|

কানাডায় সোশ্যাল সার্ভিস সেক্টরে কীভাবে চাকরি পেতে পারেন?

এই লেখাটির প্রথম এবং পূর্ববর্তী ভার্সন parobashiblog.com, BCCB, SIIL সহ আরো ২/১টি অনলাইন গ্রুপ পেইজে পোস্ট হয় গত বছর অক্টোবর/নভেম্বরের দিকে। তখন থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ১ লক্ষ ১৫ হাজার পাঠক এটি পড়েছেন। শুধু তাই নয়, কানাডাতে আসার আগে বেশ কিছু কানাডিয়ান নতুন ইমিগ্র্যান্ট এটি পড়ে, তথ্য সংগ্রহ করে এখানে এসে তুলনামূলকভাবে খুব দ্রুত চাকরি এবং প্রয়োজনীয় পড়াশুনা (আপগ্রেড) শুরু করে দিয়েছেন।

সোশ্যাল সার্ভিস বা সোশ্যাল ওয়ার্ক সেক্টরের প্রফেশনাল ছাড়াও অন্য ২/১টি প্রফেশনের লোকও এই তথগুলির মাধ্যমে উপকৃত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন। এবং প্রতিদিনই কিছু না কিছু পাঠক এটা পড়ছেন। তবে somoyerkotha.com এ প্রকাশিত হয়নি। আশা করছি এখানে পোস্ট করা বা প্রকাশের মাধ্যমে আরো কিছু বাংলাদেশি ইমিগ্র্যান্ট উপকৃত হবেন। লেখাটি গত ভার্সনের সঙ্গে কিছু কিছু নতুন জিনিস সংযোজন করে এটিকে somoyerkotha.com এর জন্য লেখা হয়েছে।

আমাদের দেশের অল্প কিছু সৌভাগ্যবান ইমিগ্র্যান্ট আছেন যারা এখানে আসার অল্প কিছুদিনের মধ্যেই একটি প্রফেশনাল চাকরি পেয়ে যান, এই লেখাটি ঠিক তাদের জন্য নয়। এটি মূলত যারা আমার বা আমাদের মতো একটি প্রফেশনাল চাকরির জন্য শুরুতে স্ট্রাগল করেছেন বা এখনো করছেন তাদের এবং নতুন ইমিগ্রান্টদের জন্য।

আমরা দেখবো যে যাদের already সোশ্যাল ওয়ার্ক বা সোশ্যাল সার্ভিস সেক্টরে পড়াশুনা এবং কাজের অভিজ্ঞতা আছে তাদের এখানে প্রফেশনাল চাকরির জন্য কী কী করণীয় থাকতে পারে এবং যারা অন্য প্রফেশনের কিন্তু এই প্রফেশনে কিছু আপগ্রেডের মাধ্যমে চাকরি করতে চান তাদের কী করতে হবে।

আমি যে কথাগুলি বলবো সেগুলি আমার বিগত ১০/১২ বছরে এই সেক্টরে কাজের অভিজ্ঞতা, প্রায় ১০ বছরের প্লেসমেন্ট স্টুডেন্ট perceptor এর অভিজ্ঞতা, এখানে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে unemployed গ্রাজুয়েটদের নিয়ে তাদের job – search কোচিংয়ের বিষয়ে ৪ বছরের অভিজ্ঞতা, এবং বিগত ১০ বছরে অন্তত ৪০/৫০ জন বাংলাদেশি ভাই বোনদের সাথে তাদের প্রফেশনাল কাজের সহযোগিতার অভিজ্ঞতার থেকে বলবো। আমি বিশ্বাস করি এই প্রফেশনে আমার থেকে অনেক বড় পদের, অনেক অভিজ্ঞতা সম্পন্ন দেশি ভাই বোন আছেন এবং তাদের কাছে আরো ভালো ভালো টিপস পাওয়া যাবে, আশা করি সময় সুযোগ করে তারাও এই মাধ্যমে তাদের মূল্যবান তথ্য তুলে ধরবেন, তাহলে আমাদের অনেক অনেক দেশি ভাই বোন উপকৃত হবেন।

আপনার যদি দেশ থেকে সোশ্যাল ওয়ার্ক, সোশ্যাল সার্ভিস বা রিলেটেড বিষয়ে, যেমন সোসিওলজি, সাইকোলজি , ডেভেলপমেন্টাল স্টাডি, কাউন্সেলিং, কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট, কমিউনিটি সার্ভিস ইত্যাদিতে ডিগ্রি/ ডিপ্লোমা থেকে থাকে এবং তার সাথে সোশ্যাল সার্ভিসের যে কোনো বিষয়ে বা কোনো নন প্রফিট সেক্টরে কাজের অভিজ্ঞতা থাকে তাহলে কী করবেন?

প্রথম কথা হলো আপনার ডিগ্রী বা ডিপ্লোমা OCSWSSW বা WES থেকে কানাডিয়ান equivalency-র assessment করিয়ে নিবেন। এরপর আপনাকে কিছুটা আপগ্রেড করতে হবে আপনার পছন্দের ফিল্ড অনুযায়ী, তবে তার আগে যে জিনিসটি অত্যন্ত প্রয়োজন তা হলো আপনার ইংরেজির প্রফেশনাল efficiency কতখানি সেটা যাচাই করা। এক্ষেত্রে আপনি YMCA তে গিয়ে কানাডিয়ান CLBP টেস্টটি দিতে পারেন, এখানে ৮ এর মধ্যে কোনো বিষয়ে ৮ না হলে সেই বিষয়ে আরো অনুশীলন করে তারপর আবার টেস্ট দিয়ে গড়ে সব বিষয়ে ৮ পাওয়ার চেষ্টা করুন। যদি সব বিষয়ে ৮ হয়ে যায় তাহলে আপনি কোনো বন্ধু , শিক্ষক , কাউন্সিলর বা প্রফেশনালের সাথে কথা বলে নির্ণয় করুন যে আপনার ইংরেজি প্রফেশনাল পর্যায়ে হয়েছে কি না, অথবা Ryerson University-র RTEP নামক টেস্টটি দিয়েও দেখতে পারেন আপনার প্রফেশনাল efficiency হল কি না। যদি না হয়ে থাকে তাহলে কোনো সোশ্যাল সার্ভিস ডিগ্রি/ডিপ্লোমা বা সার্টিফিকেট কোর্স করার আগে ভালো একটি প্রতিষ্ঠানে professional এবং academical ইংরেজির উপর আপনার প্রয়োজন অনুযায়ী কোর্স করুন এবং নিজে নিজে extensive প্র্যাক্টিস করুন, স্কুল শুধু আপনাকে কিছু গাইডেন্স দিবে কিন্তু মূল বিষয়টি আপনার ওপর। এই জায়গাটিতে অনেকেই ভুল করে থাকেন, ভাষাগত দক্ষতার ওপর কাজ না করে তড়িঘড়ি কোনো ডিপ্লোমা বা ডিগ্রিতে ভর্তি হয়ে যান, ডিগ্রি successfully শেষও করেন কিন্তু চাকরি আর পান না। হয়তো ইন্টারভিউ কল পান কিন্তু সফলকাম হন না। আবার বাইচান্স একটি চাকরি হলেও সেটা sustain করতে পারেন না। আমি এমন ২/৩ জনকে জানি যারা খুব ভালো চাকরি পেয়েও ৩/৪ মাসের মধ্যে ফায়ার হয়ে গেছেন communication deficiency -র কারণে, খুবই দুঃখজনক কারণ চাকরিগুলি খুব ভালো ছিল। আমার unemployed professional ইমিগ্র্যান্টদের সাথে job search বিষয়ে কাজ করার অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি আমাদের অধিকাংশ প্রফেশনালদের প্রফেশনাল চাকরি না পাওয়ার অন্যতম কারণ হচ্ছে ভাষাগত সমস্যা। আপনাকে এদেশের জন্মগ্রহণকারী এবং এদেশের পড়াশুনা করা লোকদের মতো ইংরেজি না জানলেও চলবে তবে অবশ্যই আপনাকে আপনার ক্লায়েন্ট হ্যান্ডেল করার মতো দক্ষতা থাকতে হবে। আর এই সেক্টরটির কাজ হচ্ছে বিভিন্ন ধরণের disadvantage, vulnerable এবং marginalized মানুষদের নিয়ে এবং আপনার কাজের ৮০ ভাগই হবে কমিউনিকেশন তাই আপনার এ ব্যাপারে দক্ষতা খুবই প্রয়োজন।

আমার কিছু বন্ধু বান্ধব বলেন, অমুক চাইনিজ বা আফ্রিকানকে দেখলাম তেমন সুন্দর ভাষা বলে না কিন্তু কাজ করছে তাহলে আমার সমস্যা কি? এখন কথা হলো অতটুকু জেনে কীভাবে সে চাকরিটা পেয়েছে বা তার combined দক্ষতা কী সেটা যেহেতু আমরা জানি না তাই সেই কথা ধরে jobless অবস্থায় বসে না থেকে বরং নিজের need গুলি identify করে সে বিষয়ে কাজ করা বুদ্ধিমানের কাজ। আমাদের চারপাশের ঘটমান অনেক বিষয়ের ওপর আমাদের কোনো কন্ট্রোল নেই তবে আমরা আমাদের নিজেকে প্রয়োজন অনুযায়ী কন্ট্রোল করতে পারি এবং নিজেকে চাইলে ঘটমান পরিবর্তনের সাথে খাপ খাইয়ে পরিবর্তন করতে পারি। চার্লস ডারউইনের কথাটি আমরা সবাই জানি, “It is not the strongest of the species that survives, nor the most intelligent that survives. It is the one that is most adaptable to change.”

অনেক সময় আপনার ভালো প্রফেশনাল communication দক্ষতা থাকলে কোনো আপগ্রেডও করতে হয় না। এখন ধরুন আপনার ভাষাগত দক্ষতা হল বা আছে। এখন কি করবেন। আপনাকে হিসাব করতে হবে আপনি আপনার ফ্যামিলি এবং আনুষঙ্গিক বিষয়ে maintain করে কতখানি সময় ব্যয় করতে পারবেন, এক্ষেত্রে financial বিষয়টাও চিন্তা করার প্রয়জন আছে। আপনার যদি সোশ্যাল ওয়ার্ক বা মোস্ট রিলেটেড কোনো ডিগ্রি এবং সে বিষয়ে ২/৪ বছরের কাজের অভিজ্ঞতা থাকে তাহলে আপনি Ryerson University-র Cheng Continuing School থেকে ১০ মাসের একটি ব্রিজিং প্রোগ্রাম করতে পারেন। এটা করলে আপনি সার্টিফিকেট অফ কানাডিয়ান সোশ্যাল ওয়ার্ক প্রাকটিস নামক একটি সার্টিফিকেট পাবেন। প্রথম সেমিস্টারে আপনাকে থিওরিটিক্যাল বিষয়ে পড়াবে, দ্বিতীয় সেমিস্টারে প্লেসমেন্ট/কো -অপ এবং প্রাক্টিকাল বিষয়ে পড়াবে। প্রোগ্রাম শেষে আপনাকে জব-সার্চ বিষয়ে সাহায্য করবে। প্রোগ্রামটি মাত্র দুই দিনের ক্লাস হলেও খুব intensive তবে এই প্রোগ্রামের গ্রাডদের ৮৯% চাকরি পাওয়ার রেট। আপনার যদি মোস্ট রিলেটেড ডিগ্রি/ডিপ্লোমা না থাকে অথবা অন্য প্রফেশন থেকে আসছেন তাহলে আপনি হয় ৪ বছরের BSW করতে পারেন অথবা যে কোনো community college থেকে ২ বছরের সোশ্যাল সার্ভিস ডিপ্লোমা করতে পারেন, তবে অবশ্যই আপনার প্রোগ্রামে যেন প্লেসমেন্ট অন্তর্ভুক্ত থাকে।

আর কোথায় প্লেসমেন্ট করবেন সেটা নির্ভর করবে আপনি কোন জাতীয় কাজ পছন্দ করেন এবং সে বিষয়ে কাজের ফিল্ডটা এখন কেমন তাই আপনার উচিত হবে যারা উক্ত বিষয়ে দীৰ্ঘদিন সন্তুষ্টির সাথে কাজ করছেন এবং কাজের trend সম্বন্ধে ধারণা আছে তাদের সাথে আলাপ করা এবং আপনি নিজে খুব ভালো করে বিভিন্ন জব পোস্টিং দেখে তারপর সিদ্ধান্ত নিবেন কোন বিষয়ে প্লেসমেন্ট করবেন, কারণ হয়তো এই প্লেসমেন্টটিই আপনার একমাত্র কানাডিয়ান এক্সপিরিয়েন্স হিসাবে কাজ করবে। কথাটা বললাম এ কারণে যে অনেকে ভেবেচিন্তে সিদ্ধান্ত না নিয়ে পরে পস্তাচ্ছেন এবং চাকরি পেতে কষ্ট হচ্ছে, যেমন কেউ প্লেসমেন্ট করেছেন চাইল্ড ওয়েলফেয়ারে কিন্তু তিনি কাজ করতে comfortable ফিল করেন women affair নিয়ে, আবার কেউ প্লেসমেন্ট করেছেন সিনিয়র বিষয়ে কিন্তু comfortable ফিল করেন হেলথ কেয়ারে। চাকরির ট্রেন্ড সময় অনুযায়ী বদল হয়ে থাকে তাই খুব ভেবেচিন্তে এবং যথাযত খোঁজ খবর এবং গবেষণা করে সিদ্ধান্ত নিবেন। এছাড়াও আপনি বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় এবং কমিউনিটি কলেজে অনেক সার্টিফিকেট প্রোগ্রাম আছে সেগুলি থেকে সার্টিফিকেট সম্পূর্ণ করতে পারেন, যেমন ধরুন addiction, counselling, psycho social, psychotherapy rehabilitation, mental health ইত্যাদি বিষয় সহ আরো অনেক বিষয় আছে। এক্ষেত্রে আপনার প্লেসমেন্ট এর সুযোগ থাকবে না তাই আপনার পূর্ববর্তী কাজের অভিজ্ঞতা এবং ভলান্টিয়ারিং অভিজ্ঞতাই সম্বল।

আর একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে হলো যারা এই সেক্টরে কাজ করতে চান তাদের উচিত এখানে আসার পর পরই কোনো একটি ভলান্টিয়ারিংয়ে ঢুকে যাওয়া, অন্তত সপ্তাহে মাত্র ২/৪ ঘন্টা করে হলেও। তবে খেয়াল রাখতে হবে ভলান্টিয়ারিংয়ে কি করছি, যেমন আমার যদি শুধু ফটোকপি আর ফাইল গোছাতে হয় তাহলে সেই ভলান্টিয়ারিং শুধুমাত্র সময় নষ্ট। এমন জাগাতে করতে হবে যেখানে আপনার ক্লাইন্টদের সাথে ডাইরেক্ট কন্টাক্ট থাকে এবং তাদের সাথে interaction হয়। charity village বা নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটে গিয়ে দেখতে পারেন তারা কী অফার করে এবং আপনাকে কী করতে হবে। এই ভলান্টিয়ারিং এর ব্যাপারটা আরো বেশি দরকার যারা পেশা পরিবর্তন করছেন এবং সংশ্লিষ্ট কাজের অভিজ্ঞতা নেই।

এখন ধরুন আপনার প্লেসমেন্ট হয়ে গেলো, ডিপ্লোমা শেষ করলেন, কী করবেন। এই সময়টাই হল আপনার বিগত সময়ের থেকে বেশি গুরুত্বপূর্ণ এবং time consuming যেটা অনেকে বুঝতে পারেন না। এটা বলা হয় যে job search is a full time job, আমি কথাটি পুরোপুরিভাবে বিশ্বাস করি। আপনি প্রতি সপ্তাহে যদি মাত্র ৩ টি পোস্টিংয়ে আবেদন করতে চান তাহলে ওই ৩টি রেজুমি এবং কভার লেটার লিখতে আপনার বলতে গেলে পুরো সপ্তাহ লেগে যাবে যদি কি না আপনি appropriate ভাবে লেখেন, আর যদি শুধু রেজুমির নাম আর জব পোস্টিং এর নাম বদল করে রেজুমি পাঠাতে চান তাহলে তেমন সময় লাগবে না কিন্তু ইন্টারভিউ কল পাওয়ার সম্ভাবনা খুবই সীমিত। রেজুমে লেখার ক্ষেত্রে আপনার গণ প্রফেশনালদের উপদেশ দরকার নেই বরং যারা উক্ত প্রফেশনে কাজ করছেন এবং অনেককে সাহায্য করেছেন এবং তারা সফলকাম হয়েছেন ঠিক এ ধরণের লোকের সাহায্য নিতে হবে।

আপনার যদি কাজের অভিজ্ঞতা বেশি থাকে তাহলে আপনি chronological রেজুমি লিখবেন আর যদি কাজের অভিজ্ঞতা কম থাকে তাহলে functional রেজুমি লিখবেন। গবেষণা, একাডেমিক বা বিশেষ কোনো পদে না হলে আপনি রেজুমিটি ২/৩ পাতার বেশি লিখবেন না, কভার লেটার এক পাতার বেশি লিখবেন না। বেশি wordy যাতে না হয়, আবার আপনার মূল জিনিষগুলি যেন মিস না হয় সে বিষয়ে খেয়াল রাখবেন। আপনার কাজের অভিজ্ঞতার ক্ষেত্রে জব ডেসক্রিপশনটা খুব ভালো করে লিখবেন। যেমন একজন ভদ্রলোক যিনি দেশে একটি প্রতিষ্ঠানে ডিরেক্টর ছিলেন উনি তার জব ডেস্ক্রিপশন লিখেছিলেন মাত্র দুই লাইনের, আমি শিওর যে উনার কাজের পরিধি অনেক বেশি ছিল। আপনার ডেস্ক্রিপশনটি যে পদে আবেদন করছেন সেই পদের চাহিদা অনুযায়ী সময়ে সময়ে কিছুটা পরিবর্তন হতে পারে। আপনি ১০টি রেজুমি পাঠিয়ে ১০ টি জায়গা থেকেই ইন্টারভিউ কল নাও পেতে পারেন, ইনফ্যাক্ট ১০টির মধ্যে যদি ২/১-টিতেও কল পান তাহলে খুবই ভালো। আমি নিজেও এখানে প্রায় ১০বছরের কাজের অভিজ্ঞতা থাকা সত্ত্বেও ১০ টি রেজুমি পাঠালে ১০টির থেকে কল পাবো না তাই হতাশ হবেন না, যদি মাত্র একটি থেকেও কল পান তাহলে সেই একটির জন্যই চেষ্টা করতে হবে যাতে চাকরিটা হয়।

যদি আপনি আপনার সাধ্যমতো চেষ্টা করে লিখে রেজুমি পাঠিয়ে কল না পান তাহলে এমন কারো সাথে যোগাযোগ করুন যে কি না একই ধরণের পোস্টিংয়ে কল পেয়েছেন এবং তার রেজুমির সাথে মিলিয়ে দেখুন কোনো পার্থক্য আছে কিনা অথবা আগে যেমনটি বলেছি এ বিষয়ে বাস্তব অভিজ্ঞতা সম্পন্ন প্রফেশনাল এর সঙ্গে যোগাযোগ করুন। একজন সাধারণ এমপ্লয়মেন্ট কাউন্সেলর আপনাকে একটি জেনারেল রেজুমি ফরমেট সম্বন্ধে বলতে পারবেন কিন্তু তিনি স্পেসিফিক কোনো বিষয়ে ভালো ধারণা দিতে পারবেন না। যেমন, ছোট একটি বিষয় বলি, একটি কাজের জব ডেস্ক্রিপশনের মধ্যে অনেক অভিজ্ঞতার সাথে Aboriginal দের সাথে কাজের অভিজ্ঞতা থাকা asset বলেছেন তবে আবশ্যক নয়। এক দেশি বোন হোমলেস শেল্টারে কাজের অভিজ্ঞতার কথা লিখেছেন কিন্তু aboriginal দের সাথে কাজের অভিজ্ঞতার কিছু লিখেন নাই, কারণ জানতে চাইলে বললেন উনি aboriginal দের কোনো প্রতিষ্ঠানে কাজ করেননি বা তাদের সাথে কাজের অভিজ্ঞতা নেই। আমি জিজ্ঞেস করলাম তার কাজ করা শেল্টারে কখনো কি কোনো aboriginal আসে নি, উনি বললেন- হ্যাঁ, আসে মাঝে মধ্যে। এ ক্ষেত্রে আপনি সরাসরি কাজের অভিজ্ঞতা না থাকলেও লিখতে পারেন যে ওদের সাথে কাজের অভিজ্ঞতা আছে কারণ যদি computer আপনার রেজুমি বাছাই করে তাহলে এটি একটি কি কোয়ালিফিকেশন এর কাজ করবে।

এরপর আপনাকেইন্টারভিউয়ে কল করলে আপনি আপনার দক্ষতা প্রমান করবেন। কভার লেটারটিও ঠিক এক পাতার মধ্যে আপনার কি ধরণের কোয়ালিফিকেশন, অভিজ্ঞতা এবং ব্যক্তিগত স্ট্রেন্থ আছে যে আপনাকে তারা হায়ার করবে সে বিষয়ে লিখবেন। অন্যের ফরমেট আপনি কপি করতে পারেন কিন্তু কখনই অন্যের কনটেন্ট কপি করবেন না। আপনি উক্ত ফরমেট অনুসরণ করে নিজের ভাষায় লিখবেন, তা না হলে হিতের চেয়ে বিপরীত হতে পারে।

এবার ধরুন আপনি ইন্টারভিউ কল পাচ্ছেন কিন্তু ফাইনালি চাকরি হচ্ছে না। এটা মনে রাখতে হবে যে যাদেরকে ইন্টারভিউতে ডাকা হয় তাদের সবারই কাজটি করার যোগ্যতা আছে, এটা ধরেই employer রা আপনাকে কল করেছে। এখন যদি একটি পোস্টিংয়ের জন্য ৫ জনকে ডাকে তাহলে যেহেতু ৫ জনের যোগ্যতা আছে কিন্তু কাকে নিবে। এ ক্ষেত্রে নিশ্চয় যার উত্তরটি একটু ভিন্ন ধরণের হবে তাকেই তো তারা সিলেক্ট করবে, তাই আপনাকেই সেই বিশেষ ব্যক্তিটি হতে হবে। আর প্রশ্নগুলির সঠিক উত্তরতো জানতেই হবে। একই কথার এক এক ধরণের এক্সপ্রেশন এবং একসেপ্টেন্স হতে পারে। যেমন ধরুন “Client was delusional অথবা client appeared to be delusional”l একই ধরণের বর্ণনা হলেও আপনি একজন ক্লিনিকাল সোশ্যাল ওয়ার্কার বা মেন্টাল হেলথ ওয়ার্কার হলে প্রথমটি বলতে পারেন না, ওই কথা শুধুমাত্র একজন licensed psychiatrist বলতে পারে, আপনি বলবেন দ্বিতীয়টি। আবার ধরুন Mentally ill জেমস এবং জেমস with mental illness এই দুইটি বাক্যের মধ্যে অনেক তফাৎ আছে এবং প্রথম বাক্যটি এখানে গ্রহণযোগ্য নয়।

আমি খুব দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে আমাদের দেশের প্রফেশনালদেরকে কিছু দিনের ট্রেনিং দিলে তারা তাদের প্রফেশনে খুব ভালোভাবে কাজ করতে পারবেন কিন্তু সমস্যা হলো আগে সে পর্যন্ত পৌঁছানো, তাই নিজেকে সেভাবে প্রস্তুত করতে হবে। আরো একটি উদাহরণ দেই যেমন ধরুন আমাদেরকে যদি প্রশ্ন করা হয় ” how is your communication skills” অনেকেই উত্তর দিবেন excellent, good অথবা very good, অর্থাৎ তার দক্ষতা অনুযায়ী, কিন্তু আপনি যদি বলেন আপনার খুব ভালো ইংরেজি কমিউনিকেশন স্কিলস তো আছেই সঙ্গে সঙ্গে আপনার আরো ২/১টি ভাষায় দক্ষতা আছে তাহলে উত্তরটা একটু ভালো হয় কারণ অন্য যারা ইন্টারভিউ দিচ্ছে তাদের হয়তো মাত্র একটি ভাষা জানা অথবা যিনি আপনার ইন্টারভিউ নিবেন তিনি নিজেই হয়তো শুধুমাত্র ইংরেজি জানেন, তাছাড়া কানাডার মতো মাল্টিকালচারাল সমাজে একটি অতিরিক্ত ভাষা জানা খুবই helpful.

অনেকে ইন্টারভিউ দিয়ে এসে বলেন ইন্টারভিউ ভালো হয়েছে। ভালো হয়েছে তার নিজের কাছে কিন্তু employer এর কাছে কতটা ভালো সেটা আপনি চাকরিটা পেলেন কি না তার ওপর নির্ভর করবে। আপনার যদি চাকরি না হয় তাহলে অন্য কোথাও চাকরিতে আবেদন করার আগে আপনাকে আপনার ইন্টারভিউ এর প্রশ্নগুলি এবং আপনার দেওয়া উত্তরগুলি নিয়ে সংশ্লিষ্ট পদে যারা কাজ করছেন তাদের সাথে বসতে হবে এবং জানতে হবে ওই প্রশ্নগুলির উত্তর তারা কিভাবে দিয়েছিলেন, যদি আপনার থেকে ভিন্ন হয় তাহলে আপনাকে ভালভাবে প্র্যাক্টিস করতে হবে। একের অধিক প্রফেশনালের কাছ থেকে জানুন, তারপর আপনি নিজেই একটি সুন্দর উত্তর দাঁড় করাতে পারবেন। আমি অধিকাংশ সময়ে দেখি অনেকে ইন্টারভিউ দিয়ে তাদের প্রশ্নগুলি এবং তাদের দেওয়া উত্তরগুলি লিখে রাখেন না। মনে করেন মনে থাকবে কিন্তু মনে থাকে না। ভুল যেমন না করলে কিছু শেখা যায় না, তেমনি ভুল করা প্রশ্নগুলিকে বিশ্লেষণ না করলে ভালো করে সঠিক উত্তর তৈরী করা যাই না।

এভাবে প্রতিটি ইন্টারভিউ-এর পর প্র্যাক্টিস করুন। আপনার চাকরি হবেই।

অনেকের হয়তো ধৈর্য, সময় এবং উদ্যোগ থাকে না তাই আর চেষ্টা না করে যে কোনো একটি কাজ বেছে নিয়ে চলতে থাকেন কারণ সবার পরিস্থিতি এবং বাস্তবতা এক নয়, তবে আমি সবাইকে অনুরোধ করবো, Please do not give up before giving your best. Many of us do not know that we are stronger than we think. বাস্তবতার কারণে অনেকের পক্ষে তার নিজের পোটেনশিয়াল বা need গুলি খুঁজে বের করা হয় না তাই দরকার হয় ভালো peer সাপোর্ট, ভালো গাইডেন্স এবং ভালো একটি platform. CBN24 তেমনি একটি মাধ্যম যার মাধ্যমে আমরা সবাই একে অপরের কাছ থেকে প্রয়জনীয় তথ্য সংগ্রহ করতে পারছি।

সোশ্যাল ওয়ার্ক বা সোশ্যাল সার্ভিস সেক্টরে কাজ আছে এবং থাকবে তবে কাজের ক্ষেত্র হয়তো পরিবর্তন হতে পারে, আমার বিগত ১০ বছরে অভিজ্ঞতা তাই বলে। আপনাকে শুধু বেছে নিতে হবে কোন জায়গাটিতে sustainability বেশি, তবে আপনার প্রথম প্রথম এ ব্যাপারে না ভাবলেও চলবে কারণ আপনার প্রথম দরকার একটি প্রফেশনাল চাকরি।

এবার প্রফেশনাল চাকরি খোঁজার ক্ষেত্রে কী কী করতে পারেন। যেমন- সাধারণত আমরা পত্র পত্রিকা বা ইন্টারনেটে Job সাইটে চাকরির বিজ্ঞাপন দেখে দরখাস্ত করি। কিন্তু ঐ জায়গাগুলিতে শুধুমাত্র কিছু সংখ্যক বিজ্ঞাপন থাকে। আপনাকে আসলে Proactive হতে হবে। ঐ সমস্ত জায়গার বিজ্ঞাপন ছাড়াও আপনাকে খোঁজ নিতে হবে পরিচিতদের কাছে, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের হিউম্যান রিসোর্স ডিপার্টমেন্টে, ফেডারেল, প্রভিন্সিয়াল বা লোকাল গভর্নমেন্টের Employment Site-এ এবং খোঁজ খবর রাখতে হবে সমসাময়িক বিষয়ের ওপর। সরকারের বিভিন্ন পলিসির পরিবর্তনে অনেক সময় যেমন অনেক চাকরি কাট হয় ঠিক তেমনি অনেক চাকরি তৈরিও হয়। যেমন আমি আমার প্রফেশন থেকে উদাহরণ দিতে পারি। বর্তমান সরকার হাসপাতালগুলি থেকে Social Worker- দের Position কমাতে চাচ্ছেন তাদের খরচ বাঁচানোর জন্য কিন্তু সেক্ষেত্রে Community Level অর্গানাইজেশনগুলিতে চাকরির সুযোগ হবে কারণ প্রতিষ্ঠানিক সেবার চেয়ে Community লেভেল এর স্বাস্থ্য সেবায় খরচ কম। আবার ধরুন আগামী ১০/১৫ বছরে অনেক Baby Boomer’রা অবসরে যাবেন এবং এদের অনেকেরই অনেক সমস্যা থাকবে। তখন Senior Related চাকরির সম্ভাবনা বেশি থাকবে। আর তাই আপনি পত্র পত্রিকার বিজ্ঞাপনের অপেক্ষায় না থেকে আগে থেকেই এই বিষয়ের প্রতিষ্ঠান বা মন্ত্রনালয়ে খবর রাখুন এবং সময়মত দরখাস্ত করুন। বর্তমানে যদি আপনার mental health, addiction বা complex কেয়ার এর ওপরে অভিজ্ঞতা থাকে তাহলে আপনার সুযোগ অনেক বেশি। অনেকে চাকরি পাচ্ছেন না কিন্তু এই সেক্টরে relief position-এ employee shortage আছে। অনেকে আছেন যে শুধু relief position-এ কাজ করেই ফুল টাইমের থেকে বেশি ঘন্টা কাজ করছেন, তবে এক্ষেত্রে তাদের হয়তো কোনো বেনিফিট প্যাকেজ নেই। এই সেক্টরে কাজে এন্ট্রি লেভেল পজিশনের বেতন কানাডাতে বছরে ৪৫ হাজার থেকে ৭০/৮০ হাজার ডলারের মতো। সরকারি, বেসরকারি এবং নন প্রফিট সবক্ষত্রেই সোশ্যাল সার্ভিস বা সোশ্যাল ওয়ার্ক সেক্টরে প্রফেশনালদের চাকরি আছে।

মোট কথা হলো কারো যদি সোশ্যাল ওয়ার্ক বা সোশ্যাল সার্ভিস বিষয়ে পড়াশুনা, কিছু কাজের অভিজ্ঞতা এবং যথাযথ ভাষাগত দক্ষতা থাকে তাহলে তার চাকরি হতেই হবে। ৪/৫ শতাংশ হয়তো ভাগ্যের ব্যাপার আছে। তাই সব ধরণের চেষ্টা করেও কারো কিছু হচ্ছে না, সে ক্ষেত্রে আপনি মনে সান্ত্বনা দিতে পারবেন যে আপনি আপনার সাধ্যমতো চেষ্টা করেছেন। আমার এ পর্যন্ত বাংলদেশসহ বিভিন্ন দেশের প্রায় শতাধিক সোশ্যাল ওয়ার্ক প্রফেশনাল ইমিগ্র্যান্ট এর সাথে যোগাযোগ হয়েছে, এদের মধ্যে সমস্ত চেষ্টা করেও চাকরি হয়নি এ রকম লোকের সংখ্যা মাত্র ৪/৫ জন।

একটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ কথা বলা হয়নি, এই সেক্টরে কাজ করতে চাইলে আপনার যদি এখনাকার ড্রাইভিং লাইসেন্স না থাকে তাহলে আপনি অনেক অনেক চাকরিতে আবেদনই করতে পারবেন না। তাই সময় নষ্ট না করে আপনি আপনার লাইসেন্সটি নিয়ে নিন।

আমি চেষ্টা করেছি মোটামুটি একটা ওভার-অল চিত্র তুলে ধরতে যদিও সব কিছু অন্তর্ভুক্ত করতে পারিনি কিন্তু আমার বিশ্বাস newcomer প্রফেশনালদের সাথে সাথে এখানকার পুরনো প্রফেশনালদেরও লেখাটি উপকারে আসবে।

বি. মুকুল
টরন্টো

সময়ের কথায় প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

মন্তব্য করুন





টুইটারে আমরা

পূর্বের সংখ্যা