|

নাদাল ও সেরেনার ইউএস ওপেন

Rafael-Nadal

Rafael-Nadal

 

ইতিহাস গড়ার জন্যই যেনো জন্ম তার। আর তাইতো একের পর এক সাফল্য ঝুলিতে পুরে অনেকটা অপ্রতিরোধ্য গতিতেই ছুটে চলেছেন রাফায়েল নাদাল। ইনজুরি অধ্যায়টাকে ঝেড়ে ফেললে মূলত তার গোটা ক্যারিয়ারটাই সাফল্যের আলপনায় আঁকা।

সর্বশেষ তার সাফল্যের মুকুটে যোগ হলো আর একটি পালক। তিনি গড়লেন আর একটি ইতিহাস। দ্বৈরথে বিশ্বের এক নম্বর খেলোয়াড় নোভাক জোকোভিচকে হারিয়ে ইউএস ওপেনের শিরোপা জিতেছেন স্পেনের এই অদম্য টেনিস তারকা।

ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় ইউএস ওপেন জিততে সার্বিয়ার তারকা জোকোভিচকে একরকম উড়িয়েই দিয়েছেন ২৭ বছর বয়সী নাদাল। এটি তার ক্যারিয়ারের ১৩তম গ্র্যান্ড স্ল্যাম শিরোপা।

সদ্য নিউ ইয়র্কের ফ্লাশিং মিডোর আর্থার অ্যাশ স্টেডিয়ামে ২৩ হাজার দর্শককে মুগ্ধ করা ৩ ঘণ্টা ২১ মিনিট স্থায়ী এই ম্যাচের একটি র্যালি হয় টুর্নামেন্টের সবচেয়ে দীর্ঘ ৫৪ শটের। ৬-২, ৩-৬, ৬-৪ ও ৬-১ সেটে জোকভিচকে হারিয়ে বছরের শেষ শিরোপার স্বাদ পান নাদাল।

হাঁটুর চোটের কারণে গত বছরের ইউএস ওপেন খেলতে পারেন নি নাদাল। আর তাই এবার এ শিরোপাটি তার জন্য ছিলো একটা বড় চ্যালেঞ্জ। কেননা, এবার বছরের শেষ গ্র্যান্ড স্লামটি জিতে তার লক্ষ্য এক নম্বর আসনটি ফিরে পাওয়া।

শিরোপা জিতে নাদাল বলেন, “আমি ভীষণ আবেগাক্রান্ত। নোভাকের বিপক্ষে খেলাটা সবসময়ই বিশেষ কিছু। তার মতো আর কেউই আমাকে সীমার শেষ প্রান্তে নিয়ে যেতে পারে না।”

অন্যদিকে দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্যি যে, পাঁচবার ইউএস ওপেনের ফাইনালে উঠে চারবারই হেরে গেলেন জোকোভিচ। নাদালের কাছে শিরোপা হারানোর পর তিনি অবশ্য নাদালকে নাদালকে অভিনন্দন জানাতে এতোটুকু কার্পণ্য করেননি। তিনি বলেন, “নাদাল খুব ভালো খেলেছে। জয় আর ট্রফিটা তারই প্রাপ্য ছিল। আমি চেষ্টা করেছি। পরবর্তীতে ভাল কিছু করাই আমার লক্ষ্য। ভক্ত ও পরিবার আমার সাথে আছে। খুব তাড়াতাড়ি এটা কাটিয়ে উঠবো।”

আর নাদালও শিরোপা জিতে বলেন, ‘জোকভিচসহ বড় খেলোয়াড়দের বিপরীতে খেলাটা অনেক বড় ব্যাপার।’

ইউএস ওপেনের ফাইনালে এর আগে দু’বার লড়েছেন এই দুই তারকা। ২০১০ সালে চ্যাম্পিয়ন হন নাদাল আর পরের বছর তাকে হারিয়েই ফ্লাশিং মিডোই প্রথম শিরোপার স্বাদ পান ছয়টি গ্র্যান্ড স্লাম জয়ী জোকোভিচ।

……………………………………………………………………………………………………………….

 

serena-1

 যে জিততে জানে, তাকে হারানোর সাধ্য কার? এ বাক্যটি এভাবেও লেখা যায়Ñ অপ্রতিরোধ্য সেরেনা উইলিয়ামসকে থামানোর সাধ্য নেই ভিক্টোরিয়া আজারেঙ্কার। ইউএস ওপেনের শিরোপা ধরে রাখলেন নিজের কাছেই। ফ্ল্যাশিং মিডোসে শিরোপা ধরে রাখার লড়াইয়ে বেলারুশিয়ান ভিক্টোরিয়া আজারেঙ্কাকে হারিয়ে দিলেন এ মার্কিন কৃষ্ণকন্যা। ম্যাচের স্কোরলাইন ছিল : ৫-৭, ৭-৬ (৬), ১-৬। এটি সেরেনার ক্যারিয়ারের সপ্তদশ গ্র্যান্ডসø্যাম, ৫৫তম টাইটেল এবং পঞ্চম ইউএস ওপেনের শিরোপা। পক্ষান্তরে ২৪ বছর বয়সী আজারেঙ্কার এটা ক্যারিয়ারের চতুর্থ গ্র্যান্ডস্ল্যাম ফাইনালে দ্বিতীয় এবং ৩১তম ডব্লিউটিএ ফাইনালে চতুর্দশ হার। টেনিসের পেশাদারিত্বের যুগে মহিলাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বয়সে ইউএস ওপেন জেতার রেকর্ড গড়লেন সেরেনা (৩১ বছর)। ভেঙ্গে দিয়েছেন স্বদেশী ক্রিস এভার্টের রেকর্ড।

চলতি মৌসুমে আজারেঙ্কা সেরেনার সামনে নিজেকে বেশ শক্ত প্রতিপক্ষ হিসেবে আবির্ভূত করেছিলেন। গত রবিবারের ফাইনালে (বাংলাদেশ সময় সোমবার ভোর) শুধু আজারেঙ্কাই নয়, বাতাসও ছিল সেরেনার আরেক প্রতিপক্ষ। কিন্তু সবকিছুকে ছাপিয়ে পঞ্চমবারের মতো ইউএস ওপেন চ্যাম্পিয়ন হন মহিলাদের পাওয়ার টেনিসের অন্যতম প্রবক্তা সেরেনা।

২৬ সেপ্টেম্বর ৩২ বছরে পা দিতে যাওয়া সেরেনা প্রথম সেটটি বেশ কষ্ট করে জেতেন। বাতাসের সঙ্গে আজারেঙ্কার প্রতিরোধের সামনে দ্বিতীয় সেটটি হেরে একপর্যায়ে তো নিজের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে র্যাকেট কোর্টের বাইরে ছুঁড়ে ফেলেন! তবে পরে আর কোন অঘটন ঘটেনি। তৃতয়ি সেটে বেশ সহজেই দ্বিতীয় বাছাই আজারেঙ্কাকে হারিয়ে মেতে ওঠেন শিরোপা জয়ের উল্লাসে।

আর একটি গ্র্যান্ডসø্যাম জিতলেই মার্টিনা নাভ্রাতিলোভা ও ক্রিস এভার্টকে ছুঁয়ে ফেলবেন সেরেনা। তবে শীর্ষে থাকা মার্গারিট কোর্টের চেয়ে এখনও সাতটি পিছিয়ে এই তারকা। ম্যাচ শেষে সেরেনা বলেন, ‘ভিকা (ভিক্টোরিয়া) দারুণ প্রতিপক্ষ। কঠিন লড়াকু। সে কারণে তিনি একাধিক গ্র্যান্ডস্ল্যাম জিতেছেন।’

প্রতিশোধ নেয়া হলো না ভিক্টোরিয়া আজারেঙ্কার। ইউএস ওপেনের গত আসরের মতো এ আসরের ফাইনালেও সেরেনার কাছে হেরে যান তিনি। আজারেঙ্কা এ বছর দুবার (হার্ডকোর্টের দোহা ও সিনসিনাটির ফাইনালে) সেরেনাকে হারিয়েছিলেন। এ কারণেই অনেকেই ভেবেছিলেন ইউএস ওপেনেও হয়তো তিনি সেরেনাকে হারাতে সক্ষম হবেন। কিন্তু তাদের সেই ধারণা ভুল প্রমাণিত করেন সেরেনা। ১৬ বারের মোকাবেলায় আজারেঙ্কাকে এ নিয়ে ১৩ বারই হারের তিক্ত স্বাদ উপহার দিলেন সেরেনা। দ্বৈতের সেমিতে বড় বোন ভেনাসকে নিয়ে হেরে গিয়ে যে কষ্ট পেয়েছিলেন, এককের ফাইনালে শিরোপা জিতে সে কষ্ট লাঘব করলেন সেরেনা।

প্রথম সেটে লড়াই করে হেরে, দ্বিতীয় সেটে ঘুরে দাঁড়িয়েছিলেন আজারেঙ্কা। কিন্তু তৃতীয় ও চূড়ান্ত সেটে সেরেনার পাওয়ার টেনিসের কাছে অসহায় আত্মসমর্পণ করতে হয় তাকে। পৌনে তিন ঘণ্টা লড়াই শেষে উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়েন সেরেনা। ইউএস ওপেনের ট্রফিটা তাই অধরাই রয়ে গেল আজারেঙ্কার। শিরোপাটা সেরেনারই প্রাপ্য বলে মেনে নিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের টানা দুবারের চ্যাম্পিয়ন আজারেঙ্কা, ‘এটা কষ্টকর একটা হার। তবে সেরা খেলোয়াড়েরই (সেরেনা) জয়টা প্রাপ্য ছিল। তার সঙ্গে ফাইনালে খেলতে পারাটাই অসাধারণ।’

সেরেনার জন্য ২০১১ সালটা ছিল হতাশার চাদরে ঢাকা। মাত্র ২টি শিরোপা জেতেন। অব্যাহত ইনজুরি ও বাজে ফর্মের দরুণ অনেকেই আশা ছেড়ে দিয়ে ভেবেছিলেন, হয়ত অতলেই চলে গেলেন প্রমীলা পাওয়ার টেনিসের অন্যতম কর্ণধার সেরেনা। কিন্তু না, তা হয়নি। আরেকটু খোলাসা করে বললে, হতে দেননি। হ্যাঁ, অদম্য লৌহ মানসিকতার সেরেনা হাল ছেড়ে দেননি। তাইতো ২০১২ সালের শুরু থেকেই ইঙ্গিত দেন ফর্মে ফেরার। ২টি গ্র্যান্ডস্ল্যাম ও অলিম্পিক সহ মোট ৭টি শিরোপা জেতেন। গত বছর সাফল্যে মোড়ানোর পর নতুন বছর অর্থাৎ ২০১৩ সালের শুরু থেকেই সেরেনা রয়েছেন অপ্রতিরোধ্য ছন্দে। এখন পর্যন্ত শিরোপা করায়ত্ত করেছেন ৯টি (ফাইনাল ১১টি)। এক ক্যালেন্ডার বর্ষে সেরেনা কখনই এতগুলি শিরোটা এর আগে জেতেননি। সামনেই ডব্লিউটিএ চ্যাম্পিয়নশিপ। ওই শিরোপাটাও যদি শোভা পায় তার হাতে, তাহলে নিঃসন্দেহে নিজেকে সেরেনা নিয়ে যাবেন অবিস্মরণীয় উচ্চতায়। পারবেন কি তিনি?

rumelboss@gmail.com

 

 

 

সময়ের কথায় প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

মন্তব্য করুন





টুইটারে আমরা

পূর্বের সংখ্যা