|

পাকিস্তানে রহস্যময় দ্বীপ!

PAKISTAN

কেউ একে বলছেন, ‘এক রহস্যময় দ্বীপ!’ কেউ বলছেন, ‘এ হচ্ছ আল্লাহ’র কুদরত!’ আর বিষয় বিশষজ্ঞরা বলছেন, ‘দ্বীপটি কয়েক সপ্তাহ থেকে কয়েক মাসের মধ্যে বিলীন হয়ে যাবে।’ তার মানে, ‘তুমি এসেছিরে কাল; চরে যাবে পরশু!’ অর্থাৎ দ্বীপ প্রাপ্তির উচ্চ্বাস ও আনন্দ পাকিস্তানের খুব বেশীদিন বোগ করতে হবে না। স্থায়বাবে তো ভোগের প্রশ্নই আসে না।

সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত খবর থেকে জানা যায়, পাকিস্তানের দক্ষিণাঞ্চলীয় আরব সাগরে ১৭ সেপ্টেম্বর স্থানীয় সময় বিকেল সাড়ে চারটার দিকে ৭.৮ মাত্রার ভূমিকম্প হয় এবং ভূমিকম্পের মূল কেন্দ্র থেকে ৪০০ কিলোমিটার দূরে গোয়াদার বন্দর এলাকায় এ দ্বীপ জেগে ওঠে। হঠাৎ করে এ দ্বীপ জেগে ওঠায় স্থানীয় লোকজন বিস্মিত হয়েছেন। অনেকেই এটি মহান আল্লাহ তায়ালার কুদরত হিসেবে মনে করছেন। তারা আগ্রহ নিয়ে এ দ্বীপ দেখছেন এবং প্রাথমিকভাবে এ নিয়ে তাদের মধ্যে এক ধরনের ভীতিও কাজ করছিল। দ্বীপটির আয়তন প্রায় ৬০০ মিটার হবে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। পাকিস্তানের গোয়াদার বন্দর থেকে এ দ্বীপ দেখা যাচ্ছে।

মুহাম্মাদ রোস্তম নামে গোয়াদার বন্দর এলাকার এক বাসিন্দা জানান, এটি কোনো ছোটখাটো জিনিস ছিল না বরং পানির নিচ থেকে বিশাল একটা জিনিস উঠে আসতে দেখলাম। তিনি বলেন, এটি দেখতে খুবই আশ্চর্য লাগছিল এবং একটু ভয়ও পাচ্ছিলাম কারণ হঠাৎ করে পানির ভেতর থেকে একটি বিরাট জিনিস উঠে আসছে!

মুহাম্মাদ দানিশ নামে পাকিস্তানের এক সমুদ্র জীববিজ্ঞানী জানান, তাদের একটি বিষেশজ্ঞ দল এরই মধ্যে দ্বীপটি পরিদর্শন করেছে এবং সেখান থেকে মিথেন গ্যাস বের হতে দেখেছে। দলের সদস্যরা দিয়াশলাই জ্বালিয়ে পরীক্ষা করেও দেখেছেন। তিনি জানান, এ দ্বীপ ৬০ থেকে ৭০ ফুট উঁচু, ৩০০ ফুট চওড়া এবং ১২০ ফুট লম্বা। উপকূল থেকে মাত্র ২০০ মিটার দূরে এ দ্বীপ জেগে উঠেছে।

এ প্রসঙ্গে অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতাত্ত্বিক গ্যারি গিবসন বলেন, ভূমিকম্পের সময় মিথেন গ্যাস নির্গত হওয়ার চাপে সম্ভবত কাদার লাভা থেকে এ দ্বীপ তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন, ভূমিকম্পের মাত্র ৪০০ কিলোমিটার দূরে এ ধরনের দ্বীপ জেগে উঠার ঘটনা সত্যিই বিস্ময়কর এবং আগ্রহোদ্দীপক। তবে, এ দ্বীপ স্থায়ী হবে না বলেই মনে হয়। কারণ সমুদ্রের ঢেউয়ের সঙ্গে সঙ্গে সময়ের ব্যবধানে তা মিলিয়ে যাবে। এর আগে, গোয়াদার বন্দর এলাকার মাকরানে ১৯৪৫ সালে ৮.১ মাত্রার ভূমিকম্পে এমনই একটি দ্বীপ জেগে উঠেছিল তবে তা স্থায়ী হয়নি।

করাচি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগের চেয়ারম্যান শামিম আহমেদ শেখ বলেন, দ্বীপটি কয়েক সপ্তাহ থেকে কয়েক মাসের মধ্যে বিলীন হয়ে যাবে। তিনি জানান, বছরখানেক আগেও এ এলাকায় একই আকারের একটি দ্বীপ উঠেছিল তবে তা স্থায়ী হয়নি।

তবে এখন দেখার বিষয়, দ্বীপটি বাস্তবিক কতোদিন টিকে থাকে।

এদিকে পাকিস্তানে মঙ্গলবারের শক্তিশালী এই ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা ক্রমেই বেড়ে চলেছে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত কমপক্ষে ৩২৭ জনে পৌঁছেছে। এছাড়া আহত হয়েছে অন্তত ৪০০ জন। প্রত্যন্ত এলাকাগুলোতে ভেঙে পড়েছে শত শত ঘরবাড়ি। সবেচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বেলুচিস্তান প্রদেশ।

স্থানীয় কর্মকর্তারা গতকাল জানান, আওরান এলাকায় এ পর্যন্ত ২৮৫টি লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। আর ৪২টি লাশ পাওয়া গেছে কাছের কেচ এলাকায়। নিহতদের কবর দেয়া শুরু হয়েছে বলে বুধবার জানিয়েছেন আওরান এলাকার ডেপুটি কমিশনার আব্দুল রশিদ গোগাজাই। আওরানের স্থানীয় সরকারি কর্মকর্তা আব্দুল রশীদ বালুচ জানান, এলাকাটির ৯০ শতাংশ ঘরবাড়িই বিধ্বস্ত হয়ে গেছে। শহরের উত্তরাঞ্চলীয় উপকণ্ঠ লাবাখে সবচেয়ে বেশি হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে খুজদার এলাকাতেও।

 

গ্রন্থণা : নূরুল আলম

সময়ের কথায় প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

মন্তব্য করুন





টুইটারে আমরা

পূর্বের সংখ্যা