|

কানাডা ইমিগ্রেশন ধর্মঘটের খেসারত!

ননন

চলমান কানাডা ইমিগ্রেশন ধর্মঘটের প্রক্ষাপটে ইতিমধ্যে বেশ একটা জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে। জানা যায়, একই কারনে ব্যাকলগে আটকে আছে শত শত আবেদনপ্রার্থীর কানাডা আগমনের প্রক্রিয়াটি।

উল্লেখ করা যেতে পারে, পিএএফএসও (প্রফেশনাল এসোসিয়েশন অব ফরেন সার্ভিস অফিসারস) ইউনিয়ন দীঘদিন যাবৎ তাদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধির দাবী জানিয়ে আসছে। অবশেষে সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে হারপার সরকারকে বাধ্য করার উদ্দেশ্যে তাদের এই ধর্মঘট। অন্যদিকে গোড়া থেকেই হারপার সরকার তাদের এই দাবীকে অনৈতিক বলে উল্লেখ করে আসছে।

গত ২০শে অগাস্ট ইমিগ্রেশন অফিসাররা অটোয়াতে প্রধানমন্ত্রী স্টিফেন হারপার এর অফিসের সামনে দিনব্যাপী র‍্যালীতে অংশগ্রহণ করে তাদের দাবীকে আরো জোরালো করে। পাশাপাশি টুইটার এবং ফেসবুকে তাদের দাবী মেনে নেওয়ার জন্য হারপার সরকারকে নানানভাবে চাপ প্রদান করে যাচ্ছে।li-foreign-service

আরো জানা যায়, বিশ্বের ১৫ টি উল্লেখযোগ্য প্রসেসিং সেন্টার এ তাদের ইমিগ্রেশন কার্যক্রম সম্পূর্ণরূপে স্থগিত করে দেয়া হয়েছে। তবে বেশিরভাগ ফরেন ইমিগ্রেশন সেন্টার ইমিগ্রেশন অফিসারদের একটা বিশেষ অংশ রেগুলার কার্যক্রম পরিচালনা করার চেষ্টা অব্যাহত রাখছে। তবে তাদের লোকবল কম হওয়ার কারণেই শত শত আবেদনপত্র ব্যাকলগে আটকে পড়ে গেছে। আর এর ফলে শত শত আবেদনপ্রার্থীর কানাডা আগমনের ব্যাপারটিতে দীর্ঘসূত্রিতার সৃষ্টি হয়েছে।

এদিকে, ইতিমধ্যে পিএএফএসও এর প্রেসিডেন্ট টিম এডওয়ার্ড হুশিয়ার উচ্চারণ করে বলেছেন, এই শরতে প্রফেশনাল এসোসিয়েশন অব ফরেন সার্ভিস অফিসারস ইউনিয়ন থেকে আরো কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তারা অচিরেই তাদের বেতন বৃদ্ধি করার জন্য হারপার সরকারের প্রতি আহবান জানান। এই ইউনিয়নটি দাবী করছে, যেখানে ফরেন সার্ভিস অফিসাররা একজন ল’ইয়ার এর সমমানের কার্যক্রম পরিচালনা করছে, সেখানে এই অফিসাররা একজন নন-ফরেন সার্ভিস অফিসার থেকে কম বেতন পায়। তাদের দাবী তাদের বেতন-বিতর্ক মোকাবেলা করতে কানাডা সরকারের শুধুমাত্র বাড়তি চার মিলিয়ন ডলার এই খাতে প্রদান করতে হবে, যা কানাডার মুল অর্থনীতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।22

অপরদিকে সরকার বলছে, ফরেন সার্ভিস অফিসাররা খুব ভাল বেতন পান এবং তাদের অন্যান্য বেনিফিটও অনেক সার্ভিস কর্মজীবি থেকে অনেক বেশি।

বলার অপেক্ষা রাখে না যে, সরকার এবং আন্দোলন কারীদের উভয়পক্ষের বিপরীতমুখী অবস্থানের খেসারত দিতে হচ্ছে, অসংখ্য আবেদনপ্রার্থীকে।

একটা প্রতিকুল অবস্থার মধ্যে নিপতিত হয়ে ক্রমেই ফুঁসে উঠছেন ভুক্তভুগীরা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন আবেদনপ্রার্থী সময়ের কথা’কে বলেছেন, প্রফেশনাল এসোসিয়েশন অব ফরেন সার্ভিস অফিসারস ইউনিয়ন তাদের এই দাবী অন্যভাবে প্রকাশ করতে পারত, কারণ এই অচলাবস্থার জন্য সবচেয়ে বেশি দুভোর্গ পোহাতে হচ্ছে সাধারণ আবেদনপ্রার্থীদের, যা অমানবিক এবং পাশাপাশি অনৈতিক। -সময়ের কথা ডেস্করিপোর্ট

সময়ের কথায় প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

মন্তব্য করুন





টুইটারে আমরা

পূর্বের সংখ্যা