সাকা’র যতো ফাঁকা বুলি

Filed under: জাতীয়,ফিচার |

saka1

অশ্লিল, আপত্তিকর, কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য আর মুখাবয়বে তাচ্ছিল্য, তীর্যক হাসি ও রাজনৈতিক নেতাদের নিয়ে ঔদ্ধত্যপূর্ণ, কটূক্তিপূর্ণ ও মুখরোচক মন্তব্য করে সারা জীবন যে লোকটি ‘কু-চরিত্রে’র মানুষ হিসেবেই পরিচিতি লাভ করেছেন, তিনি সাকা চৌধৃরী। শুধু তাই নয়,

যুদ্ধাপরাধের মামলার শুনানিতে আদালতে দাঁড়িয়েও বিভিন্ন সময়ে অশ্লিল, ঔদ্ধত্যপূর্ণ বক্তব্য দেন ছয়বারের এই সংসদ সদস্য, যা মামলার রায়েও উঠে এসেছে।

মুসলিম লীগ নেতা ফজলুল কাদের চৌধুরীর ছেলে সালাউদ্দিন সারা দেশে সাকা চৌধুরী নামেই বেশি পরিচিত। রাজনৈতিক জীবনে কয়েকটি দল ঘুরে সর্বশেষ তিনি বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য।

তবে দলের প্রধান খালেদা জিয়া ও তার ছেলে তারেক রহমানকে নিয়ে কটূক্তি করে দলের ভেতরেই সমালোচিত হয়েছেন তিনি।

তারেকের কর্মকাণ্ডে খালেদার নীরব সমর্থনের পরিপ্রেক্ষিতে সাকা বলেন, “আগে কুকুর লেজ নাড়াত, এখন লেজ কুকুরকে নাড়ায়।”

আবার বিএনপি চেয়ারপার্সনকে নিয়ে ‘তালাকপ্রাপ্ত বউয়ের ঘর করি না আমি’-মন্তব্য করেও দলে ক্ষোভের মুখে পড়েন সাকা চৌধুরী।

তার আশালীন ও আপত্তিকর মন্তব্যের শিকার হয়েছেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনাও।

২১ অগাস্ট শেখ হাসিনার ওপর গ্রেনেড হামলায় নিজের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ নাকচ করে তিনি বলেন, “আমি গ্রেনেড মারলে সেটাতো মিস হত না।”

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পরিবারের সঙ্গে নিজের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগের কথা দাবি করে এই বিএনপি নেতা বলেন, “ছাত্রজীবনে শেখ মুজিব আমার বাবার শিষ্য ছিলেন।”

আওয়ামী লীগের একটি মহল প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে তাকে উস্কে দিচ্ছে অভিযোগ করে সালাউদ্দির কাদের বলেন, “ওই মহলটি জানে না যে তারা যে বিলের মাছ, আমি সালাউদ্দিন ওই বিলের বক।”

গত বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার আমলে ওআইসিএর মহাসচিব পদে সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে প্রার্থী করা হয়। এর সমালোচনা করেন আওয়ামী লীগ নেতা সুরঞ্জিত সেন গুপ্ত।

জবাবে সাকা বলেন, “বাবু ওআইসি নিয়ে কথা বলার কে? উনাকে ওআইসি নিয়ে কথা বলতে হলে, আমি ছোট বেলায় যে জিনিসটা কেটে ফেলে দিয়েছি, আগে ওই জিনিসটা কেটে ফেলতে হবে। তারপর বাবুকে ওআইসি নিয়ে কথা বলতে বলেন।”

নারী নির্যাতন বিষয়ে আইন প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলামের একটি বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় সাকা চৌধুরী বলেন, “তিনি কেরানীগঞ্জের একজন প্রমোদ বালক- এটা কি আমি কখনও বলেছি?”

নবম সংসদ নির্বাচনের হলফনামায় শিক্ষাগত যোগ্যতা ‘নেই’ উল্লেখ করেন সাকা চৌধুরী। অসত্য তথ্য দেয়ায় নির্বাচনী আইন অনুযায়ী তার সংসদ সদস্য পদ খারিজের উদ্যোগ নেয় বিগত নির্বাচন কমিশন। সে সময় নির্বাচন কমিশনকে ‘গমচোর’ বলে আখ্যা দেন তিনি।

তার আসনটি শূন্য ঘোষণার জন্য স্পিকারকে অনুরোধ জানালেও আইনি সীমাবদ্ধতার কারণে তা আর এগোয়নি।

একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার চলাকালেও নানা তীর্যক মন্তব্য করেন সালাউদ্দিন কাদের।

গত ১৭ জুন থেকে নিজের প্রথম সাফাই সাক্ষী হিসেবে সাক্ষ্য দেয়া শুরু করেন বিএনপির এই নেতা।

সাক্ষ্যে আদালতে দাঁড়িয়ে তিনি বলেন, “আমার না হলে, ফাঁসি কারো হবে না।”

ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের সাক্ষীদের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে সাফাই সাক্ষীদের সাক্ষ্য দেয়ার আদেশ দেয়ার পর গত ১৩ জুন সালাউদ্দিন কাদের বলেন, “কলকাতার জেলে পাঠাবেন না।”

গত ৩০ জুন নিজের পক্ষে সাফাই সাক্ষ্যে তিনি বলেন, “বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতার ঘোষক হলে আমিও মুক্তিযুদ্ধের সমর্থক।”

সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীকে সাকা বলার যৌক্তিকতা তুলে ধরে গত বছর ২৩ জানুয়ারি প্রসিকিউটর জেয়াদ-আল-মালুম ট্রাইব্যুনালকে বলেন, “সাকা আমাকে হালুম বলেন।”

মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাকা চৌধুরীর যুদ্ধাপরাধ মামলার রায়ে বিচারপতি এটিএম ফজলে কবীর বলেন, সালাউদ্দিন কাদের ছয়বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। কিন্তু বিচার চলাকালে আদালতের প্রতি তার আচরণ ছিল অসম্মানজনক।

তবে এ বিষয়টি রায়ে প্রভাব ফেলেনি বলে উল্লেখ করেন বিচারক।

সময়ের কথায় প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।