ষক ফার্নান্দো মুসলেরা দারুণ দক্ষতায় তা ঠেকিয়ে দিলেও রোনালদোর বল পেয়ে তা জালে জড়ান।

সবশেষে ইনজুরি সময়ে করিম বেনজেমার পাস থেকে দুর্দান্ত শটে পোলপোস্টের ডান দিকের উপরের কোণা দিয়ে বল জালে জড়ান ২৮ বছর বয়সী রোনালদো।

৮৪ মিনিটে স্বাগতিকদের পক্ষে স্বান্তনাসূচক একমাত্র গোলটি করেন উমুত বুলুত।

সময়ের কথায় প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।