|

আট লাখ মার্কিনি বেকার!

us_population.JPG_22207[1]

এক ভয়াবহ সংবাদে যুক্তরাষ্ট্রের অনেক চাকুরীজীবী এখন মহাদুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছে। তাদের সামনে নেমে আসছে সীমাহীন অন্ধকার। অর্থ বরাদ্দ-সংক্রান্ত বিল পাস না হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি সরকারি সেবা খাতের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাচ্ছে (শাটডাউন)। বিশ্বের শীর্ষ অর্থনীতি সমৃদ্ধ দেশটিতে গত ১৭ বছরের মধ্যে এই প্রথম এমন ঘটনা ঘটল।

অপরদিকে বাজেট সংকটে কিছু মার্কিন সেবাখাত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র অপ্রত্যাশিত এক অর্থনৈতিক সংকটে পড়তে যাচ্ছে। এই বিপর্যয়ের ফলে দেশটির কিছু অগুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বেতন বন্ধ হয়ে গেছে ৮ লাখ সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারির।

হঠাৎ বেকার হয়ে যাওয়া এসব সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারির ভবিষ্যৎ কী হবে তা নিয়ে এখন শঙ্কা দেখা দিয়েছে। যদিও দেশটির প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা অতিদ্রুত সময়ে সঙ্কট নিরসন করে বেকার হয়ে যাওয়া এসব শ্রমিকের কাজের ব্যবস্থা করবেন বলে কথা দিয়েছেন।

৩০ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় রাত ১২টার আগপর্যন্ত সংশ্লিষ্ট সেবা খাতগুলোতে অর্থ বরাদ্দ-সংক্রান্ত বিলটি পাস হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু পার্লামেন্টের নিকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদে ক্ষমতাসীন ডেমোক্রেটিক পার্টি ও প্রধান বিরোধী দল রিপাবলিকান পার্টির সদস্যদের মতানৈক্যের কারণে বিলটি আলোর মুখ দেখেনি।

এ বিলটি পাস না হওয়ায় প্রায় ৮ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী ১ অক্টোবর থেকে বেতন পাবেন না। এছাড়াও অচলাবস্থা নিরসনের পর বেতন ছাড় হবে কিনা তারও কোনো নিশ্চয়তা থাকছে না।

সংবাদ মাধ্যমগুলোর ভাষ্যমতে, অর্থবছর শেষ হওয়ায় সেবা খাতগুলোতে নতুন করে অর্থ বরাদ্দের প্রয়োজন ছিল।কিন্তু বিলটি পাস না হওয়ায় দেশটির মহাকাশ গবেষণা সংস্থা (নাসা), জাতীয় পার্ক, পরিবেশ সংরক্ষণবিষয়ক সংস্থাসহ বেশকিছু সেবা সংস্থার অধিকাংশ কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাবে। অবশ্য সামরিক বাহিনী, পুলিশ প্রশাসন, অগ্নিনির্বাপণ কর্তৃপক্ষ ও নিরাপত্তাবিষয়ক সংস্থাগুলোর ওপর এর কোনো প্রভাব পড়বে না।

সংবাদ মাধ্যমগুলো বলছে, বিলটি পাস না হওয়ার কারণ, প্রেসিডেন্ট ওবামার স্বাস্থ্যসেবা সংক্রান্ত আইনটি ‘ওবামা কেয়ার’ নামে পরিচিত বিলটি পাস না করতে অথবা এতে কোনো অর্থ বরাদ্দ না দিতে ওবামার প্রতি আহ্বান জানান রিপাবলিকানরা।কিন্তু ওবামা কেয়ার পাসে ডেমোক্রেটরা অনড় থাকায় এ অচলাবস্থার সৃষ্টি হল।

তবে ৩০ সেপ্টেম্বর রাত ১১টার দিকে অচলাবস্থা নিরসনে আলোচনার প্রস্তাব দেন রিপাবলিকানরা। জবাবে ডেমোক্রেটদের পক্ষ থেকে বলা হয়, এ প্রস্তাব অনেক দেরিতে এল। মধ্যরাতের এ তুঘলকি কাণ্ডের পর সেবা খাতগুলোকে কার্যক্রম বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছে হোয়াইট হাউসের বাজেট অফিস।

সেবা খাতগুলো বন্ধ হওয়ার প্রথম শিকার খোদ মার্কিন আইনসভার অফিসিয়াল টুইটার অ্যাকউন্টটিই। রাত ১২টার পর অ্যাকাউন্টটিতে একটি পোস্ট করে বলা হয়, ‘সরকারি অর্থ বরাদ্দ না পাওয়ায় এ অ্যাকাউন্টটি পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত কার্যকম পরিচালনা করবে না।’

যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলোতে এ নিয়ে হইচই পড়ে গেছে। বিরক্তি প্রকাশ করেছেন মার্কিন নাগরিকরা।এ ঘটনায় প্রেসিডেন্ট ওবামা তার ব্যক্তিগত টুইটার বার্তায় বলেছেন, তারা প্রকৃতই কাণ্ডটি ঘটাল। একটি সঠিক বাজেট পাস করতে না দিয়ে ওবামা কেয়ারের দোহাই দিয়ে রিপাবলিকানরা সরকারকে সেবা খাতগুলো বন্ধে বাধ্য করল।

এদিকে ডেমোক্রেট দলীয় সিনেটর হ্যারি রেইড জানিয়েছেন, এ ব্যাপারে আলোচনা করতে সিনেটে বৈঠক বসেছে। এর আগে ১৯৯৫ ও ১৯৯৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কিছু সেবা খাতের কার্যক্রম স্থগিত করে দেয়া হয়েছিল। ১৯৯৫ সালের ১৪ নভেম্বর থেকে ১৯ নভেম্বর ও ১৯৯৫ সালের ১৬ ডিসেম্বর থেকে ১৯৯৬ সালের ৬ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের অজরুরি সরকারি কর্মকর্তাদের সাময়িক ছুটি প্রদান এবং অজরুরি সেবাগুলো স্থগিত রাখা হয়েছিল।স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও পরিবেশসহ বিভিন্ন সেবা খাতে তহবিল বরাদ্দ নিয়ে ক্ষমতাসীন ডেমোক্রেটিক ও বিরোধী রিপাবলিকান কংগ্রেস সদস্যদের দ্বন্দ্বের কারণে এমনটি হয়েছিল। সে সময় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ছিলেন বিল ক্লিনটন।

-ইন্টারনেট অবলম্বনে মিজান রহমান

সময়ের কথায় প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

মন্তব্য করুন





টুইটারে আমরা

পূর্বের সংখ্যা