|

বাসায় ফিরেছেন এসপি বাবুল আক্তার!!

babu-kter-1-409x230স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদের পর তার স্বামী পুলিশ কর্মকর্তা বাবুল আক্তারকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

শনিবার বিকেল সোয়া চারটার দিকে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে বাবুল আক্তারের বাবা আবদুল ওয়াদুদ জানিয়েছেন। তিনি জানান, মিতু হত্যায় কয়েকজন সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের দেওয়া তথ্য যাচাই-বাছাই করার জন্য বাবুল আক্তারকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

এর আগে, গত শুক্রবার (২৪ জুন) গভীর রাতে রাজধানীর খিলগাওঁয়ে শ্বশুরের বাসা থেকে বাবুল আক্তারকে চট্টগ্রামে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাকে হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছিল। পুলিশের একটি দায়িত্বশীল সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে।

জিজ্ঞাসাবাদের জন্য গভীর রাতে ঢাকার শ্বশুরবাড়ি থেকে ডিবি কার্যালয়ে ডেকে নেওয়ার দীর্ঘ সময় পর পুলিশ কর্মকর্তা বাবুল আক্তারের সঙ্গে শনিবার বিকাল সোয়া ৪টার দিকে টেলিফোনে যোগাযোগ কথা বলেছেন  বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের এক সাংবাদিক। তার কাছে বাবুল আক্তার দাবি করেছেন, মামলার তদন্তের বিষয়ে ‘আলোচনা করতে’ তাকে ডেকে নেওয়া হয়েছিল। তবে ওই সময় বাবুল আক্তার কোথায় ছিলেন, সে তথ্য তিনি দেননি।

স্ত্রী হত্যার ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য গ্রেপ্তার করা হয়েছে কি না- এই প্রশ্নে বাবুল আক্তার ফোনে পাল্টা প্রশ্ন করেন, “এগুলো কে বলল?”

‘আমাকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। যারা তদন্ত করছেন, তারা বিভিন্ন বিষয়ে আমার সাথে আলোচনা করেছেন।’ জানান বাবুল আক্তার।

সারা রাত তাদের এই ‘আলোচনা’ হয়েছে কি না- এ প্রশ্নের উত্তর এড়িয়ে যান যার স্ত্রী ২০ দিন আগে চট্টগ্রামে প্রকাশ্য রাস্তায় খুন হয়েছেন এই পুলিশ কর্মকর্তা।

mitu_17337_1466826510

স্ত্রী মাহমুদা খানম খুনের ঘটনায় পুলিশ সুপার (এসপি) বাবুল আক্তারকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। শনিবার দুপুরের দিকে রাজধানীর ঢাকা ক্লাবে সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এ কথা বলেন।

বাবুল আক্তারকে শুক্রবার দিবাগত রাতে রাজধানীর খিলগাঁও এলাকার শ্বশুরের বাসা থেকে নিয়ে যায় পুলিশ। নাম প্রকাশ না করে তাঁর এক স্বজন প্রথম আলোকে এই তথ্য জানান।

ctg_pic-2

বাবুল আক্তারকে নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে সকাল থেকে জানতে চাইলে পুলিশের দায়িত্বশীল কোনো কর্মকর্তা মন্তব্য করতে রাজি হননি। তাঁকে কেন নেওয়া হয়েছে, কোথায় নেওয়া হয়েছে, জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে কি না—এসব প্রশ্নে পুলিশের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা নিশ্চুপ থাকেন। এর মধ্যে একাধিক গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, স্ত্রী মাহমুদা খুনের ঘটনায় বাবুল আক্তারকে পুলিশের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

এদিকে নানা গুঞ্জনের পর ঘটনার বিষয়ে শনিবার দুপুরের দিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান ঢাকা ক্লাবে এক অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে বেরিয়ে যাওয়ার সময় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বলেন, ‘এই দুঃখজনক হত্যাকাণ্ড যারা ঘটিয়েছে, আমরা এখনো কনফিডেন্ট যে আমরা তাদের ধরতে সক্ষম হয়েছি। আরও জিজ্ঞাসাবাদের পরে আপনাদের খোলাসা করে বলতে পারব।’

যে দুজন এই ঘটনায় আটক হয়েছেন তাদের কাছে কোনো তথ্য পাওয়া গেছে কি না জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘এখনো প্রকাশ করার সময় আসেনি, আমরা সবকিছুই প্রকাশ করব আরও একটু সময় নিয়ে।’

বাবুল আক্তার সম্পর্কে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘বাবুল আক্তার পুলিশের কর্মকর্তা ছিলেন। তিনি সবাইকে চেনেন, সবাইকে জানেন। যেসব অপরাধীকে আমরা শনাক্ত করেছি, ধরেছি এবং তাদের জবানবন্দি পেয়েছি তাদের কনফার্ম করতেই বাবুলকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এর বেশি কিছু নয়।’ বাবুলকে আটক করা হয়েছে কি না—এ প্রশ্নের সরাসরি কোনো উত্তর দেননি মন্ত্রী।

তবে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এ কে এম শহীদুল হক বলেন, বাবুল আক্তারকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। বাবুল আক্তার মামলার বাদী। মামলার কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে তথ্য পাওয়ার জন্য তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। সূত্র: ওএনবি প্রতিবেদক, ওএনবি২৪.কম।

সময়ের কথায় প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

মন্তব্য করুন





টুইটারে আমরা

পূর্বের সংখ্যা