কিম অ্যাডোনিজিও-র কবিতা

Filed under: কবিতা,ফিচার |

[কিম অ্যাডোনিজিও (Kim Addonizio)

কবি পরিচিতি

কিম অ্যাডোনিজিও

[কিম অ্যাডোনিজিও (Kim Addonizio) কবি, গল্পকার ও ঔপন্যাসিক।  জন্ম ৩১ জুলাই, ১৯৫৪ সালে, যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডি.সিতে। স্যান ফ্র্যান্সিসকো স্টেইট ইউনিভার্সিটি থেকে বিএ ও এমএ করেছেন। কবিতার বই : Tell Me; Jimmy and Rita; The Philosophers’s Club; What is this Thing Called Love । গল্পগ্রন্থ : In the Box Called Pleasure । উপন্যাস: Little Beauties; My Dreams are Out on the Street   ।  Five Fingers Review   জার্নালের প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক। পুরস্কার: ন্যাশনাল এনডাউমেন্ট ফর আর্টসের ফেলোশিপ, পুশকার্ট প্রাইজ, কমনওয়েলথ ক্লাব পোয়েট্টি মেডেল। কিম গডার্ড কলেজের এমএফএ প্রোগামের শিক্ষক। বসবাস করেন ক্যালিফোর্নিয়ার ওকল্যান্ডে।  ‘Contemporary Authors’  এ  সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন: “Writing is an ongoing fascination and challenge, as well as being the only form of spirituality I can consistently practice. I started as a poet and will always return to poetry—both reading and writing it—for that sense of deep discovery and communion I find there. There are only two useful rules I can think of for aspiring writers: learn your craft, and persist. The rest, as Henry James said, is the madness of art.”]

 

crescent_moon_

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

মা য়া মূ র্তি  তি থি

ভেবে দেখো, বিয়ে টিকে যাচ্ছে এখনও,

পদ্মফুল ফুটছে কালো দানিতে

জলও বিশুদ্ধ আজও।

নারী পুরুষেরা একে অন্যের দিকে তাকায়

সংগমের সময়, প্রস্ফুটিত হয়, দ্যাখে,

আর দ্যাখে ফেরেশতারাও

তাদের প্রছন্ন সুন্দর মুখ খুলে,

যেন কিছু বলার অপেক্ষায়…

কঠিনও নয়, সত্যও নয়।

পুরুষ ও নারী হলো বিস্মৃতি,

ক্ষীণতর হয় অবহেলায়।

ডানা গুটিয়ে ফ্যালে ফেরেশতারা,

দ্রুত নেমে আসে পাথরের মতো।

 

র্যা নচোস দে তাওয়োস-এ আগস্ট

সারাদিন আমি একা।

বিকেলের বজ্রপাতে

পাখিদের স্বর আরও মুখর

বৃষ্টির প্রথম বিন্দুর মতো,

তখন বাইরে যাই পাহাড় দেখতে

কেউ তা জানে না…

যাকে ভেবে মন-ভার হয়, সে-ও নয়,

এই সন্ধ্যায় যে বন্ধুরা ফিরে আসবে তারাও নয়।

বাড়ীর চারপাশে অন্ধকারের প্রলেপগুলো জুড়ে দেয় আকাশ,

ক্ষুদ্র মনে হয় নিজেকে, নিমিত্তহীন;

এমনকি পিঁপড়া, মরচে-মলিন রঙ, ভাঙা পাখনা

টেনে নিয়ে যায় ডাঁশমশা আমার ছায়া বরাবর

সবুজ পাতার ভেতর, কাজ রয়েছে আরও।

হৃদয়কে বলি

শান্ত হতে, সেই খুশি ফিরে আসে

তবে মানতে চায় না কথা।

বলতে চায়, ঝড় আসে আমাদের দিকে,

দু:খ নামের প্রচণ্ড ঝড়,

জানালা ঝাঁপটায়, শূন্য ঘরে।

 

নতুন বছরের দিন

শেষ তুষাপাতের ওপর

সকালের বৃষ্টি ঝরে, ভাসিয়ে নেবে জল বরফের কুচি ।

ঘাসের ঘ্রাণ নিতে পারবো আবার, ছেঁড়া পাতা

দেবে যাবে কাদার ভেতর।

যেটুকু ভালবাসা ছিল

এখনও ঘুমিয়ে আছে পশ্চিম তীরে।

এইখানে, এই ভার্জিনিয়াতে

হেঁটে যাই ঘাসে ছাওয়া বিস্তীর্ণ মাঠে,

সাথী শুধু ছোট ছোট বাছুরগুলো।

নাদুস নুদুস, লজ্জানত।

মনে হয়, তারা সেই স্কুল-বালিকার

মতো, যারা কথা বলতো না,

মাথা নিচু করে থাকতো, হাত রেখে দিতো

আড়াআড়ি নতুন স্তনের ওপর। সেই মেয়েরা

এখন চল্লিশ প্রায়। আমার মতো তারাও

জানালার ধারে দাঁড়ায় কখনও, নিশ্চয়ই।

নীরব ব্যাক-ইয়ার্ড, ধুলিমলিন লন-চেয়ার আর

পাশের বাড়ীর দেয়ালের দিকে তাকায়।

শুয়ে থাকে কোনো কোনো বিকেলে,

খুব কাঁদে, সবচেয়ে সুখী যারা করেছিল

তাদের ভেবে, আর কীভাবে তাদের জীবন

এমন বয়ে আনলো কোনো ব্যাখ্যা ছাড়াই।

জানি না, কেন হাঁটছি কালো হয়ে আসা কোট পরে

দেবে যাওয়া জুতো নিয়ে, উঠে আসছি প্রিয়

মৃদু মধু আহরণের শব্দে। কী হবে জেনে

সেইসব মেয়েরা আজ কোথায়। যা খুশি নিতে পারে তারা।

কিছু নেই সমাধা করার।

হিমে আরেকটু হাঁটতে চাই আমি, বৃষ্টির আশীষে,

মুখ তুলে জলের দিকে।

 

অনুবাদকের পরিচিতি

জন্ম  ৬ মার্চ,  ১৯৭০। যশোর জেলার মণিরামপুর উপজেলার হানুয়ার গ্রামে। নানাবাড়িতে।  পৈত্রিক নিবাস, ঝিকরগাছার বললা। পড়াশোনা : বললা প্রাইমারি স্কুল, রাজগঞ্জ হাই স্কুল, শার্শা পাইলট হাই স্কুল, যশোর  এবং এডওয়ার্ড ইনস্টিটিউশন ও আনন্দমোহন কলেজ, ময়মনসিংহ। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা থেকে ইংরেজি সাহিত্যে বিএ অনার্স ও মাস্টার্স । কম্পিউটারাইজড একাউন্টিং পড়েছেন নিউইয়র্ক সিটির ‘ড্রেইক বিজনেস স্কুল’-এ। কবিতা লেখা, ইংরেজি থেকে অনুবাদ, গল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ ও সমালোচনাসহ সাহিত্যের বিভিন্ন শাখায় রেজা নুর-এর বিচরণ। প্রকাশিত বই নয়টি। ১৯৯৬ সালের ১৬ নভেম্বর থেকে আমেরিকায় বসবাস করছেন।

সময়ের কথায় প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।