|

মোনায়েম সরকারের সাক্ষাৎকার: মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও মুজিব-আদর্শ পুনঃপ্রতিষ্ঠার লড়াই

সৈয়দ জাহিদ হাসান: মোনায়েম সরকার বাংলাদেশের জীবন্ত কিংবদন্তি। বাংলাদেশের প্রায় সবগুলো ঐতিহাসিক আন্দোলনেরই তিনি সাক্ষী। মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ছিলেন। গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন তিনি সে সময়। ছাত্র জীবন থেকে ছাত্র ইউনিয়ন, সিপিবি, ন্যাপ (মোজাফফর), বঙ্গবন্ধুর কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ ও আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গেও জড়িত ছিলেন দীর্ঘ দিন। তিনি ১৯৬৬ সালের ৭ জুন হরতালে আহত হয়েছিলেন, বাম হাতের কব্জিতে এখনও সেই ক্ষত চিহ্ন বিদ্যমান আছে। খুব কাছ থেকেই দেখেছেন- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, ইন্দিরা গান্ধি, শেখ হাসিনা, এমনকি বেগম খালেদা জিয়াকে তিন জোট গঠনকালে। দীর্ঘদিন প্রগতিশীল রাজনীতি করে ২০০১ সালে তিনি স্বেচ্ছায় সক্রিয় রাজনীতি থেকে অবসর গ্রহণ করেন। এখন তিনি পরোক্ষ রাজনীতি, লেখালেখি ও গবেষণা নিয়ে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট থেকে ১৯৭৯ সালের ঘটনাবলি শোনার জন্য তার মুখোমুখি হয়েছিলেন কবি ও কথাশিল্পী সৈয়দ জাহিদ হাসান। এই সাক্ষাৎকারে ১৯৭৫-পরবর্তী অনেক অজানা বিষয় উঠে এসেছে। সাক্ষাৎকারটি এখানে মুদ্রিত হলো।

সৈয়দ জাহিদ হাসান : আপনার পুরো জীবনটাই রাজনীতি ঘনিষ্ঠ। আপনার ‘আত্মজৈবনিক’ গ্রন্থে সেসবের বিশদ বিবরণও দিয়েছেন। আজ আপনার কাছে পঁচাত্তর পরবর্তী কালপর্বের কথা শুনতে চাই। পঁচাত্তর পরবর্তী বাংলাদেশ  আপনার দৃষ্টিতে কেমন ছিল?

মোনায়েম সরকার : ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বাংলাদেশের স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সপরিবারে নিহত হলেন আন্তর্জাতিক চক্রান্ত ও বাংলাদেশের কতিপয় বিপথগামী মোনাফেক দ্বারা। সমগ্র দেশ স্তম্ভিত। হতবাক। বঙ্গবন্ধুর নাম উচ্চারণ করাও তখন নিষিদ্ধ ছিল। চারদিকে চরম নৈরাজ্য। স্বাধীনতার পরাজিত শত্রুরা গর্ত থেকে বের হয়ে ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে যাচ্ছে। ভীতসন্ত্রস্ত থমথমে পরিবেশের মধ্যে আমি, অধ্যাপক নূরুল আমীন এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ড. ম. আখতারুজ্জামান বঙ্গবন্ধুর স্বপক্ষে প্রথমে সাইক্লোস্টাইলে, পরে টাইডাল প্রেসে প্রিন্ট করে লিফলেট প্রকাশ করি। লিফলেটের হেডলাইন ছিল ‘মীরজাফররা হুঁশিয়ার।’ চারদিকে শত্রুর ভয়ংকর অবস্থানের মধ্য দিয়ে এমন একটি লিফলেট প্রকাশ করা ছিল মৃত্যুর সাথে রীতিমতো পাঞ্জা লড়া। যা এই সময়ে চিন্তাও করা যাবে না। এই লিফলেট সমগ্র দেশে বিতরণ করা হয়েছিল। ডাকযোগে সকল মন্ত্রী, এমপি, ডিসি, এসপি, এসডিও সহ সকল সরকারি কর্মকর্তা ও দালালদের কাছে প্রেরণ করা হয়েছিল। এমনকি সেই লিফলেট সচিবালয়েও বিতরণ করা হয়েছিল।

সৈয়দ জাহিদ হাসান : ওই সময় আপনি দেশ ত্যাগে বাধ্য হলেন কেন? অনেকেই তো সে সময় দেশে থেকে সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করেছে বলে ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়।

মোনায়েম সরকার : দেশের এই নাজুক পরিস্থিতিতে আমি সিদ্ধান্ত নিই, স্বেচ্ছা দেশ ত্যাগ করবো। পরবর্তী সময়ে নতুন শক্তি সঞ্চয় করে এইসব ঘাতক-শত্রুদের বিরুদ্ধে লড়বো। যেই ভাবনা সেই কাজ। মোজাফফর আহমদের কাছে গেলাম। তিনি আমার দেশ ত্যাগে বাধা দিলেন। আমি মোজাফফর আহমদের বাধা উপেক্ষা করে বড় কিছু করবার আশায় দেশ ত্যাগ করে ভারতে বিমানে করে পাড়ি জমাই অক্টোবরের ১৪ তারিখ।

সৈয়দ জাহিদ হাসান : কতটুকু সফল হয়েছিলেন?

মোনায়েম সরকার : কতটুকু সফল হয়েছিলাম জানি না, তবে তুমি যদি সেই সময়ের লেখা শওকত ওসমানের উত্তরপূর্ব মুজিবনগর বইটি পড়, তাহলে দেখবে- আমার নির্বাসিত জীবনের কার্যক্রম লিপিবদ্ধ আছে। সেখান থেকেই আমার সাফল্য-ব্যর্থতা নিরূপণ করতে পারবে। তোমার যদি সময়ের অভাব না থাকে তাহলে আমি তোমাকে শওকত ওসমানের সেই ডায়েরী পাতা থেকে কিছু অংশ পড়ে শোনাতে চাই- ২৩ জুলাই ১৯৭৭ : বিকেলে নয় গোধুলিলগ্নে হাঁটতে বের হলাম। ফেরার সময় মোনায়েম সরকারের সঙ্গে, মুখে একটা গোমাংসের ‘রোল’। ব্যাগে আরো ছিল। রাস্তার অন্ধকারে আমিও শরিক। দাঁড়িয়ে আহার শেষ। তারপর পানির তেষ্টা। টিউবওয়েল পাওয়া গেল ঝাউতলা রোডের উপর। একবার হ্যান্ডেল আমার হাতে, মোনায়েম পানকারি এবং পরে হ্যান্ডেল তার হাতে, আঁজলা আমার। খবর পাওয়া গেল, অধ্যাপক শান্তিময় রায় ইউরোপ থেকে ফিরে এসেছেন। ধড়ে প্রাণ ফিরে পাওয়ার মত। এই এক দেশপ্রেমিকের দেখা পাওয়া গেছে প্রৌঢ়কালে যার প্রাণের ঐশ্বর্য্য অনেক শক্তি যোগায় অপরের বুকে। যে যার ডেরা অভিমুখী। অবিশ্যি মোনায়েমের পথে আরো কাজ আছে। বাংলাদেশের জন্যে ওর মাথাব্যাথা কি কম? নচেৎ এমএসসি ডিগ্রীধারী অধ্যাপক রাস্তায় নেমে আসবে কেন? ১৭ জানুয়ারি ১৯৭৯ : মোনায়েম সরকার আবার বাংলাদেশে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পার্টির আদেশ। ওর সঙ্গে সন্ধ্যা নয়, রাত্রি নটা পর্যন্ত কাটল সুখেন্দ্র ধরের বাড়িতে। ও অধ্যাপক ছিল। কিন্তু দেশাত্মবোধের সঙ্গে জীবন- এষণা এমনভাবেই মিলেছে যে বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুর পর আর দেশে থাকতে পারেনি। এখানে সে সব রাজনৈতিক রিফিউজিদের অভিভাবক হয়ে বসেছিল। অভাবগ্রস্তদের জন্যে টাকা পয়সা জোগাড় করা থেকে- রাজনৈতিক প্রবাহ বজায় রাখার জন্যে কতভাবে না নিজেকে ব্যাপৃত রেখেছে। মোনায়েমের বিদায় তাই শুধু বিদায় নয়। ব্যক্তিগত বেদনার ব্যাপার। ভারাক্রান্ত মন নিয়ে বাসায় ফিরলাম। ১৯ জানুয়ারি ১৯৭৯ : মোনায়েম সকাল আটটায় ধরদের বাড়ি থেকে এয়ারপোর্ট যাবে। সাতটায় ওই বাড়ির ভেতর পৌঁছলাম। ওর ব্যবহারে কত মানুষ না আপন হয়ে গেছে। বাড়ির গৃহলক্ষ্মী শ্রীমতি কল্যাণী ধর বিদায় পূর্বে নাটক করে বসলেন। চোখের জল মুছতে মুছতে দোতলা থেকে রাস্তায় অপেক্ষমাণ ট্যাক্সি পর্যন্ত এগিয়ে দিলেন তার অনুজপ্রতিম বাংলাদেশের এক নাগরিককে। ওর স্বামী ভূপেন ধরও বিদায় লগ্নে ব্যথিত। ১৯০৫ সন থেকে এই ধর-পদবী-অলঙ্কৃত গৃহ মানুষের কাছাকাছি আসার ঐতিহ্য বহন করছে। আজও তার ব্যত্যয় ঘটল না। কল্যাণী ধরের আচরণ নতুন কিছু নয়। প্রৌঢ়া মহিলাকে বললাম, ‘বুকে এত মমতার শত্রু পুষেছেন, আপনার জন্যে আরো বহু কান্না বাকি আছে এই ভাগ্যহত দেশে।’ ছানা ধর কিছু ফটো তুললেন। মানুষ হিসেবে বড় মাপের, কিন্তু এখনও ছানা।

তবে এটুকু বলতে পারি সে সময় কলকাতায় বাংলাদেশের রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থীদের অন্ন-বস্ত্র-বাসস্থানসহ রাজনৈতিক প্রবাহ বজায় রাখার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করেছি। একটা উদাহরণ দিই- ২৫ মে ১৯৭৭ সাল। কলকাতার নান্দীকার গোষ্ঠী অ্যাকাডেমিতে ব্রেখটের ‘খড়িমাটির গ-ি’ অভিনয় করে অর্থ সংগ্রহ করে। সেই অর্থ বাংলাদেশের অসহায় রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থীদের দেওয়া হবে। শো শুরুর আগে শওকত ওসমান সস্ত্রীক হাজির হন। তীব্র টিকেট সংকট। আমি তাদের টিকিট যোগাড় করে দিই। ওই শো-তে ছয় হাজার টাকা ওঠে। এক হাজার টাকা নান্দীকার গোষ্ঠীকে দিই। তারা টাকাটা নিতে চায়নি। তবু দিই। রণেশদা নেন পঞ্চাশ টাকা। তাকে ১০০ টাকা দিতে চেয়েছিলাম। তিনি নিজেই আমার হাত থেকে ৫০ টাকার একটা নোট তুলে নেন। বাকি সব টাকাই নির্বাসিত রাজনৈতিক নেতাদের ভাগ করে দিই। আমি এক টাকাও রাখিনি। আমার মা (রহিমা চৌধুরানী) ঢাকাই জামদানী শাড়ি পাঠাতেন, তা বিক্রি করে যে টাকা পেতাম, তাতেই আমার খাওয়া-পরার ব্যবস্থা হয়ে যেত। প্রতি মাসে মায়াদি নামে এক সাংবাদিককে ৯০ টাকা দিতাম খাবার বাবদ। প্রথম বাসস্থান ছিল প্রফেসর শান্তিময় রায়ের বাসার দু’তলায়, মায়াদি তার ভাড়াটে ছিলেন।

দেশ গভীর সংকটে নিমজ্জিত। স্বাধীনতাবিরোধী এবং সাম্প্রদায়িক অশুভশক্তির খপ্পরে দেশ। আমি ভারতে স্বেচ্ছা নির্বাসনে। নভেম্বর মাসের প্রথম দিকে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কলকাতা শাখার একজন কর্মকর্তা আমার কাছে এসে অকস্মাৎ বললেন- ‘বাংলাদেশের সেন্ট্রাল জেলে চার থেকে ষোলোজনকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। কে হতে পারে?’ হঠাৎ এমন কথা শুনে আমি কিংকর্তব্যবিমূঢ়, স্তম্ভিত। আমার কাছে প্রথম বাংলাদেশ সরকারের কর্মসূচি ছিল, তাতে বঙ্গবন্ধু ও খন্দকার মোশতাককে ক্রস করে কিছুক্ষণ সময় নিয়ে বলি- যদি চারজন হয়, তবে ‘তাজউদ্দিন আহমদ, সৈয়দ নজরুল ইসলাম, মনসুর আলী এবং কামারুজ্জামান।’ পরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা আমাকে উদ্বেলিত হয়ে বললেন, ‘মি. সরকার প্রফেটিক প্রফেটিক। আপনার কথাই সঠিক।’ কি করে বললেন, আমি বললাম They want to create. Leadership vacuous.  এ সময়ে প্রফেসর শান্তিময় রায়ের সহযোগিতায় প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধির সাথে সাক্ষাৎ করি। ইন্দিরা গান্ধির সঙ্গে আমার আলাপ হয়। আমি দেশের এই অরাজকতা নিবৃত্তে একটি লিখিত প্রস্তাবনা ইন্দিরা গান্ধির কাছে পেশ করি, যা ছিল ‘আলফা-বিটা’ প্রজেক্ট নামে একটি সুইসাইড কমান্ডো প্রজেক্ট। ইন্দিরা গান্ধি সব পড়ে ও শুনে বললেন- Professor Roy, this sort of things are not dealt in PM level. Talk to Professor PN Dhar. যদিও পরবর্তীতে এই সিদ্ধান্ত বিভিন্ন সমস্যা এবং সদস্য অপ্রতুলতায় কার্যকর করা সম্ভব হয়নি।

সৈয়দ জাহিদ হাসান : এ সময় ঢাকার অবস্থা কেমন ছিল?

মোনায়েম সরকার : ৭ নভেম্বর আমার খোঁজে ঢাকা ২৩ চামেলীবাগের বাসা হানা দেয় সামরিক বাহিনীর সদস্যবৃন্দ। আমাকে না পেয়ে মা রহিমা চৌধুরানী, চন্দন চৌধুরী ও তাঁর কয়েকজন বন্ধুকে গ্রেফতার করে নিয়ে যায় সামরিক বাহিনীর সদস্যবৃন্দ। সাথে নিয়ে যায় লুণ্ঠিত অর্থ ও সোনাদানা, লাইসেন্সকৃত পিস্তল ও বন্ধুক। যদিও ওই দিনই তাদেরকে ছেড়ে দিতে বাধ্য হয় তারা। আমার ভাই ড. মালেক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকের পরিচয়পত্র দেখিয়ে গ্রেফতার থেকে বেঁচে যান। এমন ঘটনা আরো অনেকের ক্ষেত্রেই ঢাকায় ঘটেছে।

সৈয়দ জাহিদ হাসান : তখন আপনারা যেসব প্রচারপত্র ও পত্রিকা তৈরি করতেন সেসব সম্পর্কে কিছু বলেন।

মোনায়েম সরকার : বঙ্গবন্ধু হত্যা, জেল হত্যা, আওয়ামী রাজনীতি নির্মূলকরণের বিরুদ্ধে সমগ্র বিশ্ব জুড়ে যেখানে যত আওয়ামী লীগ অনুরাগী, রাজনৈতিক কর্মী, বুদ্ধিজীবী সাহিত্যিক আছেন আমি তাদের সাথে যোগাযোগ করি। তাঁরা তাদের মতো করে রাজনৈতিক সংগঠন, পত্রিকা বা সশস্ত্র বিপ্ল¬বের জন্য প্রস্তুত হতে লাগলেন। কলকাতা থেকে মাহফুজুল বারী, নজিবুর, রেজা প্রকাশ করতো বজ্রকণ্ঠ। এই পত্রিকার লেখালেখি ও প্রকাশনার একটি বড় খরচ আমরা বহন করতাম। পরবর্তীতে কাদের সিদ্দিকীও কিছু টাকা পাঠাতো।

গণ-আন্দোলন জোরদার করার লক্ষ্যে সমগ্র বিশ্বের বিভিন্ন পত্রিকা বিশেষ করে লন্ডনের পত্রিকাগুলো     ডিপে¬াম্যাটিক ব্যাগে করে লন্ডন থেকে আসতো আমার কাছে। প্রথম পত্রিকা আমার আহ্বানে রউফের সম্পাদনায় বের হয় ‘প্রতিরোধ’ নামে, তারপর ‘বাংলার ডাক’, ‘সোনার বাংলা’ (বাংলা ও ইংরেজি) এবং ‘সানরাইজ’ পত্রিকাগুলি আমার কাছে আসতো এবং আমি তা জনমত গড়ার লক্ষ্যে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রেরণ করতাম- যা পরবর্তীতে সমগ্র দেশে বিলি হতো। পশ্চিমবঙ্গ,আসাম, মেঘালয় ও ত্রিপুরায় অবস্থানরত বাংলাদেশ থেকে নির্বাসিত রাজনৈতিক কর্মীদের কাছে প্রেরণ করতাম। এমনকি জেলখানায় যেসব নেতৃবৃন্দ থাকতেন তাদের কাছেও পৌঁছতো সে সব পত্রিকা।

সৈয়দ জাহিদ হাসান : ১৯৭৬ সালে আপনার কর্মদক্ষতায় Bangladesh Victim of imperialist conspiracy নামে একটি বুকলেট প্রকাশিত হয়। ওই বুকলেট সেদিন কেমন প্রভাব ফেলেছিল? আপনার পিতাও সম্ভবত ১৯৭৬ সালেই মৃত্যুবরণ করেন।

মোনায়েম সরকার : বঙ্গবন্ধু হত্যা, জেল হত্যাসহ সাম্প্রদায়িক রাজনীতির উত্থানে সমগ্র দেশ আতক্সিকত। আতক্সিকত বাংলাদেশ থেকে রাজনৈতিক  নেতাকর্মীবৃন্দ, যারা বঙ্গবন্ধুর নির্মম হত্যাকা-ের পর বিভিন্ন দেশে আশ্রয় নিয়েছেন তাঁরাও। দেশের এহেন পরিস্থিতি, বঙ্গবন্ধু হত্যা, জেল হত্যা ও সমসাময়িক রাজনীতির আগ্রাসীরূপ বিশ্ববাসীর নজরে আনার জন্যে আমরা ‘Bangladesh victim of imperialist conspiracy’ নামক একটি বুকলেট প্রকাশ করি। তিন হাজার কপি ছাপা হয়। বইটির প্রকাশক পিস ফোর্সেস অব বাংলাদেশ। এই বই-এর প্রকাশনার যাবতীয় কর্ম সম্পাদন করি আমি। বাংলাদেশ পিস কাউন্সিল-এর জেনারেল সেক্রেটারি আলী আকসাদ কলম্বো ও বুদাপেস্টে অনুষ্ঠিত পিস কাউন্সিল সম্মেলনে আগত সকল প্রতিনিধির কাছে এই বুকলেট বিলি করেন। ১৯৭৬ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুর শোকদিবস পালন অনুষ্ঠানে স্থপতি মাজহারুল ইসলাম এই বুকলেট বিলি করেন লন্ডনে। দিল্লিতে গান্ধি মেমোরিয়াল হলেও শোকসভা হয়, তাতে কংগ্রেস, জনতা, সিপিআই, সিপিএস-সহ সকল দলের নেতা বক্তব্য রাখেন। বিশ্ব শান্তি পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রমেশ চন্দ্রও বক্তব্য রাখেন। সভাপতিত্ব করেন বিপ্লবী মন্মথ নাথ গুপ্ত, ফ্রেন্ডস অব বাংলাদেশ কমিটির চেয়ারম্যান। 

১৯৭৬ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি ভারতে নির্বাসিত অবস্থায় আমার পিতা ১০০ বছর বয়সে ইহলোক ত্যাগ করেন। এই সংবাদ পিতার মৃত্যুর তিন মাস পর আমি জানতে পারি।

সৈয়দ জাহিদ হাসান : আপনি যখন নির্বাসিত তখন ভারত সরকারের কি ভূমিকা ছিল বাংলাদেশের মানুষ ও বাংলাদেশের রাজনীতির প্রতি?

মোনায়েম সরকার : ১৯৭৭ সালে ইন্দিরা গান্ধির পরাজয়ের পর বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংকটে মোরারজী সরকারের উদাসীনতায়, যারা ভারতবর্ষে রাজনৈতিক আশ্রয়ে ছিল তাদের ত্রাহি অবস্থা। সেই সরকার বেশ কিছু রাজনৈতিক কর্মীদেরকে পুশব্যাক করেছে ভারত থেকে বাংলাদেশে। আমিও এই পুশব্যাকের ভয়ে পলায়নরত অবস্থায় বারবার জায়গা বদল করি, গঙ্গার ধারে বেলুড় মঠের পাশে সিপিআই নেতা দিলীপ বোসের বাবার বাগানবাড়িতে আত্মগোপন করেছিলাম।

১৯৭৫-এর পট পরিবর্তনে কাদেরীয়া বাহিনীর প্রধান কাদের সিদ্দিকী ও তাঁর বাহিনীর বেশ কিছু সদস্য ভারতে আশ্রয় গ্রহণ করে। এমন সময়ে সংবাদ হয় যে, কাদের সিদ্দিকী বাহিনীর কিছু সদস্যকে ভারতীয় সেনাবাহিনী হত্যা করেছে। এই ঘটনা জানার পর শওকত ওসমান, রণেশ দাশগুপ্ত, সঞ্জীব দত্ত ও জাওয়াদুল করিমের সঙ্গে সিদ্ধান্ত নিয়ে এককভাবে দিল্লি¬ পৌঁছাই আমি। সেখানে কংগ্রেস নেতা- চন্দ্রজিৎ যাদব, শশীভূষণ, আর কে মিশ্র, নন্দিনী সৎপথি এবং কে আর গণেশসহ ৪০জন এমপি-র স্বাক্ষর সংগ্রহ করে প্রতিবাদ লিপি প্রেরণ করা হয় সংবাদপত্রে। ভারতীয় সেনাবাহিনীর এমন অযাচিত হস্তক্ষেপের প্রতিবাদে আমি জনতা পার্টির এমপি অধ্যাপক সমর গুহ ও চেয়ারম্যান চন্দ্রশেখর-এর সাথে সাক্ষাৎ করে ভারতীয় সেনাবাহিনীর এহেন কর্মকা-ের তীব্র প্রতিবাদ জানাই।

সৈয়দ জাহিদ হাসান : বাংলাদেশ প্রশ্নে ইন্দিরা গান্ধি আর মোরারজী দেশাই এর মধ্যে পার্থক্য কি?

মোনায়েম সরকার : ভারতে তখন মোরারজী দেশাই ক্ষমতায়। বাংলাদেশের বিষয়ে মোরারজী সরকার উদাসীন। ইন্দিরা গান্ধির কংগ্রেস নানা সংকটে নিমজ্জিত। এমনতর সময়ে ইন্দিরা গান্ধি একদিন একরাত জেলে থাকার পরদিন তার সাথে সাক্ষাৎ করি আমি। তাকে বাংলাদেশের সকল বিষয় অবগত করি নয় মিনিটের আলোচনায়। ইন্দিরা গান্ধি বললেন, “You see Congress people are abusing me & my son. Even CPI also opposing me. In such a situation what can I do for Bangladesh. Bangabandhu & Bangladesh we have special relation even in blood bondage. Though Bhutto did not behave well with us, but the way army heckling him and trying to hang, we can not tolerate this. She told, `Present govt. even don’t deliver my letters. Whatever you sent to me sent by messanger’. I told, ‘Sheik Rehana has come from London, she wanted to meet you along with me but she is a bit sick’. Indiragee said, Rehana did not have to take any appoinment, told her to see the paper whether I am Delhi, she can come any time.” 

সৈয়দ জাহিদ হাসান : আপনারা যারা বিভিন্ন দেশে নির্বাসিত ছিলেন তাদের মধ্যে কখনো কোনো দ্বন্দ্ব হয়নি?

মোনায়েম সরকার : হ্যাঁ, হয়েছে। কলকাতার মতো ইংল্যান্ডেও চরম তিক্ততা তৈরি হয় আওয়ামীপন্থিদের মধ্যে রাজনৈতিক কর্মসূচি নিয়ে। একদিকে আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী অন্যদিকে এম আর আখতার মুকুল। পরম ধৈর্যের সাথে এই দুপক্ষকে এক করার চেষ্টা করি আমি ভারতে বসে। এমন সময়ে রাজনৈতিক বিভ্রান্তিতে যাতে কেউ না পড়ে তাঁর জন্যে নিয়মিত এরোগ্রাম পোস্ট করি- ড. কামাল হোসেন, প্রফেসর মোশাররফ হোসেন, প্রফেসর রেহমান সোবহান এবং প্রফেসর নুরুল ইসলাম প্রমুখদের কাছে। তাঁরা তখন ইংল্যান্ডের অক্সফোর্ডে ছিলেন। 

সৈয়দ জাহিদ হাসান : ১৯৭৮ সালে বাংলাদেশে কি এমন কোনো পরিবর্তন ঘটেছিল যার ফলে ১৯৭৯ সালে আপনি স্বেচ্ছা-নির্বাসন থেকে দেশে ফিরে আসতে প্রেরণা পান?

মোনায়েম সরকার : ধীরে ধীরে ভারতবর্ষসহ পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে জিয়া সরকারের প্রলোভনে বা অনিশ্চিত জীবনের অবসান ঘটানোর লক্ষ্যে অথবা সামরিক সরকারের সঙ্গে সমঝোতার ভিত্তিতে বাংলাদেশের মাটিতে পা রাখেন বিভিন্ন স্তরের, বিভিন্ন দলের তথাকথিত নেতাকর্মীবৃন্দ। ব্যতিক্রম আমি। আমার তখনো ইচ্ছা ঘরে-বাইরে প্রতিরোধ গড়ে তোলবার। আমার তখনো বিশ্বাস ছিল পরিবর্তন আসবেই।

সৈয়দ জাহিদ হাসান : আপনি তো ন্যাপ নেতা ছিলেন, আওয়ামী লীগে যোগ দিলেন কেন? স্বেচ্ছা-নির্বাসন জীবনেই কি আওয়ামী লীগে যোগদানের কথা ভেবেছিলেন?

মোনায়েম সরকার : বাংলাদেশে তখন নির্বাচন আসন্ন। এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জানুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহে ন্যাপের উদ্যোগে ভারত থেকে বাংলাদেশে আমার প্রত্যাগমন। ন্যাপ নেতা মোজাফফরের সাথে জেনারেল  জিয়ার ঐকমত্য তৈরি হয়। জিয়ার ১৯ দফায় ন্যাপের অকুণ্ঠ সমর্থন এবং নির্বাচনে ন্যাপের অংশগ্রহণ। মোজাফফর আহমদ, মোহাম্মদ তোয়াহা, রাশেদ খান মেনন, শাহজাহান সিরাজ সামরিক কূটচালনিয়ন্ত্রিত প্রত্যেক পার্টি থেকে একজন করে নির্বাচনে এমপি হিসেবে নির্বাচিত। কিছুদিনের মধ্যে ন্যাপে ভাঙ্গনের শব্দ শোনা যায়। আমি জিয়ার সাথে এই ঐকমত্যের বিরুদ্ধে দাঁড়াই। গণতান্ত্রিক ও মুক্তিযুদ্ধের ধারা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আমার ইচ্ছা ন্যাপ আওয়ামী লীগের সাথে মিশে যাক। কিন্তু সেখানেও কিছু স্বার্থান্বেষী কর্তৃক বাধা পাই। ফলে দল থেকে বেরিয়ে হারুন-মতিয়া গ্রুপে আমি যোগদান করি, সম্পাদকম-লীর সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হই। পরবর্তীতে হারুন-মতিয়া গ্রুপেও ভাঙ্গন। এমনতর অবস্থায় ১৯৭৯ সালের ১০ ডিসেম্বর আওয়ামী লীগে যোগদান করি আমি, মতিয়া চৌধুরী, স্থপতি মাজহারুল ইসলাম, স্থপতি আলমগীর কবীর, স্থপতি ইয়াফেস ওসমান, সরদার দবীরউদ্দিন, ফখরুদ্দিন আহমদসহ ১৭ জন কেন্দ্রীয় নেতা।

সৈয়দ জাহিদ হাসান : ‘বঙ্গবন্ধু পরিষদ’ গঠন করলেন কিভাবে?

মোনায়েম সরকার : ১০১ জন বুদ্ধিজীবীর সমন্বয়ে বঙ্গবন্ধু পরিষদ গঠন করি। আহ্বায়ক হন বোস প্রফেসর অধ্যাপক আবদুল মতিন চৌধুরী। এই পরিষদ গড়ে তোলার নেপথ্যে ছিলাম আমি, নূরুর রহমান, স্থপতি মাজহারুল ইসলাম, শওকত আনোয়ার, আশফাক-উল-আলমসহ বেশ কয়েকজন।

সৈয়দ জাহিদ হাসান : আজকাল খুব ঘটা করে ১৫ আগস্ট উদযাপন করা হয়। আগেও কি তাই হতো?

মোনায়েম সরকার : ’৭৫-পরবর্তী ১৯৭৯ সালে ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুবার্ষিকী পালন করা ছিল একটি দুঃসাহসিক ভাবনা। অধ্যাপক আবদুল মতিন চৌধুরীর নেতৃত্বে ‘বঙ্গবন্ধু পরিষদ’ থেকে আমরা এই দিনটি পালন করার উদ্যোগ গ্রহণ করি। প্রবল উৎকণ্ঠা এবং দীর্ঘ প্রতিবন্ধকতা পাড়ি দিয়ে এই সংগঠনের পক্ষ থেকে প্রথম প্রকাশ্যে শোকসভা হয় টিএসসি-তে। জনমত সৃষ্টিতে এই জনসমাবেশ ছিল আওয়ামী রাজনীতির অবরুদ্ধ অবস্থার প্রাথমিক প্রকাশ্য উত্তরণ। খোন্দকার মোহাম্মদ ইলিয়াসের সম্পাদনায় বঙ্গবন্ধুর বিভিন্ন ভাষণ সংবলিত ‘বাংলাদেশের সমাজ বিপ্ল¬বে বঙ্গবন্ধুর দর্শন’ শীর্ষক বইটি নিউজপ্রিন্ট কাগজে, ২৫.০০ টাকা মূল্যে  ‘বঙ্গবন্ধু পরিষদ’ থেকে প্রকাশিত হয় এই দিন। তখনও বঙ্গবন্ধুর নাম লেখা বা উচ্চারণ ছিল নিষিদ্ধ। তাই আমরা নামকরণ করি ‘বঙ্গবন্ধু পরিষদ’।

সৈয়দ জাহিদ হাসান : ন্যাপ থেকে আওয়ামী লীগে যোগদান করে কি পেলেন?

মোনায়েম সরকার :  কোনোদিন কিছু পাওয়ার জন্য রাজনীতি করিনি। আমি বুঝেছিলাম ন্যাপ দিয়ে বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক-অবস্থা বদলানো যাবে না। বাংলাদেশকে মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার ধারায় ফেরাতে হলে গণতান্ত্রিক ধারাতেই বদলাতে হবে। তাছাড়া ন্যাপের রাজনীতিতে ভুলও ছিল। ভুল রাজনীতি নিয়ে কখনো এগোনো যায় না। তাই আমি আওয়ামী লীগের সঙ্গে যোগ দেই এবং আমার কাছের মানুষ যারা ছিলেন, তাদেরকেও যোগ দেওয়াতে চেষ্টা চালাই।

সৈয়দ জাহিদ হাসান : বাংলাদেশের বর্তমান রাজনীতিতে কোনো সংকট দেখেন কি-না?

মোনায়েম সরকার :  হ্যাঁ, সংকট আছে। বাংলাদেশের রাজনীতিতে এখন আমার মতে দুটো সমস্যা সংকট সৃষ্টি করছে- এক. রাজনীতি ব্যবসায়ীদের হাতে চলে গেছে। দুই. দুর্নীতি রাজনীতিকদের পুরোপুরি গ্রাস করেছে। মানুষ এখন রাজনীতিবিদ নাম শুনলেই নাক সিটকায়। এটা খুবই খারাপ লক্ষণ। আমাদের সময় এমনটা ছিল না। এই সংকট থেকে মুক্তি পেতে হলে ভালো মানুষদের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত করতে হবে। মেধাবীদের অগ্রাধিকার দিতে হবে।

সৈয়দ জাহিদ হাসান : আপনি তো বঙ্গবন্ধুকে কাছ থেকে দেখেছেন, আবার শেখ হাসিনার সাথেও দীর্ঘদিন রাজনীতি করেছেন। বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে শেখ হাসিনার রাজনীতি কিভাবে তুলনা করবেন?

মোনায়েম সরকার :  বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে শেখ হাসিনার তুলনা করাকে আমি স্পর্ধার বিষয় বলেই মনে করি। বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে কাউকেই তুলনা করার পক্ষপাতী নই। তবু বলবো- নিজের যোগ্যতায় শেখ হাসিনা আজ বিশ্বনেত্রী হয়েছে। তলাবিহীন ঝুড়ি থেকে বাংলাদেশকে একক নেতৃত্বে নিয়ে গেছেন মধ্যম আয়ের দেশে। ডিজিটাল বাংলাদেশ এখন আর গালভরা স্লোগান নয়, বাস্তব সত্য। বাংলাদেশ এখন উন্নয়নের মহাসড়ক অতিক্রম করছে। এমন মুহূর্তে ১০ লক্ষ রোহিঙ্গা শরণার্থীকে আশ্রয় দিয়ে ‘মাদার অব হিউম্যানিটি’ খেতাব অর্জন করেছেন। ১৯৭১ সালে প্রায় ১ কোটি বাঙালি শরণার্থীকে আশ্রয় দিয়ে ইন্দিরা গান্ধি যেমন বিশ্বনেত্রী হয়েছিলেন, রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে শেখ হাসিনাও বিশ্বে প্রশংসিত হয়েছেন। বঙ্গবন্ধুর অপূর্ণ স্বপ্নকে শেখ হাসিনা যেভাবে পূর্ণ করে চলেছেন তাতে মনে হচ্ছে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা শেখ হাসিনাই গড়ে তুলবেন, তার প্রতি বাংলার মানুষের আস্থা থাকা উচিত। শেখ মুজিব যেমন বাঙালিকে ভালোবাসতেন, শেখ হাসিনাও বাঙালিকে প্রাণের চেয়ে বেশি ভালোবাসেন।

সৈয়দ জাহিদ হাসান : ভবিষ্যতে কেমন বাংলাদেশ দেখতে চান?

মোনায়েম সরকার :  ভবিষ্যতে সমৃদ্ধিশালী বাংলাদেশ দেখতে চাই। যেই বাংলাদেশে ক্ষুধা, দারিদ্র থাকবে না, যেই বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে। ভবিষ্যতে স্বাধীনতা বিরোধীদের রাজনীতিতে দেখতে চাই না। একটি অসাম্প্রদায়িক, ধর্মনিরপেক্ষ, শান্তিপ্রিয় বাংলাদেশ দেখতে চাই।

সৈয়দ জাহিদ হাসান : একজন প্রবীণ রাজনৈতিক নেতা হিসেবে এ সময়ের নবীন রাজনীতিকদের প্রতি আপনার বক্তব্য কি?

মোনায়েম সরকার : অনেকেই খুব ভালো করছে। অনেকেই সীমাহীন দুর্নীতির দায়ে দোষী। এদের উদ্দেশে শুধু এটুকুই বলবো- দেশপ্রেমিক হন, আদর্শবান হন। নীতির সঙ্গে, সততার সঙ্গে কখনোই আপস করবেন না। রাজনীতিতে অবশেষে নীতিবানেরাই জয়ী হন। আমার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক জীবনে এটাই আমার অভিজ্ঞতা।

সৈয়দ জাহিদ হাসান : এতক্ষণ আমাকে সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

মোনায়েম সরকার :  ধৈর্য ধরে আমার নির্বাসিত জীবনের কথা শোনার জন্য তোমাকেও ধন্যবাদ। জয় বাংলা। জয় বঙ্গবন্ধু।

সময়ের কথায় প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

মন্তব্য করুন





টুইটারে আমরা

পূর্বের সংখ্যা