|

বিশ্ব দাবায় জিয়ার প্রত্যয়

দাবা-১

বিশ্বকাপ দাবা কোয়ালিফায়ার্সে ভালো খেলার প্রত্যয় ব্যক্ত করে নরওয়ের উদ্দেশ্য বাংলাদেশ ছেড়েছেন প্র্যান্ডমাষ্টার জিয়াউর রহমান। যাবার কালে ঢাকায় মোরসালিন আহমেদের সাথে একান্ত আলাপনে জিয়া যা বলে গেছেন, সময়ের কথার পাঠকদের জন্য নিচে তা তুলে ধরা হলো-

 

 

বিশ্বকাপ দাবা কোয়ালিফায়ার্সে ভালো খেলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন গ্র্যান্ডমাস্টার জিয়াউর রহমান। তবে নক আউট ভিত্তিক প্রথম রাউন্ডেই তাকে ডিফেন্ডিং রানার আপ ইসরাইলের গ্র্যান্ডমাস্টার বরিস গেলফান্ডের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। আগামী ১১ ও ১২ আগষ্ট দুইটি ম্যাচ খেলতে গত শুক্রবার নরওয়ের ট্রমসোয় যান জিয়া। পার্টিসিপেশন মানি হিসেবে জিয়া ফিদে থেকে পাঁচ হাজার মার্কিন ডলার পাচ্ছেন। বাংলাদেশ দাবা ফেডারেশন তাকে ঢাকা-নরওয়ে এয়ার টিকিট এবং বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড আনুসাঙ্গিক খরচের জন্য দুই লাখ টাকা দিচ্ছে। উল্লেখ্য গত ফেব্রুয়ারি মাসে তিনি শ্রীলংকার কলম্বোয় এশিয়ান জোনাল দাবা চ্যাম্পিয়ন হবার সুবাদেই ওয়ার্ল্ড কাপ চেস কোয়ালিফায়ার্সে খেলার সুযোগ পেয়েছেন। এ নিয়ে তিনি তৃতীয়বারে মত খেলতে যাচ্ছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার জিয়া বলেন, কোয়ালিফায়ার্সের জন্য তাকে একা একাই প্রস্তুতি সারতে হয়েছে। প্রস্তুতিমূলক ম্যাচ খেলার সুযোগ পাননি। তবে ভাল খেলার আপ্রাণ চেষ্টা করবেন। বিশ্বের সেরা ১২৮ জন খেলোয়াড় এতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

 

ঢাকা মোহামেডানের খেলোয়াড় জিয়া আত্মপ্রত্যয়ী কন্ঠে বলেন, ওয়ার্ল্ড র্যাংকিংয়ের সর্বোচ্চ রেটিংধারী গ্র্যান্ডমাস্টার নরওয়ের ম্যাগনাস কার্লসেন, যার রেটিং ২৮৬২ এবং দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রেটিংধারী আর্মেনিয়ার লেভন অ্যারিয়ান, যার রেটিং ২৮১৬। তাদের বিপক্ষে খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে। তবে কোয়ালিফায়ার্সে তার প্রতিপক্ষ গেলফান্ড, যার রেটিং হচ্ছে ২৭৭৩। তিনি ওয়ার্ল্ড র্যাংকিংয়ে নবম। অন্যদিকে জিয়ার রেটিং ২৪৭৫। অর্থাৎ প্রতিপক্ষ একে অপরের রেটিং ব্যবধান প্রায় ৩০০। এ প্রসঙ্গে জিয়া জানান, বিশ্বসেরা গ্র্যান্ডমাস্টারদের সঙ্গে খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে। সেই অভিজ্ঞতার আলোকেই তিনি সর্বোচ্চ ভাল খেলার চেষ্টা করবেন।

 

দেশের হয়ে প্রথম ১৯৯৭ সালে ওয়ার্ল্ড কাপ কোয়ালিফায়ার্স খেলার সুযোগ পান উপমহাদেশের প্রথম গ্র্যান্ডমাস্টার নিয়াজ মোরশেদ। এরপর ২০০৭ সালে দুই গ্র্যান্ডমাস্টার এনামুল হোসেন রাজীব ও জিয়া এবং ২০১১ সালে সর্বশেষ অংশগ্রহণ করেন জিয়া। এদের মধ্যে রাজীবই প্রথম রাউন্ড উতরিয়ে দ্বিতীয় রাউন্ডে খেলার যোগ্যতা দেখান।  এক প্রশ্নের জবাবে জিয়া বলেন,  এ নিয়ে আমি তিনবার ওয়ার্ল্ড কাপ কোয়ালিফায়ার্স খেলতে যাচ্ছি, কিন্তু কোন বারই বিশেষ প্রস্তুতি নিয়ে যেতে পারছি না। কোচবিহীন নিজে নিজে প্রস্তুতি নিয়েই খেলতে যেতে হচ্ছে। অপর এক প্রশ্নের তিনি জানান, এর ফলে নির্দিষ্ট একটি গন্ডির বাইরে রেরিয়ে আসতে পারছি না।

জিয়ার প্রত্যয়দীপ্ত উচ্চারণে দেশবাসি তার সাফল্যের ব্যাপারে আশাবাদী। এখন দেখা যাক প্রতিযোগিতার ফলাফল কি দাঁড়ায়।

সময়ের কথায় প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

মন্তব্য করুন





টুইটারে আমরা

পূর্বের সংখ্যা