|

ভ্রমণপিপাসুদের হাতছানি দিয়ে ডাকছে “সাজেক ভ্যালী”

sajek0

সাফাত জামিল শুভ: আকাশের মেঘগুলো যেন উড়ে উড়ে এসে বসেছে পাহাড়ের এক একটা কোলে। আর সকাল-সন্ধ্যা প্রায় সময়ই মেঘের খেলা যা সাজেকের সবচেয়ে অন্যতম আকর্ষণ। আপনার চোখ যেদিকে যাবে, দেখবেন শুধুই মেঘ আর রংয়ের খেলা। আর আপনি যদি সর্বোচ্চ চূড়া থেকে নিচে দূরের গ্রামগুলোর দিকে তাকান তাহলে মনে হবে পটে আঁকা যেন এক আধুনিক কোনো ছোট্ট শহর!

বদলে যাওয়া সাজেকের মানুষের মাঝেও এসেছে এক অনন্য পরিবর্তন। এই বদলে যাওয়াকে অনেক স্থানীয় লুসাই ও ত্রিপুরাদের ইতিবাচক হিসেবে দেখলেও কারও কারও আছে ভিন্ন ভিন্ন মত। সবচেয়ে যা দেখবেন রাতের সাজেক যা আপনাকে অনেক সুন্দর একটা দৃশ্য দিবে। বিদ্যুৎ নেই তবুও সোলারের মাধ্যমে এখানে চলে সবকিছু।

সকালে ঘুম থেকে উঠে চোখ খুললেই মনে হবে, মেঘের চাদরে ঢাকা রয়েছে এই সাজেক। এই মধুর পাহাড়ের উঁচু থেকে মেঘে মেঘে লাফ দিতে ইচ্ছা করতে পারে যে কারোর! প্রাকৃতিক নিসর্গ সাজেক পর্যটকদের হাতছানি দিয়ে ডাকছে। পর্যটনবান্ধব সাজেক প্রতিষ্ঠায় সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে গত কয়েক বছরের প্রচেষ্টার ফসল আজকের সাজেক।সাম্প্রতিক সময়ে ভ্রমণ পিপাসু মানুষদের কাছে যে কয়টি ভ্রমণ গন্তব্য সবচেয়ে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে তার মধ্যে অন্যতম হল রাঙামাটি জেলায় অবস্থিত সাজেক ভ্যালী।

sajek4প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য্যের এক অনন্য আঁধার আমাদের মাতৃভূমি রূপসী বাংলা । আমরা বিভিন্ন দেশের গ্রীন ভ্যালী দেখতে যাই বা দেখার স্বপ্ন দেখি। কিন্তু আমাদের দেশেও আছে তেমনই এক অপরূপা গ্রীন ভ্যালী, যার নাম সাজেক ভ্যালী। আকাঁবাকা পাহাড়ী পথ বেয়ে মেঘের রাজ্যের ভিতর দিয়ে সাজেক যাওয়া সত্যিই অসাধারন। সাজেক রাঙ্গামাটি জেলার সর্ববৃহৎ ইউনিয়ন। সাজেক যদিও রাঙ্গামাটি জেলায় অবস্থিত তবে যাতায়াতের সহজ পথ খাগড়াছড়ি-দিঘিনালা রোড। রাঙামাটির অনেকটা অংশই দেখা যায় সাজেক ভ্যালি থেকে। খাগড়াছড়ি থেকে ৬৯ কি.মি. এবং বাঘাইছড়ি উপজেলা থেকে ৩০ কি.মি. দুরের সাজেকের পুরোটাই পাহাড়ে মোড়ানো পথ। প্রকৃতির এই রুপ যেন রাঙামাটির ছাদ! নয়নাভিরাম অরণ্যভূমি আর পাহাড়ের বন্ধনে যেখানে মেঘের দল প্রেমে মেতে থাকে।

sajekখাগড়াছড়ি থেকে সাজেক যেতে পরবে বেশ কিছু পাহাড়ী বাজার যেখানে সকালের নাস্তা খাওয়া যাবে। এর মধ্যে বাঘাইহাট বাজার, মাছালং বাজার অন্যতম। মাছালং বাজার এলাকা সাজেক ইউনিয়নের প্রধান কেন্দ্রস্থল। এখান থেকে সাজেকের দূরত্ব ১৮ কি.মি.। পাশের সীমান্ত ঘেঁষা ভারত থেকে আসা মাছালং নদীর অববাহিকায় গড়ে উঠেছে এই বাজার। যাওয়ার পথে দেখা যাবে পাহাড়ী লোকালয়, ঝুম চাষ, বিভিন্ন নদী, আর্মি ও পুলিশ ক্যাম্প। এর বাইরে পুরোটা পথ জুড়ে সবুজ পাহাড়, যা নিজেকে আবৃত করে রাখে কুয়াশার নরম চাদরে। কুয়াশার ঘনত্ব ভেদ করে মাঝে মাঝে গাড়ি চালানো বেশ কষ্টকর হয়। যাওয়ার পথে মোট চারটি আর্মি ও পুলিশ ক্যাম্প এ রিপোর্ট করতে হবে।

রুইলুই পাড়া সাজেক উপত্যকার মূল কেন্দ্র। সাজেক ভ্যালীর বিজিবি ক্যাম্প থেকে ১ কি.মি. আগে রুইলুই পাড়ায় লুসাই, পাংখোয়া, ত্রিপুরা জনগোষ্ঠীর বসবাস। পাড়ার সবগুলো বাড়ির রং লাল-সবুজ। এছাড়া সাজেক থেকে ২০/২৫ মিনিটের হাঁটা পথ কংলাক পাড়া। পাংখোয়াদের বসবাস এখানে। সব মিলিয়ে ১০ টি পরিবারের ১০০ সদস্যের বসবাস হবে। বিশাল পাথরখণ্ডের পাদদেশেই কংলাক পাড়ার অবস্থান। কংলাকের পাথরচূড়ায় দাঁড়িয়ে পুরো সাজেক উপত্যকা চমৎকারভাবে এক নজরে দেখা যায়। কংলাক পাড়া রাঙ্গামাটি জেলার অন্যতম উচ্চতম স্থান, যার উচ্চতা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ২০০০ ফিট উপরে। কংলাক পাড়া থেকে আকাশ পরিষ্কার থাকলে ভারতের লুসাই পাহাড় দেখা যায়। এই লুসাই পাহাড় থেকে বাংলাদেশের কর্ণফুলী নদীর উৎপত্তি হয়েছে যা রাঙ্গামাটি হয়ে চট্টগ্রামের ভিতর দিয়ে এসে বঙ্গোপসাগড়ের সাথে মিলেছে।

এই সাজেকে একসময় যেখানে বিশ্রামের ব্যবস্থা ছিল না, ছিল পানির কষ্ট। এখন সবকিছুই হাতের নাগালে। আর পর্যটকদের ভিড়ও রয়েছে চোখে পরার মতো। সাজেকের মূল কেন্দ্র রুইলুইতে পানির সংকট দূর করতে নির্মিত হয়েছে জলাধার। চালু করা হয়েছে ‘পাহাড়ি রেস্তোরাঁ’।

রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী সাজেক সফরে এসে মুগ্ধ হয়ে এ স্থানটিকে আরো বেশী দৃষ্টিনন্দন ও সর্বসাধারণের জন্য সহজতর করতে গ্রহণ করেছেন নতুন প্যাকেজ। রাষ্ট্র প্রধানদের সে প্যাকেজ’কে বাস্তবে রূপ দিতে অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর চট্টগ্রামস্থ ২৪ পদাতিক ডিভিশনের সদস্যরা।

sajek2মনোমুঙ্কর অত্যাধুনিক দুটি রিসোর্ট নির্মাণ করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। এই দুটিতেই রয়েছে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণের বিশেষ সুবিধা। এছাড়াও বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা (এনজিও) আলোর উদ্যোগে ‘আলো রিসোর্ট’ ইতোমধ্যে চালু।

ইতিমধ্যে আবার অনেক ভ্রমণ পিপাসু মানুষ বলছেন ‘বাংলাদেশের সাজেক নাকি ভারতের দার্জিলিং’।

খাগড়াছড়ি জেলা শহর থেকে দীঘিনালা হয়ে যেতে হয় সাজেকে। পার্বত্য জেলা রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার হচ্ছে এই সাজেক ইউনিয়ন যাকে দেশের বৃহত্তম ইউনিয়নও বলা হয়ে থাকে। এটি দীর্ঘ ৬৭ কিলোমিটার পাহাড়ি সড়কে যেতে যেতে লাগবে এক অন্যরকম আনন্দ। মুক্ত বাতাস আর প্রকৃতির নিদর্শন আর আঁকাবাঁকা মসৃণ সড়কের দুই ধারে তাকাতেই যেন এমন ভরে যায় সব মানুষের। আর ঐতিহ্যবাহী চাঁদের গাড়িতে ঝুলে সাজেক যেতে তো মজায় আলাদা। কাচালং নদী অতিক্রম করে দীর্ঘ ভ্রমণে মুহূর্তের জন্যও খারাপ লাগে না। ২/৩ ঘণ্টার এই ভ্রমণে সাজেক উপত্যকা উঠার আগে ঝরনায় গা ভিজিয়ে নেওয়া যায়। এক সময়ের কমলার জন্য বিখ্যাত সাজেকে এখনো মিষ্টি কমলা পাওয়া।সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে এর উচ্চতা ১৮০০ ফুট।সাজেকে মূলত লুসাই,পাংখোয়া এবং ত্রিপুরা আদিবাসী বসবাস করে।সাজেক থেকে ভারতের মিজোরাম সীমান্তের দুরত্ব ১০ কি.মি.।কমলা চাষের জন্য বিখ্যাত সাজেক।

sajek3সাজেক এমন একটি জায়গা যেখানে ভাগ্য ভাল হলে ২৪ ঘণ্টায় আপনি প্রকৃতির তিনটা রূপই দেখতে পারবেন । কখনো খুবই গরম একটু পরেই হটাৎ বৃষ্টি এবং তার কিছু পরেই হয়তো চারদিকে ঢেকে যাবে কুয়াশার চাদরে । রাতে এই দুর্গম পাহাড়ের চুড়ায় যখন সোলারের কল্যাণে বাতি জ্বলে উঠে তখন সৃষ্টি হয় অসাধারণ এক পরিস্থিতি । অনেক বাচ্চারা রোড লাইটের নিচে বই নিয়ে বসে পড়ে অথবা ঐ টুকু আলোর ভিতরেই খেলায় মেতে উঠে । সাজেকে ৩টা হ্যালি প্যাড আছে ৩টার সৌন্দর্য তিন রকম । এছাড়া রুইলুই পারা হতে হেটে আপনি কমলং পারা পর্যন্ত যেতে পারেন এই পারাটিও অনেক সুন্দর এবং অনেক উচুতে অবস্থিত । কমলার সিজনে কমলা খেতে ভুলবেন না । সাজেকের কমলা বাংলাদেশের সেরা কমলা । বাংলাদেশ আর্মিদের দারা রুইলুই পারার অধিবাসীদের জন্য একটা ছোট তাত শিল্প গরে তোলা হয়েছে । সুন্দর সুন্দর গামছা ,লুঙ্গী পাওয়া এখানে। দার্জিলিং এর প্রতিচ্ছবি রাঙামাটির’র এ সাজেক ভ্যালী। বাংলাদেশ ও ভারতের মিজোরাম সীমান্তের কূল ঘেঁষা অপার সম্ভাবনার জনপদ সাজেক ভ্যালীতে বসে নিজেকে উজাড় করে দিয়ে প্রকৃতির খুব কাছাকাছি থেকে এক খণ্ড সময় কাটায় প্রকৃতি প্রেমিকরা। তাদের হৃদয় ও মন ছুঁয়ে যায় নৈসর্গিক এ স্থানটির রূপ-লাবণ্যে। মেঘাচ্ছন্ন দিনে সাজেক আরো বেশী দৃষ্টিনন্দন ও অপরূপ হয়ে উঠে। সাজেকের সৌন্দর্য্যতা ভ্রমণ পিপাসু যে কাউকেই মুগ্ধ করবে অনায়াশে।

কিভাবে যাবেন:

চট্টগ্রাম টু সাজেকঃ চট্টগ্রাম থেকে শান্তি পরিবহনে দীঘিনালা। সেখান থেকে মোটর সাইকেল কিংবা জীপে করে ৪৫ কিলোমিটার দূরে সাজেক। ঢাকা থেকে খাগড়াছড়ি পর্যন্ত শ্যামলী, শান্তি, ইউনিক, সৌদিয়া ও এসআলম পরিবহনের বাসও রয়েছে।

ঢাকা টু খাগড়াছড়িঃ বাসে করে ঢাকা থেকে খাগড়াছড়ি যেতে হবে। নন-এসি বাস ৫২০ টাকা (শ্যামলী, শান্তি পরিবহন, ঈগল, ইকোনো, এস আলম ইত্যাদি), এসি বাস ৮০০ টাকা (একমাত্র সেন্টমার্টিন পরিবহন)। ঢাকা থেকে বাস ছাড়ে সকালে ও রাতে (১১.০০ টায়) এবং খাগড়াছড়ি থেকে বাস ছাড়ে সকালে ও রাতে (৯.০০ টায়)। ঢাকা থেকে খাগড়াছড়ি যেতে সময় লাগবে রাতে ৭/৮ ঘন্টা এবং দিনে ৮/১০ ঘন্টা।

খাগড়াছড়ি টু সাজেকঃ খাগড়াছড়ি শহড়ের শাপলা মোড় থেকে চান্দের গাড়ী/ সিএনজি রিজার্ভ করে সাজেক যাওয়া যাবে। এছাড়াও নিজস্ব মাইক্রো বা কার নিয়েও যাওয়া যাবে। সময় লাগবে সবমিলিয়ে ৩ ঘন্টা। চান্দের গাড়ী ভাড়া ৫০০০/৬০০০ টাকা (দরদাম করতে হবে), সিএনজি ভাড়া ৩০০০/৪০০০ টাকা (সিএনজিতে না যাওয়াই ভাল কারন প্রকৃতি ভালভাবে দেখা যাবে না)। যাওয়ার পথের সৌন্দর্য্য উপভোগ করতে হলে চান্দের গাড়ীর ছাদে বসে যেতে হবে। সেই ক্ষেত্রে সাবধানে ধরে বসতে হবে। একটি চান্দের গাড়ীতে অনায়াসে ১২ জন যেতে পারবেন।

রাস্তার দু’ধারে-চোখে পড়বে উপজাতীয়দের বসত বাড়ী, মাচাং ঘর ও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী জাতিসত্তার বিচিত্রময় জীবন ধারাসহ আরো কত কি! চড়াই উতরাই পেরিয়ে আপনি যখন রুইলুই এ পৌঁছাবেন ততক্ষণে আপনি সাজেক ভ্যালীতে পৌছে যাবেন। সাজেকে প্রবেশের সাথে সাথে আপনার চারপাশ যেন মুর্হুতে পরিবর্তন হয়ে যাবে।

কোথায় থাকবেন: 

সাজেকে সেনাবাহিনী ও বিজিবি পরিচালিত দুইটি রিসোর্ট রয়েছে। এছাড়া বেসরকারি সংস্থা আলো’র একটি রিসোর্ট আছে। কম টাকায় কটেজেও রাতযাপন করা যাবে।

সাজেকে রাতে থাকতে চাইলেঃ-

সাজেকে রাতে থাকতে হলে ঢাকা থেকে থাকার জায়গা বুকিং দিয়ে যেতে হবে নতুবা থাকার জন্য ভাল যায়গা নাও পেতে পারেন। অন্তত মাস খানেক আগে বুকিং দিলে ভাল রুম পেতে পারেন। থাকার জন্য যেসব রিসোর্ট বা জায়গা আছে তা হলোঃ

১) সাজেক রিসোর্ট (রুইলুই পাড়া):  যোগাযোগ ০১৭৮৩৯৬৯২০০। মোট ৪ টি রুম আছে। আর্মি অফিসারদের জন্য ভাড়া ২৫০০-৫০০০, সরকারী কর্মকর্তাদের জন্য ভাড়া ৪০০০-৭০০০, সাধারন জনগনের জন্য ভাড়া ১০০০০-১৫০০০ টাকা প্রতি রাতের জন্য।

২) রুনময় রিসোর্ট (সাজেক ভ্যালী): যোগাযোগ ০১৮৬৫৬৮৮৭৭। মোট ৫ টি রুম আছে। আর্মি অফিসারদের জন্য ভাড়া ১২৫০-১৬৫০, সরকারী কর্মকর্তাদের জন্য ভাড়া ২৫৫০-৩১৫০, সাধারন জনগনের জন্য ভাড়া ৪৪৫০-৪৯৫০ টাকা প্রতি রাতের জন্য।

৩) রুইলুই পাড়া ক্লাব হাউসঃ যোগাযোগ ০১৮৩৮৪৯৭৬১২, ০১৮৬০১০৩৪০২। ১৫ জন থাকতে পারবেন। ভাড়া ১০০ টাকা জনপ্রতি (কম-বেশী হতে পারে)।

৪) আলো রিসোর্টঃ যোগাযোগ ০১৮৬৩৬০৬৯০৬। মোট ৬ টি রুম। ভাড়া ৭০০-১০০০ টাকা প্রতি রাতের জন্য।

৫) রুইলুই পাড়াতে যে কোন কারবারীর ঘরে জনপ্রতি ১০০ টাকা দিয়ে থাকা যাবে (যদি ফাকা থাকে)।

রিসোর্টে খাবার ব্যবস্থা আছে তবে যারা দিনে গিয়ে দিনে চলে আসবেন তারা বাইরে ১৫০-৫০০ টাকা দিয়ে দুপুরের খাবার খেতে পারবেন।

যারা দিনে গিয়ে চলে আসবেনঃ

প্রথম দিন খাগড়াছড়িতে থেকে পরেরদিন ভোর ৪.৩০ / ৪.৪৫ মিনিটে সাজেক রওনা হবেন। গাড়ী আগের দিন শাপলা মোড় থেকে ঠিক করে রাখবেন। দেরী করলে মেঘ দেখা মিস করবেন। প্রথম দিন খাগড়াছড়িতে আলুটিলা গুহা, রিসাং ঝর্না, অপু ঝর্ণা, শান্তিপুর অরন্যকুটির, নিউজিল্যান্ড, শহড়ে ঝুলন্ত ব্রিজ ইত্যাদি দেখে আসতে পারেন। রাতে সিস্টেম রেস্তোরাতে পাহাড়ীদের খাবার খাওয়া হবে বাড়তি পাওনা।

খাগড়াছড়িতে থাকার ব্যবস্থাঃ

১) পর্যটন মোটেলঃ যোগাযোগ ০৩৭১-৬২০৮৪, ০৩৭১-৬২০৮৫, ০১৫৫৬৫৬৪৩৭৫, এসি রুম ২১০০ টাকা এবং নন-এসি ১৩০০ টাকা প্রতি রাত। এটি শহড়ে ঢুকার ২ কি.মি. আগে চেঙ্গী নদীর পাশে অবস্থিত।

২) হোটেল ইকোছড়ি ইনঃ যোগাযোগ ০৩৭১-৬১৬২৫, ০৩৭১-৬১৬২৬, ০১৮২৮-৮৭৪০১৪। রুম ভাড়া ১০০০-২৫০০ টাকা প্রতি রাত।

৩) শৈল সুবর্ণঃ যোগাযোগ ০৩৭১-৬১৪৩৬। ভাড়া ৬০০-১০০০ টাকা প্রতি রাত।

এছাড়াও শাপলা মোড়ে অবস্থিত অন্যান্য হোটেলে ৩০০-৭০০ টাকাতে থাকা যাবে।

উল্লেখযোগ্য হোটেলঃ হোটেল জিরান ০৩৭১-৬১০৭১, ফোর স্টার ০৩৭১-৬২২৪০, থ্রি স্টার ০৩৭১-৬২০৫৭, লবিয়ত ০৩৭১-৬১২২০, চেঙ্গী ০৩৭১-৬১২৫৪, উপহার ০৩৭১-৬১৯৮০, রাজু বোর্ডিং ০৩৭১-৬১১৬১, চৌধুরী বোর্ডিং ০৩৭১-৬১১৭৬, ভাই ভাই বোর্ডিং ০৩৭১-৬১৪৬১ ইত্যাদি।

খেয়াল রাখবেন: 

সাজেকে পানির খুবই সংকট। এখানে পাহাড়িদের দেওয়া পানি নষ্ট করবেন না। তাছাড়া পানির বোতল, পলিথিন, প্লাস্টিক নির্দিষ্ট স্থানে ফেলবেন। যত্রতত্র ফেলে প্রকৃতিকে ধ্বংস করবেন না।

-সাফাত জামিল শুভ,চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

সময়ের কথায় প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

মন্তব্য করুন





টুইটারে আমরা

পূর্বের সংখ্যা