|

রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনী ইশতেহারসহ লিটনের কিছু কথা

নজরুল ইসলাম তোফা:: রাজশাহীর উন্নয়নের দক্ষ নেতা, ক্ষমতাশীন আওয়ামী লীগের জনপ্রিয় নেতা এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন সহ অনেক নেতা কর্মীরা মিলিত হয়ে যেন জয়ের হিসাব নিকাশ কষে নির্বাচনী প্রচারণায় চালিয়ে যাচ্ছেন। রাজশাহী সিটি নির্বাচনে মেয়র পদপ্রার্থী এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন নির্বাচনী ইশতেহারও ঘোষণা করেছেন।
তিনি রাজশাহী মহা নগরীর সাবেক ও সফল মেয়র জাতীয় ৪ নেতার অন্যতম নেতা শহীদ, এ.এইচ.এম কামারুজ্জামানের সুযোগ্য পুত্র। তিনি এই রাজশাহী মহা নগরীর সন্তান, তিনি উন্নয়ন কর্মেই যেন বিশ্বসী, তাই তো তিনি জনগণের প্রিয় নেতা।
এ.এইচ.এম খায়রুজ্জামান লিটন রাজশাহী অঞ্চল এবং উত্তরবঙ্গের অবিসংবাদিত নেতা বললেও ভুল হবে না। তাঁর নেতৃত্বে রাজশাহীতে আওয়ামীলীগের রাজনৈতিক অনগ্রসরতা বৃদ্ধি পায়। তাই আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য এবং নগর সভাপতি এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনকেই প্রার্থী হিসেবে দাঁড় করিয়ে নির্বাচনে জয়ের জন্য একযোগে কাজ করছেন। 
ইতিমধ্যে তাঁর উন্নয়নের খুব সুন্দর একটি নির্বাচনি ইশতেহার প্রকাশ হয়েছে। ইশতেহারে ১৫টি বিষয়ের মোট ৮২টি প্রতিশ্রুতির আছে। তার সবগুলোই যেন গুরুত্বপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য। ইশতেহারের প্রথমেই জণ গনের কর্মসংস্থান কথা তুলে ধরেছেন। এতে আরও আছে গ্যাস সংযোগের মাধ্যমে গার্মেন্ট শিল্প, বিশেষ অর্থনৈতিক জোন প্রতিষ্ঠা করা সহ বঙ্গবন্ধু হাইটেক পার্ক দ্রুত বাস্তবায়ন করেই লক্ষাধিক মানুষের কর্ম সংস্থানের স্বপ্ন। তাঁর আরও প্রতিশ্রুতির মধ্যে রেশম কারখানা ও টেক্সটাইল মিল পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা। রাজশাহী জুটমিল সংস্কার, কৃষি ভিত্তিক শিল্পস্থাপন এবং কুটির শিল্পের সম্প্রসারণে আত্ম কর্মসংস্থানও সৃষ্টি হবে বলে ইশতেহারে উল্লেখ করেন। রাজশাহী শিক্ষা নগরী হিসেবে খ্যাত তাই এই নগরীতে শিক্ষা নিয়ে অনেক কাজ করতে চান এমন জনপ্রিয় নেতা এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন। এই ইশতেহারের মধ্যে রয়েছে রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় খুব দ্রুত বাস্তবায়ন এবং রাজশাহী ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড সার্ভে ইনস্টিটিউটকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রুপান্তর,পূর্ণাঙ্গ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন, খুব নতুন করে একাধিক বালক ও বালিকাদের স্কুল-কলেজ নির্মাণ, পূর্ণাঙ্গ সঙ্গীত, ইউনানী ও আয়ুর্বেদিক মহাবিদ্যালয় স্থাপন করা সহ বিশ্বের প্রধান প্রধান ভাষা শিক্ষার ব্যবস্থা, আবার পুরো রাজশাহীর বিভিন্ন কেন্দ্রকে ওয়াইফাই নেটওয়ার্কের আওতায় আনার কথা ব্যক্ত করেন। এ ইশতেহার অনুযায়ী এমন এ মেয়র নির্বাচিত হলে স্বাস্থ্যখাতে এই নগরীর প্রতিটি ওয়ার্ডে স্বাস্থ্য কেন্দ্র এবং মাতৃসদন স্থাপন করে নগর বাসীর স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করবেন। তিনি বলেছেন, খুব দ্রুত গতিতেই শেষ করতে চান নিজের প্রতিষ্ঠিত রাজশাহী শিশু হাসপাতালের নির্মাণ কাজ। জনগণের খুব চাহিদার প্রস্তাব, রাজশাহীতে পানি শোধনাগার প্রকল্প। তিনি বলেন, খুব দ্রুতগতিতে সেই চাহিদা বাস্তবায়ন করে নগরবাসীকে বিশুদ্ধ খাবার পানি সরবরাহ করবেন। নগরীর যে সকল বস্তিবাসী রয়েছে তাদের জন্যেও আলাদা সুযোগ-সুবিধা সৃষ্টি দিয়ে তাদেরও জীবন মানের উন্নয়ন ঘটাতে চান। 
এ.এইচ.এম খায়রুজ্জামান লিটন রাজশাহী সিটি নির্বাচনী ইশতেহারে বলেছেন, নিজস্ব আয়ের অর্থ দিয়েই নগরীর গরিব মানুষদের বসবাসের জন্য বহু তল ফ্ল্যাটবাড়ি নির্মাণ করে তাদেরই সহজ কিস্তিতে মালিকানার ব্যবস্থাসহ তাদের জীবন যাপনের জন্য দৃষ্টি থাকবে। আরও বলেছেন, মুক্তিযোদ্ধা, শিক্ষক, আলেম ও সাংবাদিকদের জন্যে আলাদা আবাসন এলাকা গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন। তাঁর নির্বাচনী ইশতেহারে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন শহরের অবকাঠামো গড়ে তোলা সহ এমন নগরীর চতুুর্দিকে দিকে রিং রোড ও লেক নির্মাণ করবেন। রাজশাহী নগর জুড়ে প্রয়োজনীয় বহু সংখ্যক গণ শৌচাগার নির্মাণ, গুরুত্ব পূর্ণ এলাকাতেই ফ্লাইওভার এবং ওভারপাশ নির্মাণ, পর্যটনবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এবং সাংষ্কৃতিক কেন্দ্র স্থাপন, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন, বঙ্গবন্ধু নভো থিয়েটারের নির্মাণ কাজ দ্রুত শেষ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।তাছাড়াও নগরীর প্রতি ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে একটি করে খেলা ধুলার মাঠ এবং সাংস্কৃতিক চর্চা ও প্রসারের উদ্যোগ গ্রহণ করবেন। 
তিনি বলেছেন, বাংলাদেশের উন্নয়নের সাথে সাথে রাজশাহীর উন্নয়নে জন্য তাঁর বাবা শহিদ এ.এইচ. এম কামরুজ্জামান ব্যাপক পরিকল্পনা ও উদ্দেশ্য নিয়েই কাজ শুরু করেছিলেন। কিন্তু কারাগারে এই জাতীয় নেতার হত্যাকান্ডের মধ্য দিয়েই রাজশাহীর উন্নয়ন স্হবির হয়ে যায়। ২০০৮ সালে তাঁকে মেয়র পদে নির্বাচিত করে তাঁর বাবার স্বপ্ন বাস্তবায়ন এবং রাজশাহী উন্নয়নে কাজ করার সুযোগ করে দেয় এ শান্তি প্রিয় রাজশাহীর জনগণ। তিনি আরও বলেন, তাঁর সৌভাগ্য রাজশাহী উন্নয়নে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার কাছে যা চেয়েছিলেন তাই পেয়েছিলেন। দেশনেত্রী “শেখ হাসিনা” বলেছিলেন, ‘তুমি কাজ করে যাও, টাকার কথা ভেবো না।’ তাই তো রাজশাহীর এমন এই জনপ্রিয় নেতা এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন সমস্ত ধ্যান জ্ঞান দিয়েই যেন রাজশাহী উন্নয়নে নেমেছিলেন। সুতরাং বলাই যায়, সেই উন্নয়নের নজির আজও রাজশাহীবাসী ভুলতে পারেনি। উন্নয়নের ভাবনা ছিল বহুমাত্রিক। একজন মেয়রের গতানুগতিক কাজের বাইরেও রাজশাহীর আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের জন্য সকল ক্ষেত্রে কাজ করার চেষ্টা করেছেন। রাজশাহীতে পাইপ লাইনের মাধ্যমে গ্যাস, ১২শো কোটি টাকা ব্যয়ে মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়সহ নতুন ১০০০ শয্যা বিশিষ্ট আধুনিক হাসপাতাল, শিশু হাসপাতাল, কর্পোরেশনের নিজস্ব বিশ্ববিদ্যালয়, ফ্রি ওয়াই-ফাই জোন, হাইটেক পার্ক, রাজশাহীর বহু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকেই কর্পোরেশনের আওতায় আনা, নতুন নতুন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপন ও জাতীয়করণ করা, বৃক্ষরোপণ,রাজশাহীর ঐতিহ্য পূর্ণ জনপ্রিয় স্হান শাহ মুখদম কেন্দ্রীয় ঈদগাহকে সম্প্রসারণসহ অন্যান্য ঈদগাহের উন্নয়নসহ শহরের মসজিদ নির্মাণ, মাদ্রাসা, শ্মশানসহ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান সমূহের উন্নয়ন, রাজশাহী শহর রক্ষা বাঁধের উন্নয়ন,
পূর্ণাঙ্গ টিভি কেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ, বন্ধ হয়ে যাওয়া বিমান বন্দর চালুকরণ, আধুনিক শপিংমল সহ শহরের বিভিন্ন স্থানে বাজারের কাঠামো উন্নয়ন, শহর রক্ষা বাঁধের বুলনপুর হতে মিজানের মোড় পর্যন্ত ১২ কি.মি. পাকা রাস্তা নির্মাণ, আলিফ-লাম-মিম ভাটা থেকে চৌদ্দপাই পর্যন্ত ৪ লেন বিশিষ্ট ফ্লাই ওভার সহ রাস্তা, শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রশস্ত করণ ও এর পার্শে চলাচলের জন্যেই রঙ্গিন টাইলস দিয়ে ফুটপাত নির্মাণ, শহর রক্ষা বাঁধের পার্শ্বে চরম বিনোদনের জন্য অবকাঠামো উন্নয়ন, রাজশাহী টু ঢাকা নৈশকালীন ট্রেন চালুকরণ, রাত্রি কালীন বর্জ্য অপসারণ ও শহর পরিষ্কারকরণসহ আরও অনেক উল্লেখযোগ্য কাজ সুচারুভাবে সম্পন্ন করেছিলেন। তাছাড়াও তিনি রাজশাহী শহরের বহু তল ভবনের নির্মাণ উদ্যোগ প্রথম গ্রহণ করেছিলেন। এর ফলেই আবাসন খাতে ব্যাপক বিনিয়োগসহ অনেক ব্যবসা বাণিজ্যের প্রসার ঘটে যা এখনও চলমান রয়েছে। তিনি আবারও এমন নির্বাচনে নৌকা মার্কা প্রতীকে জয়লাভ করতে পারলে এই সকল কাজকে পুনরায় সংস্কার করে আরও বহু নতুন কাজের পরিকল্পনায় করবেন।
তিনি বলেছেন, অক্লান্ত পরিশ্রম আর নিজ চেষ্টায় ও মহানগরবাসী এবং সরকার সহ দেশ-বিদেশের বহু সংগঠনের সহযোগিতায় শুধুমাত্র সাড়ে চার বছরের মধ্যে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনকে অনেক অনেক উন্নয়নেরই দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গিয়েছিলেন। এই নগর সেবার উন্নয়নে ও মহানগরের আর্থ-সামাজিক বহু কাজে তিনি ব্যাপক অগ্রগতি সাধন করেছিলেন তা জনগণের অস্বীকার করার উপায় নেই। এই জন্যই পরিচ্ছন্ন নগরী হিসেবে রাজশাহী সকলের কাছেই সুখ্যাতি অর্জন করেছিল। কিন্তু তাঁর শতভাগ ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও যেন তিনি সামান্যই বাস্তবায়ন করতে পেরেছিলেন। সুতরাং বলতেই হচ্ছে এমন অসমাপ্ত অনেক কাজ সমাপ্ত করার লক্ষ্যে আরও একটিবার নির্বাচিত করা। 

সামনে আবারও এই “রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন” নির্বাচন। তাঁকে ইতিমধ্যেই জননেত্রী শেখ হাসিনা মেয়র পদে নির্বাচনে অংশগ্রহণের অনুমতি প্রদান করেছেন। অতীতের নেওয়া পরিকল্পনা বাস্তবায়ন সহ রাজশাহী বিশ্বমানের একটি নগরী হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যেই এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন মেয়রপ্রার্থী। “বদলে দেই রাজশাহী” স্লোগানে এমন মেয়র প্রার্থী বিভিন্ন এলাকায় প্রচার-প্রচারণা শুরু করা হয়েছেন। নির্বাচনী প্রচারণায় মাঠে রয়েছেন, রাসিকের সাবেক মেয়র পত্নি এবং নগর আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি শাহিন আকতার রেণী ও তাঁর জ্যেষ্ঠ কন্যা বলা যায় পরিশ্রমী এবং মেধাবী নেত্রী। তিনি ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সংসদেরই সহ সভাপতি আনিকা ফারিয়া জামান অর্ণা। সভা-সমাবেশ এবং উঠান বৈঠককে উপস্থিত হয়ে লিটনের জন্যই ভোট প্রার্থনা করছেন। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের নতুন ভোটারদের নৌকার পক্ষে আনতে কাজ করছেন অর্ণা জামান। তার সঙ্গে রয়েছেন নগর ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দ ও দলের সকল নেতৃবৃন্দ। সুতরাং আসন্ন সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে রাজশাহী পরিবর্তনে এই মহান জনপ্রিয় সফল নেতার এমন মেয়র নির্বাচনে যাওয়াটাই যেন যথার্থ বলে মনে করি।

লেখক:
নজরুল ইসলাম তোফা, টিভি ও মঞ্চ অভিনেতা, চিত্রশিল্পী, সাংবাদিক, কলামিষ্ট এবং প্রভাষক।

সময়ের কথায় প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

মন্তব্য করুন





টুইটারে আমরা

পূর্বের সংখ্যা