|

বাংলাদেশের অর্থনীতি কোন পথে?

অর্থনীতি

প্রফেসর ড. মুহম্মদ মাহবুব আলী : গত সাড়ে চার বছরে বাংলাদেশের অর্থনীতির সামষ্টিক ও ব্যষ্টিক উপাদানগুলো কখনো বেশ ভাল অবস্থানে ছিল, কখনোবা কিছুটা মন্দ অবস্থায় ছিল। এটি অর্থনীতির বিজনেস সাইকেলের নিয়ম। তারপরও সার্বিক বিবেচনায় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি গত সাড়ে চার বছর ৬.৩% থেকে ৬.৭% হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। একটি উন্নয়নশীল দেশের সমস্যা হচ্ছে পুঞ্জীভূত দুর্নীতি। জনগণ প্রত্যাশা করে দুর্নীতির সমূলে উত্পাটন করা দরকার। কিন্তু সেই সমূলে উত্পাটন করতে হলে যে ধরনের বিগ পুশের দরকার তা কিন্তু কোন গণতান্ত্রিক সরকারের পক্ষে সম্ভব হয় না। দুর্নীতিবাজরা সব সময় এক ধরনের দলমত নির্বিশেষে সিন্ডিকেট গঠন করে দুর্নীতি করে থাকে। ধীরে ধীরে কিছুটা দুর্নীতি হরাস পেলেও তা আরো গতিশীল হতে পারত। তবে সার্বিক বিবেচনায় বাংলাদেশের অর্থনীতিতে যে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে তা নেতিবাচক প্রভাবের তুলনায় অবশ্য অধিকতর গ্রহণযোগ্য। এগুলো হচ্ছে: (ক) পোশাক শিল্প খাতে মার্কিন ডলারের বিশ বিলিয়নের অধিকসহ রপ্তানি আয় এবারে সাতাশ দশমিক সাত বিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে যাওয়া ;( খ) বিদেশ থেকে অর্থ প্রেরণের পরিমাণ মার্কিন ডলার সাড়ে চৌদ্দ বিলিয়নের অধিক হওয়া; (গ) ফরেন রিজার্ভের পরিমাণ মার্কিন ডলার পনেরো বিলিয়নের অধিক হয়েছে; (ঘ) কর্মসংস্থানের হার বেড়েছে এবং মিথ্যে প্রচারণা সত্ত্বেও মধ্যপ্রাচ্যের দেশসমূহ এবং মালয়েশিয়ায় লোক প্রেরণ বেড়েছে; (ঙ) নারীর ক্ষমতায়ন এবং নারী শিক্ষার হার বেড়েছে। তবে তুলনামূলকভাবে ছেলেদের ড্রপ আউট বেড়েছে; (চ) মূল্যস্ফীতির হারও হরাস পেয়েছে; (ছ) দারিদ্র্যের হারের হরাসের সংখ্যা ১.৭ শতাংশ হারে কমেছে; (জ) মাথাপিছু বার্ষিক আয় ৯২৩ মার্কিন ডলার জনপ্রতি, যা প্রায় জনপ্রতি সাড়ে এক হাজার মার্কিন ডলারে উন্নীত হলে রাষ্ট্র মধ্যম আয়ের রাষ্ট্রে পরিণত হবে। অন্যদিকে যে সমস্ত ঘটনা সমাজে একটি অস্বস্তিকর অবস্থার সৃষ্টি করেছে সেগুলোর মধ্যে হচ্ছে গদ্মা সেতুতে বিশ্বব্যাংক কোন বিনিয়োগ না করেই দুর্নীতির প্রশ্ন উত্থাপন; হলমার্কের কেলেংকারি এবং দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা ডেসটিনি ও অন্যান্য এমএলএম কোম্পানিসমূহের নানামুখী অপতত্পরতা, শেয়ারবাজারে যারা স্বল্প সময়ে বিনিয়োগ করে প্রচুর অর্থ-বিত্তের মালিক হতে চেয়েছিলেন তাদের জন্য দুঃসংবাদ ছিল।

 

বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার সময় প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন পদ্মা সেতু নির্মাণের। এ লক্ষ্যে কাজ শুরু করলেও বিশ্ব ব্যাংক বারবার ফিরিয়ে দিয়েছে। অর্থমন্ত্রী অনেক ক্ষেত্রেই এমন ধরনের বক্তব্য রাখেন যা বাংলাদেশের সাধারণ মানুষকে হতাশাগ্রস্ত করে ফেলে। বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়ন ছাড়াই নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণে একটি শক্তিশালী ভূমিকা গ্রহণ করা উচিত ছিল। পদ্মা সেতুর জন্য দরপত্র আহ্বানের পরও অর্থমন্ত্রীর উল্টোপাল্টা কথা জনগণের মনে রোষের সৃষ্টি করছে। বরং যোগাযোগমন্ত্রীকে তত্পর মনে হচ্ছে। যদি সেনাবাহিনীর সম্পূর্ণ তত্ত্বাবধানে বিদেশ থেকে কোন প্রবাসী বাংলাদেশি বিশেষজ্ঞকে এনে আমাদের ফরেন রিজার্ভের একটি অংশ নেট ফরেন এসেটের মাধ্যমে ডোমেস্টিক ক্রেডিটে এনে কাজ শুরু করা যায় তবে ভাল হয়। এ কাজে অংশ নেয়ার জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বড় বড় প্রতিষ্ঠানের সাথে আলাপ-আলোচনা ও দ্বিপাক্ষিক সমঝোতার মাধ্যমে ব্যবস্থা নেয়া যেতে পারে। চীন, দক্ষিণ কোরিয়া, মালয়েশিয়া ও রাশিয়া ইতিমধ্যে পদ্মা সেতু নির্মাণে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। আগে তো কমপেরেটিভ স্টাডি তৈরি করে তা প্রকাশ করতে হবে। অথচ এক ফুত্কারেই অর্থমন্ত্রী সব কিছু নাকচ করে দিচ্ছেন। উনার মূল উদ্দেশ্য কি তা বোঝা সত্যি দুষ্কর হয়ে পড়েছে। ক্ষমতায় থেকে উনার ব্যর্থতাকে দুর্নীতির গল্পগাঁথায় ভরে দিয়ে দেশের কল্যাণ হয় না, বরং সরকারের সমূহ ক্ষতি সাধন করছেন। অথচ অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ড. মশিউর রহমান অনেক বেশি দক্ষ ও পারঙ্গম। তাকে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে কাজে লাগানো দরকার। যেহেতু বর্তমান সরকারের হাতে সময় আছে বড় জোর পাঁচ মাস, এর মধ্যেই ব্যষ্টিক ও সামস্টিক অর্থনীতিকে আরো বেগবান করতে প্রয়াস নেয়া দরকার। বর্তমান অর্থমন্ত্রীর বেশ কিছু বচন সরকারের ভাল কাজকে ডুবানোর জন্য যথেষ্ট। জনগণের প্রত্যাশা যে কোনভাবে হোক পদ্মা সেতু নির্মাণ করা হবে। এই প্রত্যাশায় ভাটা পড়লে কিন্তু ক্ষতির সম্ভাবনা আছে। আশা করব নিজস্ব অর্থায়নে যাতে পদ্মা সেতু তৈরি শুরু হয় সেজন্য প্রধানমন্ত্রী জোর পদক্ষেপ নিবেন। গত চার বছরে বাংলাদেশ ব্যাংক যে মুদ্রানীতি ঘোষণা করেছিল তা অনেকাংশে বাস্তবায়িত হয়েছে। এদিকে মুদ্রা সরবরাহের দু’টি অংশের একটি হচ্ছে হাই পাওয়ার্ড মানি, অন্যটি হচ্ছে মানি মাল্টিপ্লায়ার। আবার মানি মাল্টিপ্লায়ারের দু’টি কম্পোনেন্ট হচ্ছে কারেন্সি ডিপোজিট রেশিও এবং রিজার্ভ ডিপোজিট রেশিও।

 

সাম্প্রতিক সময়ে দেখা যাচ্ছে মানি মাল্টিপ্লায়ার বেড়েছে। এটি যদি উত্পাদনশীল খাতে ব্যয় হয় তবে সার্বিকভাবে দেশের জন্যে ইতিবাচক প্রভাব বয়ে আনবে। এদিকে মানি মাল্টিপ্লায়ার বেড়ে যাওয়ায় অল্প মুদ্রা সরবরাহ করলে দ্রুত জনগণের কাছে পৌঁছে দেয়া সম্ভব হচ্ছে। অন্যদিকে মানি মাল্টিপ্লায়ার যখন বেশি থাকে তখন বাংলাদেশ ব্যাংক মুদ্রা সরবরাহের অতিরিক্ত প্রয়াস নিলে দ্রব্যের দামের উপর প্রভাব রাখবে এবং মূল্যস্ফীতি ঘটতে পারে। এমনিতে বর্তমানে মূল্যস্ফীতির হার রমজান মাস শুরুর পূর্বে কমে এসেছিল। শীঘ্রই বাংলাদেশ ব্যাংক মুদ্রানীতি ঘোষণা করতে যাচ্ছে। আশা করব এই মুদ্রানীতিতে সংকোচনমূলক ঘোষণা থাকবে। কেননা নির্বাচনী বত্সরে স্বাভাবিক নিয়মে মূল্যস্ফীতি বাড়ার সম্ভাবনা আছে। দেশের অর্থনীতিতে সবচেয়ে বড় পোশাক শিল্প খাত আজ হুমকির সম্মুখীন। মার্কিন জিএসপি সুবিধা স্থগিতকরণে আসলে আমাদের পোশাক খাতে তেমন প্রভাব পড়বে না। কিন্তু ইউরোপীয় ইউনিয়নও জিএসপি সুবিধা অনির্দিষ্টকালের জন্যে বহাল রাখার প্রতিশ্রুতি না দিয়ে বরং বারবার যে সমস্ত কারণে সমস্যার সৃষ্টি করছে তা সমাধানে কেবল সরকার একা নন বরং কল-কারখানার মালিক, শ্রমিক নেতৃবৃন্দ ও বিদেশি ক্রেতাদের একযোগে কাজ করতে হবে। এদিকে রেশমার উদ্ধার নিয়ে যে মিথ্যে কল্পকাহিনী তৈরি করেছে, তা দুঃখজনক। সেনাবাহিনীকে ধন্যবাদ জানাই সুষ্ঠুভাবে রেশমা উদ্ধারসহ জীবিত ও মৃতদের উদ্ধারে কর্মকান্ড পরিচালনার জন্য শ্রমমান উন্নয়ন ও কারখানার মানের উন্নয়নের বিকল্প নেই। এটি কেবল পোশাক শিল্প খাতে নয়, এমনকি লেদার ইন্ডাস্ট্রি, অধিকাংশ ওষুধ নির্মাণ প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। সরকারের কাছে আশা করব, জরুরি ভিত্তিতে বিভিন্ন শিল্প-কারখানা পরিদর্শনের জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষ জনবল নিয়োগ করুন। কিছু কিছু ক্ষেত্রে কৃচ্ছ্রতা সাধন হিতের বদলে অনিষ্ট সাধন করে থাকে। এজন্যেই পরিদর্শক দলকে কার্যকরী ভূমিকা পালন করার মত সক্ষমতা অর্জন করার ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। অন্যদিকে অননুমোদিত যে সমস্ত কারখানা আছে তাদের নিয়মনীতির মধ্যে আনতে হবে। এদিকে রমজান মাস হচ্ছে সিয়াম সাধনের মাস। অথচ এ মাসে পাইকারী ও খুচরা বিক্রেতারা কোন নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে যেভাবে তরিতরকারী থেকে আরম্ভ করে কাপড়-চোপড়ের দাম বাড়াচ্ছে তা খুবই হতাশাজনক। নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যদ্রব্যের দাম যথাযথভাবে নিরূপণের জন্য টিসিবি-কে সক্ষম করে তোলার দরকার ছিল। বিগত চারদলীয় জোট সরকার টিসিবি-কে অচল করে দিয়েছিল। বর্তমান মহাজোট সরকার টিসিবি-কে সচল করার প্রয়াস গ্রহণ করলেও সক্ষম হচ্ছে না। টিসিবি-কে সচল করা অত্যন্ত প্রয়োজন। নচেত্ একচেটিয়া কারবারী হিসাবে বিক্রেতারা যেভাবে দ্রব্যের দাম সিয়াম সাধনার মাসে বাড়িয়েছে তার কোন প্রতিকার নেই। স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং বাজার কমিটি যৌথভাবে প্রতিটি বাজারে কি মূল্যে বাজারে পণ্য ক্রয় করা হচ্ছে এবং বিক্রয় হচ্ছে তা মনিটরিং করে বাজারে নোটিস আকারে টাঙ্গিয়ে দেয়া দরকার। সাধারণ জনমানুষের কথা চিন্তা করে এফবিসিসিআই-এর সহায়তা সরকার নিলেও তা তেমন কার্যকরী হয়নি।

 

হেফাজতে ইসলাম নারী সম্পর্কে যে সমস্ত বক্তব্য দিচ্ছে, তা নারীর অধিকার কেবল ক্ষুণ্ন করছে না বরং অর্থনীতিতে নারীর অংশগ্রহণকে বাধার সম্মুখীন করছে। বাংলাদেশের ন্যায় উন্নয়নশীল দেশে যেখানে নারীর সংখ্যা পুরুষের চেয়ে কিছুটা হলেও বেশি সেখানে ঘরে বন্দী করে রাখার এই অপপ্রয়াস অর্থনীতিকে পেছনে ঠেলে দেয়ার একটি চক্রান্ত। দেশে পোশাক শিল্পখাতে নারী শ্রমিকদের অবদান সবচেয়ে বেশি। আবার মধ্যপ্রাচ্যসহ বভিন্ন দেশে নারী শ্রমিকেরা যাচ্ছেন এবং দেশের জন্যে মূল্যবান বৈদেশিক মুদ্রা প্রেরণ করছেন। আজ নারীর প্রতি যে অবমাননা করা হচ্ছে, তা দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনের ক্ষেত্রে বাধার সম্মুখীন হবে। নারীর ক্ষমতায়ন বৃদ্ধি, উপযুক্ত শিক্ষা-প্রশিক্ষণ এবং দক্ষ মানব সম্পদ গঠন করতে হবে।

 

যেহেতু বর্তমান সরকারের হাতে সময় কম, সে জন্য বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি প্রতিমাস অন্তর পর্যালোচনা করে বাস্তবায়নের অগ্রগতি দেখার পাশাপাশি যে সমস্ত কারণে বাস্তবায়ন হচ্ছে না সেগুলো সমাধান করতে ব্যবস্থা নেয়া দরকার। সরকার যে সমস্ত সামাজিক কল্যাণ কর্মসূচি গ্রহণ করেছেন সেগুলো বাস্তবায়নে আরো দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হওয়া দরকার। আরো দু’টো বিষয় খেয়াল রাখা দরকার তাহলে— ব্যাংকের উচ্চ সুদের হার এবং আমানতের উপর সুদ ও প্রদানকৃত ঋণের মধ্যে সুদের ব্যবধান অবশ্যই হরাস করা। ধীরে ধীরে টাকার মূল্যমান শক্তিশালী হচ্ছে, যা গত সাড়ে চার বত্সরে সামস্টিক অর্থনীতির জন্য একটি ইতিবাচক ঘটনার ফল। কিন্তু সমস্যা হলো এভাবে টাকার মূল্যমান শক্তিশালী হতে থাকলে রপ্তানির ক্ষেত্রে প্রকৃত আয় কমে যেতে পারে এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে আমরা সুবিধা হারাতে পারি। এ ব্যাপারে সতর্ক থাকা বাঞ্ছনীয় হয়ে পড়েছে। Soverein বন্ড ছাড়ার যে ব্যবস্থা হচ্ছে তা যদি সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি খাত যাতে নিয়মনীতি মেনে বন্ড ইস্যুর ক্ষেত্রে এগিয়ে আসে সেদিকে লক্ষ্য রাখা দরকার। কেননা বেসরকারি খাতের অবদান অনেক থাকলেও দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে হবে। এক শ্রেণীর উদ্যোক্তা ব্যবসায়ী-শিল্পপতি আন্তর্জাতিক মানের হলেও আরেক শ্রেণী ঠিকমত শ্রমিকদের বেতন-ভাতাদি পরিশোধ করে না, সময়মত কর পরিশোধ করে না, বরং তারা ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে ঋণ খেলাপীর সৃষ্টি করেছে বিভিন্ন আমলে। আসলে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানে বেসরকারি উদ্যোক্তারা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সম্মান দেয়ার বদলে পেশাদার হিসাবে বিবেচনা না করে ঠকাতে ব্যস্ত থাকেন। দেশের অর্থনীতির বৃহত্তর স্বার্থে প্রতিটি মানুষের নিজের বিবেকের কাছে জবাবদিহি করতে হবে। রমজান মাসে যখন হরতাল দিয়ে জনজীবন স্থবির করার প্রয়াস নেয়া হয় তখন এফবিসিসিআই এর ১৬ই জুলাইয়ের পত্রিকান্তরে প্রকাশিত প্রতিবেদনটিকে সত্য বলে মনে হয়। অর্থনীতি নিয়ে আরেকটু পরিপক্বতা শোভনীয়। যখন-তখন কারণে-অকারণে হরতাল-অবরোধ সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক অবস্থাকে বিনষ্ট করছে। সহিংসতা, তান্ডবলীলা একটি দেশের জন্যে দুর্ভোগ ডেকে আনে। অন্য সময়ের তুলনায় আইন-শৃংখলা পরিস্থিতি ভাল। তবে অর্থনৈতিক উন্নয়নের বৃহত্তর স্বার্থে গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত রাখার জন্যে দুর্বৃত্তায়ন হরাস ও সামাজিক কর্মকান্ড পরিচালনার পাশাপাশি দায়িত্বশীল পদে যারা আছেন তাদের দায়িত্বের সাথে বক্তব্য ও দায়িত্ব পালন করা আবশ্যক। বাংলার সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা খুব বেশি নয়, তবে কিছু বিভ্রান্তকারী ভুল পথে পরিচালিত করতে চায়। পাশাপাশি এক শ্রেণীর বুদ্ধিজীবী কন্সালটেন্সীর নামে আয়-উপার্জন করার জন্য বিভিন্ন রং-চং-এর তথ্য-উপাত্ত হাজির করে ব্যবসা করেন। এদের ব্যাপারে দলমত নির্বিশেষে সজাগ থাকা দরকার। কেননা তারা বিদেশিদের কাছেও ভুল তথ্য দিয়ে বিভ্রান্ত করেন। বাংলাদেশের অর্থনীতির সার্বিক গতিধারা বজায় রাখার জন্যে একটি শক্তিশালী টাস্কফোর্স গঠন করা দরকার- অর্থ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে যিনি থাকবেন তার নেতৃত্বে অর্থ সচিব, বাণিজ্য সচিব, পরিকল্পনা কমিশনের সচিব, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, এনবিআর-এর চেয়ারম্যান এবং অর্থনীতিবিদরা। দেশের অর্থনীতির ক্রমিক অগ্রগতি যাতে নির্বাচনের কারণে এবং নির্বাচন পরবর্তীতে ব্যাহত না হয় সেজন্যে দলমত নির্বিশেষে খেয়াল রাখা দরকার। একটি ক্ষুরধার তরবারীর উপর বাংলাদেশের উন্নয়ন কাঠামো দাঁড়িয়ে আছে।

-দৈনিক ইত্তেফাকের সৌজন্যে

সময়ের কথায় প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

মন্তব্য করুন





টুইটারে আমরা

পূর্বের সংখ্যা