কানাডায় প্রতিটি স্কুল একটি ইউনিক

Filed under: জাতীয় |

ড. ওয়াইজউদ্দিন আহমেদ, প্রফেসর, ইঞ্জিনিয়ারিং ডিপার্টমেন্ট, কনকর্ডিয়া ইউনিভার্সিটি, মন্ট্রিয়ল।

 বাংলাদেশের শিক্ষা প্রসঙ্গে কোনোভাবেই এড়িয়ে যাওয়া যায় না ছাত্র রাজনীতি ইস্যুটিকে। বাংলাদেশে সেই পাকিস্তান আমল থেকে ছাত্র রাজনীতি চলে আসছে এবং আজও বিদ্যমান। আগে যে রাজনীতি ছিলো সেটা ছিলো সুষ্ঠ। ভাষা আন্দোলনের যে কথা বলা হচ্ছে, সেটা ছিলো অপরিহার্য। দেশাত্মবোধ থেকে উদ্ভূত। অপরদিকে, কানাডায় প্রতিটি স্কুল একটি ইউনিক। এখানেও পলিটিক্স আছে তবে সেটা সুষ্ঠ, সুন্দর।

আমাদের দেশে পলিটিক্স লাইক ক্যান্সার। আগে লিডাররা শুধু পলেটিক্স করতো আর এখন সে পলিটিক্স ছড়িয়ে গেছে সর্বত্র। এখন গ্যাস বা মিটার রিডার বলেন, কে করে না পলেটিক্স? সরকার তো এই ক্ষতিকর রাজনীতি বন্ধ করার চেষ্টাই করছে না, বরং তারা নিজেরাও এটা করছে। এটা এতো সহজ নয় যে, বললাম আর স্টুডেন্ট পলেটিক্স বন্ধ হয়ে গেলো।

সেকেন্ড ইস্যু আমি মনে করি, সমস্যাটা আমাদের গোড়াতেই। আজ আপনি যদি কাউকে বলেন, তোমার জীবনের লক্ষ্য কি? উত্তরে কেউ কি বলে যে, আমি স্কুল টিচার হবো? আর আমি যদি এখানে কম্পেয়ার করি, কারা এখানকার স্কুল টিচার? এখানে স্কুল টিচার হতে হলে অবশ্যই তার সেই মানের ডিগ্রী এবং ব্রাইট এডুকেশন থাকতে হবে। তা না হলে এখানে স্কুল টিচার হওয়া সম্ভব নয়, এমনকি ইউনির্ভাসিটি লেবেলেও। স্পেশালি এলিমেন্টারি টিচার ইউ হ্যাভ টু বি রিয়েলি চাইল্ড এডুকেটর, তা না হলে ইউ ক্যান নট বি। আমাদের দেশে কি হচ্ছে? আগে এখানকার কথা একটু বলি, যদিও আমি এখানকার স্কুল পর্যায়ে শিক্ষা নেইনি। ইন্টারমেডিয়েটের পরই চলে এসেছি। তবে দেখা এবং অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, আমরা কিভাবে পড়েছি, সিএটি-ক্যাট, সিএটি-ক্যাট বলতে বলতে আমরা শিখি আসলে সিএটি-ক্যাট। এখানকার পদ্ধতি ভীন্ন। একদিনের রিডিংয়ের পর তাকে আর সেটা পড়ানো হয় না। এখানে জানেন, গ্রেড সিক্স বা গ্রেড ফাইভ পর্যন্ত কোনো পরীক্ষা নেই। দি টিচার ডিসাইড ওকে হি ইজ ম্যাচিউর এনাফ টু মুভ টু দ্য নেক্সট গ্রেড অর নট। আর আমাদের দেশে কি করা হয়, আই অ্যাম জাস্ট কম্পেয়ার, কিন্ডার গার্ডেনের কথাই যদি বলি, দে হ্যাভ নো লাইফ! বিরাট বইয়ের ব্যাগ কাঁধে দে আর গোয়িং টু স্কুল! শুধু স্কুল নয়, স্কুল থেকে ফিরে দেখবেন থ্রি টিউটোরিয়ালস! এটা কি জীবন! কী শেখাবেন আপনি ঐ শিশুটিকে? আর এখানে ঠিক তার উল্টোটি। শিশুটির স্বাধীনতা, তার স্বভাবজাত প্রবৃত্তির দিকে নজর রেখেই এথানে শিক্ষা দেয়া হয়। আমাদের দেশে সেই শিশু বয়স থেকেই ছাত্রদের অনেক চাপের মুখে ফেলে দেয়া হয়, যে চাপটা এখানে নেই। ক্লাস সিক্স সেভেন থেকে শুরু হয় পরীক্ষা নেয়া। কাজেই আমাদের সমস্যাটা কিন্তু গোড়াতেই। সেখানে শিশুকে স্কুলে ভর্তি করাতে গিয়ে মা-বাবাকেও রীতিমতো যুদ্ধ করতে হয়। শিশুদের ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র যেনো বিসিএস কোয়েশ্চেন! এতো কঠিন কঠিন সব প্রশ্ন। আমার এক পরিচিত ফ্যামিলীর কথা জানি, একটা স্কুলে ক্লাস টু’র ভর্তি পরীক্ষার জন্য মা এবং মেয়ে দু’জনেই তিনমাস বিসিএস পরীক্ষার প্রশ্ন মুখস্ত করেছে। মা বলছে, এখন আমি নিজেও বিসিএস পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবো। চিন্তা করে দেখুন ব্যাপারটা! এ দেশে থেকে যা অকল্পনীয়।

প্রতি বছরই আমার বাংলাদেশে যাওয়া পড়ে শিক্ষা সংক্রান্ত কাজে। সেখানকার পরিবেশ, পরিস্থিতি, শিক্ষা দানের পদ্ধতি দেখে আমি বিস্মিত হই। আসলে আমাদের দেশে শিক্ষাক্ষেত্রে রয়েছে অন্তহীন সমস্যা যা এই ক্ষুদ্র পরিসরে আলোচনা করা সম্ভব নয়, তবে আমি মনে করি একেবারে রুট লেবেল থেকেই যদি এর সংস্কার না করা হয় তবে কোনোভাবেই এসব সমস্যা থেকে বেরিয়ে আসা সম্ভব নয়।

এবার পড়াশোনার সিষ্টেমের কথা বলছি, স্কুল বা ইউনির্ভাসিটি লেবেলে এই যে বছরের শেষে পরীক্ষা, ইটস রং। এখানে ঠিক তার উল্টো, একে তো সেমিষ্টার শর্ট, এখানে চার মাসে শেষ হয়ে যাবে কোর্স, চার মাসের মধ্যে দে উইল হ্যাভ টু কুইজেস, দুটো মিডটার্ম, হোমওয়ার্ক, ল্যাব, দে হ্যাভ নো টাইম। এসবের পর আর পলিটিক্সের সময় কোথায়?

এটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ যে, ছাত্ররা তাদের পড়াশোনা নিয়ে ব্যস্ত থাকলে অন্যসব ব্যাপারে তারা জড়াবে না। আর বাংলাদেশে টিচারদের রাজনীতি তো রয়েছেই। বুয়েট-এর কথাই ধরা যাক, আশিভাগ টিচারের ধান্ধাই হচ্ছে কিভাবে অর্থ উপার্জন করা যায়। ওকে, বুয়েট ইজ গুড, এন্ড দে আর ডান ইন্টারন্যাশনালি নোন, বিকজ দ্য কোয়ালিটি অফ স্টুডেন্ট, উইথ নট বিকজ দ্য টিচিং।

 

সময়ের কথায় প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।