নেতা হুজুররা কয় কী! করে কী! ছিঃ…

Filed under: চয়ন আরার খোলা বয়ান |

c1111

মার নাম চয়ন আরা। বাবার দেয়া নাম। শুনেছি, মা এ নামটার পক্ষপাতি ছিলেন না। তিনি আমার নাম রাখতে চেয়েছিলেন নয়নতারা। কিন্তু বাবার এক কথা, আমার মেয়ের নাম হবে ‘চয়ন আরা।’ জানিনা বাবা এ নামটাকে কেনো এতো বেশী পছন্দ করেছিলেন। জানতেও চাইনি বাবার কাছে সে কথা কোনোদিন। তবে মা বলেছেন, আমার অসম্ভব সুন্দর দুটো চোখের কারণেই তিনি আমার নাম নয়নতারা রাখতে চেয়েছিলেন। বিশ্বাস করুন, আসলেই আমার চোখ দুটো অসম্ভব সুন্দর! আর তাইতো আমার প্রতি কোনো পুরুষের নজর পড়লেই সে প্রেমে হাবুডুবু খেতে শুরু করে। আমি অবশ্য তাদের চুবানি-টুবানি দেই না। তেমন বদনারী আমি না্; বরং তাদের এড়িয়ে চলি, আর মনে মনে বলি, বলদগুলার কি দোষ, দোষ তো আমার রূপের। কেনো যে বিধাতা উজার করে এত্তো রূপ আমাকে দিলেন! তবে হ্যাঁ, আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের চোখের দিকে তাকালে আবার একটা গর্ববোধও করি, এ জগতে এমন বড় বড় পাপড়িওয়ালা ডাগর ডাগর আঁখি আমি নিজেও আর কোনো মেয়ের দেখিনি। শুধু চোখ কেনো, একজন অতি সুন্দরী নারী হিসেবে বিধাতা আমাকে সবকিছুই মুক্ত হস্তে দান করেছেন। কোথাও কোনো খুঁত রাখেননি। মুখ, নাক, ঠোঁট, দেহ সবকিছুরই গড়ন অতি আকর্ষণীয় ধরণের। যাকে বলে, আগুন ঝরা রূপ!

নিজের কথা নিজেই এতো বলছি কেনো? আজকাল নিজের ঢোলটা নিজেকেই পেটাতে হয়, অন্যকে দিলে সেটা ফাটিয়ে ফেলতে পারে, তাই এমন বয়ান। আর তাছাড়া আমার যা  আছে, তা আমি বলবো না কেনো! আপনার থাকলে আপনিও বলুন। তবে চিড়ে চ্যাপ্টা নাক, আধামনি ঠোঁট, নৌকার মতো মুখ আর হাত্তির মতো গড়ন হলে, তা বলবেনই বা কেমন করে! যতোটুকু আপনি ততোটুকুই বলুন, বাড়িয়ে বললেই পাবলিকের ঠ্যাঙ্গানী খাবেন।

………………………………………………………..

আমার মতো অতি সুন্দরী মেয়েদের একটা প্রকট সমস্যা হচ্ছে, যেখানেই যাই মৌমাছিরা ছেঁকে ধরে। ‘আই লাভ ইউ, ….লাভ ইউ’ বলে জান দিতে চায়। হাসি পায় এহেন হ্যাবলা, ছ্যাবলাগুলার বেহায়াপনা দেখে। আচ্ছা, পুরুষগুলা এমন কেনো? সুন্দরী দেখলেই ভূনা মাংস আর তান্দুরী রুটি ভাবে! হাঁ করে এমনভাবে তাকিয়ে থাকেযেনো গিলে খাবে!

………………………………………………………..

আর হ্যাঁ একটা কথা, আমার মতো অতি সুন্দরী মেয়েদের একটা প্রকট সমস্যা হচ্ছে, যেখানেই যাই মৌমাছিরা ছেঁকে ধরে। ‘আই লাভ ইউ, ….লাভ ইউ’ বলে জান দিতে চায়। হাসি পায় এহেন হ্যাবলা, ছ্যাবলাগুলার বেহায়াপনা দেখে। আচ্ছা, পুরুষগুলা এমন কেনো? সুন্দরী দেখলেই ভূনা মাংস আর তান্দুরী রুটি ভাবে! হাঁ করে এমনভাবে তাকিয়ে থাকেযেনো গিলে খাবে! একাবারো ভাবে না, নিজের যোগ্যতা আর আত্মমর্যাদার কথা! অন্যদের কথা বলতে পারবো না, আমি আমার কথা বলতে পারি, এমন ধাঁচের পুরুষগুলা যখন হাঁ করে তাকিয়ে থাকে  তখন মনে হয়, মুখের ভেতোর একটা মুলা ঢুকিয়ে দেই।

নিশ্চয় জানতে ইচ্ছে করছে আমার বয়স? সামনের ডিসেম্বরে ছাব্বিশ হবে। জন্ম তারিখ কবে? সেটা বলবো না, দেখা যাবে জন্মদিনের দিন পুরুষের দল সারিবদ্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে আছে আমার দোরে, ‘হ্যাপী বার্থ ডে টু ইউ জান’ বলতে। অথবা গিফটের বস্তা মাথায় করে বয়ে নিয়ে হাজির হচ্ছে। আবার হয়তো দেখা যাবে অনেক ট্যাকখালি জমিদার বন্ধু-বান্ধবের কাছে ধার-দেনা করে এটা ওটা কিনে নিযে হাজির হচ্ছে!

স্বীকার করি, আমার কথাগুলা মাঝে মাঝে একটু বেশী তিতা হয়া যায়। কি বলবো বলেন, ফেসবুকে যখন টেলিফোনে মেয়ে-মানুষের সাথে মাওলানা সাইদীর কুরুচিপূর্ণ আলাপন শুনি, কিংবা জেল খানায় যুবক সেবকের সাথে সাকা চৌধুরীর ইটিসটিপিস (নাউজুবিল্লাহ), অথবা রাজনৈতিক নেতা জয়নাল আবেদীন ফারুকের প্রবাসী কোনো বঙ্গ গৃহবধূ'র সঙ্গে ফস্টিনস্টির টেপ শুনি তখন সত্যি সত্যি মনে হয় এগুলারে ধইরা লাইগেশন-ভ্যাসেকটমি কইরা দেই...অথবা একটা ব্লেডের পোজ। এরাই নাকি সমাজের মাথা, নেতা! আবার মাইন্ড খাইলেন নাকি পুরুষ ভাই সমাজ?

স্বীকার করি, আমার কথাগুলা মাঝে মাঝে একটু বেশী তিতা হয়া যায়। কি বলবো বলেন, ফেসবুকে যখন টেলিফোনে মেয়ে-মানুষের সাথে মাওলানা সাইদীর কুরুচিপূর্ণ আলাপন শুনি, কিংবা জেল খানায় যুবক সেবকের সাথে সাকা চৌধুরীর ইটিসটিপিস (নাউজুবিল্লাহ), অথবা রাজনৈতিক নেতা জয়নাল আবেদীন ফারুকের প্রবাসী কোনো বঙ্গ গৃহবধূ’র সঙ্গে ফস্টিনস্টির টেপ শুনি তখন সত্যি সত্যি মনে হয় এগুলারে ধইরা লাইগেশন-ভ্যাসেকটমি কইরা দেই…অথবা একটা ব্লেডের পোজ। এরাই নাকি সমাজের মাথা, নেতা! আবার মাইন্ড খাইলেন নাকি পুরুষ ভাই সমাজ?

সে যা হোক, যা বলছিলাম, বয়স ছাব্বিশ। দুধে-আলতা গায়ের রঙ। ষোল’র পর থেকেই বাবা মায়ের দ্বারে শুরু হয়েছে ধর্ণা। সেই থেকে বাবা, মাযেরও শান্তি হারাম, আগতরা কেউ চায় নিজের বৌ বানাতে; আবার কেউ ছেলের বৌ। কিন্তু আমি রাজী হইনি কখনোই, কেননা, আমি বাল্য বিবাহের পক্ষে নই। লেখা-পড়া শেষ করবো, ভালো একটা চাকরি নেবো তার পর দেখে-শুনে একটা ‘রামছাগল’কে বিয়ে করবো। যে কিনা সারা জীবন শুধু আমার পেছনেই ব্যাঁ ব্যাঁ করবে। আম পাতা, জাম পাতা যাই দেবো সেটাই চিবাবে। অন্য কোনো নারীর দিকে তাকাবে না। কারো বাড়িয়ে ধরা জিনিসে মুখ দেবে না।

এখন লেখা পড়ার শেষ ধাপে। কি নিয়ে কোথায় লেখাপড়া করছি? না থাক, সে আর আজ নাইবা শুনলেন। আর একদিন।

আবার আসি আসল কথায়, পুরুষদের নিয়া একটু বাড়াবাড়ি বলে ফেললাম নাকি? পুরুষ ভাই সমাজ আবার মাইন্ড খাইলেন না তো? মাইন্ড যদি খাইয়াই থাকেন তয় হের লগে দুইখান খাবার স্যালাইনও গুলাইয়া খাইয়া ফালাইয়েন….তা না হইলে বোঝেনই তো….ব্যাবাক সাফা হইয়া যাইবো! বাছনা ভি নষ্ট হইবো।

স্বীকার করি, আমার কথাগুলা মাঝে মাঝে একটু বেশী তিতা হয়া যায়। কি বলবো বলেন, ফেসবুকে যখন টেলিফোনে মেয়ে-মানুষের সাথে মাওলানা সাইদীর কুরুচিপূর্ণ আলাপন শুনি, কিংবা জেল খানায় যুবক সেবকের সাথে সাকা চৌধুরীর ইটিসটিপিস (নাউজুবিল্লাহ), অথবা রাজনৈতিক নেতা জয়নাল আবেদীন ফারুকের প্রবাসী কোনো বঙ্গ গৃহবধূ’র সঙ্গে ফস্টিনস্টির টেপ শুনি তখন সত্যি সত্যি মনে হয় এগুলারে ধইরা লাইগেশন-ভ্যাসেকটমি কইরা দেই…অথবা একটা ব্লেডের পোজ। এরাই নাকি সমাজের মাথা, নেতা! আবার মাইন্ড খাইলেন নাকি পুরুষ ভাই সমাজ?

গ্রামের জ্ঞাণী লোকেরা কয়, আগের হাল যেদিকে যায়, পেছনের হালও নাকি সেদিকেই যায়…বুঝতে অসুবিধা হবার কথা নয়, আমি কি বলেতে চাইতিছি। যে দেশে আজ অসুন্দর নারীরাই নিরাপদে নেই, কাজের মেয়েরা তো পরের কথা; পুরুষ সেবকেরাও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে, অন্যের বৌ-বেটি দেখলেই ধরা-ছোঁয়ার লোলুপ ধান্ধা, মাদ্রাসার বড় হুজুররাও তেঁতুলের স্বাদ নিতে লালা ঝরায়! সে দেশে আমার মতো অতি সুন্দরীরা কতোটা নিরাপদ সেটা কি আর ব্যাখ্যা করে বলার প্রয়োজন আছে?

………………………………………………..

কী কথা, নারী নাকি তেঁতুল! দেখলেই লালা ঝরে! একাধিক নারীকে নিয়ে ঘর করার খায়ে‌শের বয়ান করে মাওলানারা এই সভ্যতার স্বর্ণালী যুগেও! বদ নসীব আমাদের। সদ্য গজিয়ে ওঠা নেতা হুজুরে কয় কী? নিজে বিয়া করছেন তিনখান, সন্তানের সংখ্যা সাত, এবার নেমেছেন বাংলাদেশ বরবাদ করার মিশনে!

…………………………………………………

কী কথা, নারী নাকি তেঁতুল! দেখলেই লালা ঝরে! একাধিক নারীকে নিয়ে ঘর করার খায়ে‌শের বয়ান করে মাওলানারা এই সভ্যতার স্বর্ণালী যুগেও! বদ নসীব আমাদের। সদ্য গজিয়ে ওঠা নেতা হুজুরে কয় কী? নিজে বিয়া করছেন তিনখান, সন্তানের সংখ্যা সাত, এবার নেমেছেন বাংলাদেশ বরবাদ করার মিশনে!

কই যাই! ইসলামী নেতারা দ্যাশের পুরুষগুলারে কয় হালি হালি বিয়া করতে, রাজনৈতিক নেতারা নারীদের ফাঁদে ফেলে করে ফস্টিনস্টি, ঘরেরপতি আর সমাজপতিরা যতিচিহৃ ছাড়াই চালায় নারী নির্যাতন! তাহলে আমরা নারীরা কোন বৃক্ষের ছায়াতলে নেবো আশ্রয়? আর আমার মতো সুন্দরীরা কার ভরসাতেই বা নির্বিঘ্নে করবো জীবন যাপন?

এই তো সেদিনের ঘটনা। বড় চাচার সাথে গেলাম একটা সাংস্কৃতিক অনুষ্টানে। দ্যাশের একজন তুখোর রাজনৈতিক নেতা প্রধান অতিথি। আমার বড় খায়েশ হইলো নেতাচাচার সাথে পরিচিত হবার। এত্তো বড় নেতারে এর আগে কাছে থন দেহি নাই তো। বড় চাচাকে বললাম মনের কথাটা। বড় চাচা আমাকে নিয়ে গেলেন নেতাচাচার সামনে। নেতাচাচা তখন সোফায় শরীর এলাইয়া দিয়া আয়েশ কইরা দাঁত খিলাল করতেছিলো। চাচা আমার খায়েশের কথা তাকে বলতেই তিনি আমার প্রতি বিশেষ আগ্রহী হয়ে উঠলেন। লক্ষ্য করলাম তার মনোযোগ আমার দিকে যতো না, তার চাইতে বেশী আমার শরীরের বিশেষ বিশেষ স্থানে (নাউজুবিল্লাহ)! এ্যারা নাকি নেতা! ওয়াক থু…।

যাউকগা, বদ নসীব লইয়া যখন জন্মাইছি, সহ্য তো করতেই হইবো, লগে আবার লড়তেও হইবো।

পাঠক ভাইয়েরা, প্রথম পরিচয়েই অনেক বেশি কি কইয়া ফালাইলাম? আমি নারীডাই এমুন, ছিল্ল্যা কাইট্টা লবন লাগাই, তয় পরিবেশ নোংরা করি না।

আইজকার মতো বিদায়। দেখা হইবো সামনের রোববার আবার সময়ের কথা’র পাতায়। সকলকে ধন্যবাদ সময় নষ্ট করে কষ্ট করে আমার লেখাটা পড়ার জন্য। আসি তাইলে…পায়জামা ঢিলা টুপি টাইট…লেফ রাইট, লেফ রাইট…

 

সময়ের কথায় প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।