|

সাক্ষাৎকারে ডাঃ কাজী রুমানা শারমিন রুমি

teeth

দাঁত আমাদের দেহের একটি গুরুত্ব ও মূল্যবান একটি  অংশ। দাঁতের যত্নের অবহেলায় দেখা দিতে পারে নানারকম কঠিন সব অসুখ-বিসুখ । অপরদিকে আমরা অনেকেই অনেক সময় নানা সমস্যায় দাঁতের যন্ত্রণাতেও  ভুগে থাকি। দাঁতের যত্ন, রোগ ও এর চিকিৎসা সময়ের কথা’র মুখোমুখি হয়েছিলেন ঢাকার  ল্যাব এইড ডেন্টাল ক্লিনিকের সার্জন ডাঃ কাজী রুমানা শরমীন (রুমি)

সময়ের কথা’র পাঠকদের জন্য সাক্ষাৎকারটি গ্রহণ করেছেন শাহারিয়ার কাবির তুষার 

 

 

প্রশ্ন – কোন বয়সের রোগীদের দাঁতের সমস্যা নিয়ে বেশী আসেতে দেখা যায়?

উত্তর – সাধারণত সব বয়সের রোগীরাই আমাদের এখানে চিকিৎসা নিতে আসেন। তবে  কলেজ স্টুডেন্ট এবং মধ্য বয়সী রোগীর সংখ্যা তুলনা মূলকভাবে বেশী । এদের মধ্যে শিমুরাও রয়েছে।

প্রশ্ন – শিশুদের চকলেট জাতীয় খাবার খাওয়ার প্রবনাতা বেশী । তাতে করে দাঁতের কি ধরনের সমস্যা  হতে পারে ?

উত্তর- বাচ্চা কিংবা শিশুদের চকলেট বা মিষ্টি জাতীয় খাবার খেলে সাধারণত তেমন  কোন সমস্যা হয় না। এজন্য বাবা-মায়েদের  উচিত সন্তানদের চকলেট কিংবা মিষ্টি জাতীয় খাবার খাওয়ার পর মুখ এবং দাঁত ভালভাবে পরিষ্কার করে দেয়া । আর এটা না করলেই দাঁতের ক্যারিজ বা দন্তক্ষয় হওয়ার আশংকা বেশী থাকে।

 প্রশ্ন- শিশুদের দাঁতের কি ধরনের সমস্যা বেশী দেখা যায় ? সমস্যা হলে কি করা উচিৎ ?

উত্তর – শিশুদের প্রধানত যারা   Breast feeding কিংবা  Bottle feeding করে (বিশেষ করে রাতের বেলা)তাদের মধ্যে Nursing bottle cerise বা  Resonant cariesসব চেয়ে উল্লেখযোগ্য। এখানেও  প্রতিবার দুধ খাবার পর এবং অন্যান্য খাবার খাওয়ার পর Normal পানি খাওয়াতে হবে এবং কুলি করালে দাঁতের সমস্যা হবে না । এর পরও যদি সমস্যা দেখা দেয়, তবে যতো দ্রুত সম্ভব ডেন্টিস্ট এর সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

প্রশ্ন- আমাদের দাঁতের কি কি সমস্যা  বেশী পরিলক্ষিত হয়?

উত্তর- দাঁতে আমাদের মূলত যে সমস্যাগুলি বেশী পরিলক্ষিত হয় তাঁর মধ্যে ডেন্টাল  ক্যারিজ বা দন্তক্ষয়,দাঁতের পাথর বা ক্যালকুলাস, পেরিওডেন্টাইটিস এবং টিন এজাদের আক্কেল দাঁত বা উইন্সডোম টুথের সমস্যা।

প্রশ্ন অনেক সময় ঠাণ্ডা জাতীয় খাবার খেলে দাঁত শিরশির করে। এটা কেন হয়?।

উত্তর- সাধারণত বয়স হলে Gum line স্বাভাবিক অবস্থার চেয়ে অনেকখানি নেমে যায় । যার ফলে ডেন্টিনএক্সপোসড্ হয়ে যায়। আর এনামেল হলো দাঁতের উপরের বহিরাবরন  যাতে কোন অনুভূতি থাকে না কিন্তু ডেন্টিনে অনুভূতি বোঝার ব্যাবস্থা রয়েছে। ফলে বয়সের কারনেই হোক বা সঠিক নিয়মে ব্রাশ না করার কারনেই হোক অথবা   Over Brushing এর জন্যই হোক এনামেল ক্ষয় হলেই  Gum line নিচে নামে আসে আর তাতেই দাঁত শিরশির করা শুরু করে।

প্রশ্ন -কখন ফিলিং/ রুট ক্যানেল করার প্রয়োজন পড়ে?

উত্তর- স্বাভাবিক Cerise এর  ক্ষেত্রে শুধুমাত্র Filling কিংবা Restoration  করালেই হয়। কিন্তু Cerise -এর সমস্যাটি দীর্ঘদিন থাকলে এর Cavity Deep হয়ে দাঁতের মজ্জা বা Pulp এ আক্রান্ত  হয়। আর তখনি  Root Cannel Treatment করার প্রয়োজন পড়ে ।

 প্রশ্ন- দাঁতের সাথে ডায়বেটিসের সম্পর্ক কি?

উত্তর- ডায়বেটিস এমন একটি রোগ যেখানে শরীরের ইমিউনিটি ক্ষমতা অনেকখানি কমে যায়। সেক্ষেত্রে অন্যান্য অঙ্গের সাথে সাথে দাঁতের মূলেরও নানা ধরনের সমস্যা দেখা দেয়। যার মধ্যে ডায়াবেটিক পেরিওডেন্টাইটিস প্রধান। এছাড়া মুখে নানাধরনের  ঘা বা ক্ষত হতে পারে।এগুলো Uncontrolled ডায়াবেটিকের সাথে প্রত্যক্ষ্যভাবে জড়িত।

প্রশ্ন- খাবারে ভেজাল দাঁতের কি ধরনের সমস্যা করে?

উত্তর – খাবারে ভেজাল যেহেতু একটি অন্যতম সমস্যা সেহেতু এটা ছোট বড় সবার দাঁতে সমস্যা দেখা দিতে পারে। এতেকরে সঠিক পুষ্টির অভাবে দাঁতের ও হাড়ের গঠন বাধাগ্রস্থ হয়। তাই আমাদের প্রচুর পরিমাণে ভেজালমুক্ত শাকসবজি খেতে হবে।

প্রশ্ন- অনেকের ধারনা ফিলিং , রুট ক্যনল  অথবা  স্কেলিং করালে  দাঁত সহ চোখের বা মস্তিষ্কের ক্ষতি হবে- আপনার মতামত কি?

উত্তর- পূর্বে  Filling কিংবা Restoration- এর জন্য সারা পৃথিবীতে  silver Amalgal alloy এর সাথে  mercury  ব্যবহার করা হতো ।যার strength  দাঁতের চেয়ে অনেক বেশী । যার ফলে deep cavity তে তা ব্যবহার করলে যদি কোন কারণে ওই  দাঁতে চাপ পড়ে তাতে খুব একটা  ভেঙ্গে যাবার সম্ভাবনা থাকে না ।তাই বর্তমানে এই সমস্যার জন্য এই Filling ব্যবহার প্রায় বন্ধ। কিন্তু বর্তমান সময়ে GI,LIGHT CUFE FILING, COMPOSITE FILING এ সমস্যা একদম নেই। রুট ক্যানেল  এর  উদ্দেশই হোল, যে  কোন মূল্যে  দাঁত কে বাঁচানো । রুট ক্যানেল করার পর সাধারণত  দাঁত ফেলে দাওয়ার প্রয়োজন পড়ে না। তাই একমাত্র দক্ষ ডাক্তার দ্বারা রুট ক্যানেল করানো উচিৎ। অন্যদিকে মানুষের চোখ ,মস্তিষ্ক নিয়ে যে ধারনা রয়েছে  সেটা একদম সঠিক নয়।   কেননা চোখ,মস্তিস্ক এবং দাঁতের nerve supply-এর রুট একদম আলাদা।

প্রশ্ন- দাঁতের সঙ্গে শরীরের কোন অংশ বেশী গুরুত্বপূর্ণ ?

উত্তর- দাঁতের সঙ্গে শরীরের  যে অংশ বেশী গুরুত্বপূর্ণ সেটা হল হৃদপিণ্ড । কেননা  দাঁতে যে ব্যাকটেরিয়া থাকে তাদের সবচেয়ে পছন্দের জায়গা হৃদপিণ্ডের এডোকাডিয়ান। তাই যে সমস্ত রোগীরা ছোটবেলায়  Rheumatic  Fiber ছিল তাদের ক্ষেত্রে Antibiotic coverage অবশ্যই  নিতে হবে। এছাড়া যে সকল রোগীরা রক্ত তরল রাখার ঔষধ  যেমন Ecosprine,  zlopidogral, জাতীয় ঔষধ সেবন করেন তাদেরও অবশ্যই ডেন্টাল চিকিৎসা নেবার পূর্বে  ডাক্তারের পরামর্শ নিতে  হবে।উচ্চ রক্তচাপ ,কিডনি রোগীগনও অবশ্যই তাঁর ডেন্টিস্ট কে তাঁর সমস্যা সম্পর্কে অবহিত করবেন

 

দাঁতসুস্থ ও সবল  রাখার পরামর্শ

১। নিয়মিত সকালে নাস্তা খাবার পর ও রাতে শোবার পূর্বে  ব্রাশ করা।

২। সঠিক নিয়মে উপর-নীচ  করে দাঁত ব্রাশ করা। সামনে পিছনে ঘষে নয়।

৩। ব্রাশের পূর্বে ডেন্টাল Floss  ব্যবহার করা ।

৪।ক্যালসিয়াম, ভিটামিন-সি Zn-সহ অন্যান্য পুষ্টিসম্পন্ন  শাকসবজি গ্রহণ করা।

৫। Soft Drinks, Chocolates ও অন্যান্য Fast Food ,মিষ্টি জাতিয় খাবার খাবারপর মুখ ভালভাবে ধুয়ে পরিষ্কার  করা।

৬। যাদের Acidity সমস্যার জন্য মুখে দুর্গন্ধ হয় তাদের Gastro anthologist এর শরণাপন্ন হওয়া।

৭।প্রতি ৩ মাস অন্তর অন্তর  ব্রাশ পরিবর্তন করতে হবে।

৮। প্রতি ৬ মাস অন্তর অন্তর দাঁতের ডাক্তারের কাছে যেতে হবে।

 

 

 

 

সময়ের কথায় প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

মন্তব্য করুন





টুইটারে আমরা

পূর্বের সংখ্যা