৯ জন বিশ্বনেতা, উঠতি বয়সে কে কেমন ছিলেন

Filed under: জাতীয়,ফিচার |

বিশ বছর বয়স মানে উঠতি যুবক বয়স। এই বয়সে বেশীরভাগই থাকে চাকুরিবিহীন, নিজের প্রতি আত্মবিশ্বাসের ঘাটতিও দেখা যায় অনেকসময়। এখন আধুনিক যুগে হয়তো অনেকে সারাদিন ইন্টারনেটেই পড়ে থাকে। কখনো কি আপনার মনে হয়েছে, বর্তমান বিশ্বের যে নয় জন প্রভাবশালী নেতা রয়েছেন, তারা কি করতেন তাদের বিশ বছর বয়সে? চলুন জেনে নেয়া যাক।
obama

বারাক ওবামা, আমেরিকার প্রেসিডেন্টঃ

কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয় পলিটিক্যাল সায়েন্স থেকে স্নাতকত্ব লাভ করার পর ওবামা শিকাগোতে চলে আসেন। ১৯৮৮ সালে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ল’স্কুলে যোগদান করার আগে ওবামা নানা জায়গায় ঘুরে বেড়িয়েছেন, বিশেষ করে কেনিয়াতে তাঁর আত্মীয়ের বাসায় তিনি বেশ কিছুদিন ছিলেন। এর আগে ওবামা তাঁর টিনএজ জীবনের দু’বছর কাটিয়েছিলেন লস অ্যাঞ্জেলেসের অক্সিডেন্টাল কলেজে। সেখানে তিনি অ্যালকোহোল, মারিজুয়ানা, কোকেইন ইত্যাদি নেশা জাতীয় দ্রব্য বহন করার অভিযোগে অভিযুক্ত হন!

ভ্লাদিমির পুতিন, রাশিয়ার প্রেসিডেন্টঃ

vladimir-putin

পুতিন কলেজ শেষ করার আগেই গোয়েন্দা বিভাগের প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠেছিলেন। লেনিনগ্রাদ বিশ্বিবিদ্যালয়ের ল’ডিপার্টমেন্ট থেকে ডিগ্রী নেয়ার পরে তিনি কিছুদিন সিকিউরিটি এজেন্সীতে কাজ করেছেন। এরপর বিভিন্ন ধাপ পার হয়ে তিনি তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের কাউন্টার ইন্টেলিজেন্সীতে যোগদান করেন। তবে পুতিনের জীবনের অতীত অনেকটাই চেপে যাওয়া হয়েছে যখন পুতিন রাশিয়ার সরকার প্রধান হন!

অ্যাঞ্জেলা মার্কেল, জার্মানীর প্রথম নারী চ্যান্সেলরঃ

markel-angela

মার্কেল ১৯৭৪ সালে ২০ বছর বয়সে প্রেমে পড়েন লেইপজিগ বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থ বিজ্ঞানের ছাত্র আলরিখের সাথে। ১৯৭৭ সালে তারা বিয়েও করেন। তবে এ সম্পর্ক ভেঙে যায় ১৯৮২ সালেই। মার্কেল ১৯৯৮ সালে বার্লিন বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিজ্ঞানের অধ্যাপক জোয়াকিমের সাথে আবার বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াকালীন মার্কেল একবার ভদকা পানের অপরাধে শাস্তি পেয়েছিলেন!

বাসার আল আসাদ, সিরিয়ার প্রেসিডেন্টঃ

basar-al-asaad

২০ বছর বয়সে আসাদ দামেস্ক বিশ্ববিদ্যালয়ে ডাক্তারী পড়তে ভর্তি হয়েছিলেন, তাঁর ইচ্ছেই ছিলো ডাক্তার হওয়া। সেখান থেকে ১৯৮৮ সালে পাশ করে তিনি কিছুদিন সিরিয়ার মিলিটারী হসপিটালে ডাক্তারী করেন। আসাদের রাজনীতিতে আসার কোনো পরিকল্পনাই ছিলো না, এমনকি তিনি লন্ডনে গিয়ে কিছুদিন ছিলেন রাজনীতি থেকে দূরে থাকার জন্য। কিন্তু, আসাদের বড় ভাই বাসেল গাড়ি দূর্ঘটনায় মারা গেলে তৎকালীন সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আসাদের বাবা হাফিজ আল আসাদের অনুরোধে তিনি রাজনীতিতে যুক্ত হন।

বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু, ইস্রায়েলের প্রেসিডেন্টঃ

banjaminnetaniyaho

নেতানিয়াহু ইস্রায়েলি মিলিটারীতে যোগদান করেন ২০ বছর বয়সের আগেই। ১৯৭২ সালে ইস্রায়েল থেকে যাত্রীবাহী বিমান হাইজ্যাক হলে সেটার উদ্ধার তৎপরতা মিশনে ছিলেন নেতানিয়াহু। ২০ বছর বয়সের পরে নেতানিয়াহু আমেরিকা চলে যান, সেখানে আর্কিটেকচার এবং ব্যবসার উপরে পড়াশোনা করেন। ৩০ বছর বয়সের আগ দিয়ে তিনি পুনরায় ইস্রায়েলের স্পেশ্যাল ফোর্সে যোগদান করেন এবং সিরিয়ায় কিছু কমান্ডো অপারেশনে নেতৃত্ব দেন।

ডেভিড ক্যামেরন, যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রীঃ

davidcameroon

অক্সফোর্ডের ব্রাসেনোস কলেজ থেকে ফার্স্ট ক্লাস অনার্স ডিগ্রী নিয়ে ক্যামেরন কঞ্জার্ভেটিভ পার্টিতে পাঁচ বছর গবেষক হিসেবে যোগদান করেন। পাঁচ বছর সফলভাবে গবেষণার ফলে পার্টির কেন্দ্রীয় পর্যায় তাঁকে পুরস্কৃত করে। কথিত আছে ক্যামেরন বুলিংডন ডাইনিং ক্লাবের সদস্য ছিলেন যারা প্রচুর পরিমাণে মদ্যপান করতো এবং যথেষ্ট খারাপ ব্যবহার করতো, যদিও ক্যামেরন এ বিষয়ে কখনও মুখ খোলেননি।

কিম জং আন, নর্থ কোরিয়ার সুপ্রিম লিডারঃ

kimjonung

জং আন এর অতীত জীবন সম্পর্কে তেমন কিছুই জানা যায় না। তিনি মিলিটারিতে জয়েন করেছিলেন তাঁর বাবার ইচ্ছেতেই। বাবার মৃত্যুর পর তিনি জেনারেল পদে উন্নীত হন এবং সেন্ট্রাল কমিটির ডেপুটি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ৩০ বছর বয়সেই তিনি পাকাপাকিভাবে দেশের রাজনীতিতে যুক্ত হয়ে পড়েন। কিম জং শিকাগো বাস্কেটবল টীম বুলসের ছিলেন ডাই হার্ড ফ্যান, এবং তাঁর প্রিয় খেলোয়াড় ছিলো ডেনিস রডম্যান। ২০১২ সালে যখন রডম্যান তাঁর দলবল নিয়ে নর্থ কোরিয়া সফর করেন, তাঁর সাথে দেখাও করেন কিম।

হাসান রুহানী, ইরানের প্রেসিডেন্টঃ

hasanrouhani

রুহানী তাঁর নিজের উপার্জিত অর্থ দিয়েই তেহরান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে জুডিশিয়াল ল এর উপর ডিগ্রী নিয়েছিলেন। ইরানে শাহ এর শাসনামলে রুহানী আয়াতুলাহহ খোমেনীর পক্ষ হয়ে বেশ কয়েকবার গ্রেফতার হয়েছিলেন। রুহানী স্কটল্যাণ্ডে পড়াশোনা করেছেন, তিনি ফরাসী, ইংলিশ, এবং আরবী ভাষায় পরিষ্কার উচ্চারণে কথা বলতে পারেন। ফ্রেঞ্চ, জার্মান এবং রাশিয়ান ভাষাও তাঁর বেশ আয়ত্বে আছে!

ঝি জিংপিং, চীনের প্রেসিডেন্টঃ

xin-jin-bing

২২ বছর বয়সের আগে ঝি কৃষকের কাজ করতেন! পরবর্তীতে ঝি বেইজিংয়ের তিঘুয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কেমিক্যালি ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ওপর ডিগ্রী নেন। মার্ক্সবাদের ওপরেও ঝি পড়াশোনা করেছেন। -সৌজন্যে: দি ঢাকা টাইমস।

সময়ের কথায় প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।